২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ০৮:৪২ পিএম

বইমেলায় ডা. আকনের নবম কবিতার বই ‘নীলাঞ্জনা ও একটি জোনাকি রাত’

বইমেলায় ডা. আকনের নবম কবিতার বই ‘নীলাঞ্জনা ও একটি জোনাকি রাত’
ডা. আকন বলেন, অন্তর থেকে যেসব অভিব্যক্তি অনূভুত হয়, এটি কলমের সাহায্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বই আকারে প্রকাশ পায়। ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবু বকর আকনের নবম কবিতার বই ‘নীলাঞ্জনা ও একটি জোনাকি রাত’। বাঙালি প্রকাশন থেকে প্রকাশিত বইটিতে স্থান পেয়েছে ৩৯টি কবিতা। কবিতাগুলোতে প্রেম, বিচ্ছেদ, বেদনা ও বিদায় ইত্যাদি পাঠকদের জন্য নানা বার্তা দেওয়া হয়েছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আসাদুল ইসলাম দুলাল।

বইটির বিভিন্ন দিক বর্ণনা দিতে গিয়ে ডা. আকন মেডিভয়েসকে বলেন, বই লেখা হয় মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য। অন্তর থেকে যেসব অভিব্যক্তি অনূভুত হয়, এটি কলমের সাহায্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বই আকারে প্রকাশ পায়। ‘নীলাঞ্জনা ও একটি জোনাকি রাত’ বইটিতে স্থান পেয়েছে জীবনমুখী কিছু প্রেমের অংশ। বইটি শুধু একজন নারীকে কল্পনায় এনে লেখা হয়েছে। যার সাথে প্রেম, বিচ্ছেদ, বেদনা ও বিদায় ইত্যাদি রয়েছে। কাল্পনিক চরিত্র নীলঞ্জনাকে এই বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

প্রেম কেন বিচ্ছেদ হয়

ডা. আকন বলেন, অধিকাংশ ছেলেদের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হতে অনেক সময় লেগে যায়। আর এদিকে মেয়েদের বয়সের কারণে বাবা-মা অন্য পাত্রস্থ করতে বাধ্য হয়। এটির কারণে প্রেম বিচ্ছেদে পরিণত হয়। এখন তো সেকালের প্রেম নেই। মূলত বিষয়টা ক্যালকুলেট প্রেম। এখন ক্যালকুলেশন হয়, এই পরিবারের সাথে অন্য পরিবারের মিলবে কিনা। এর ফলে জোড় করে বিচ্ছেদ হয়।

বইয়ের উপজীব্য

এ বিষয়ে ডা. আবু বকর আকন বলেন, প্রতিটি মানুষের ভিতরে কিছু অনুভূতি কাজ করে। সেই অনুভূতির বহিঃপ্রকাশটা হলো একজনকে ভালো লাগতে পারা। যার সাথে প্রেম, কখনও বিরহ, বিরহ থেকে বিচ্ছেদ ইত্যাদি তৈরি হয়। এটা কেন হয়, কিভাবে হয়, কোন কারণে হয়, এটাকে কিভাবে উপস্থাপন করা যায় এবং নিজেকে অন্যের নিকটে তুলে ধরা যায়। এ বিষয়গুলোই তুলে ধরা হয়েছে। যদি কারও মনে এই অনুভূতি কাজ করে তাহলে এই বইটি পড়বে। কিশোরীদের প্রেমে ৯৯ ভাগই বিচ্ছেদ থাকে। এ সকল বিষয় নিয়ে কবিতাগুলো লেখা। বইটি মূলত প্রেম সংক্রান্ত।

লেখালেখির হাতেখড়ি

ছোটবেলা থেকে লেখালেখির আগ্রহের কথা জানিয়ে ডা. আকন বলেন, লেখার জগতে কেন আসছি, এটা আমি নিজেই জানি না। তবে লেখালেখির শুরু হয়েছিল এসএসসি পরীক্ষা শেষে এবং তখন থেকে বই লেখার চেষ্টা করেছি। তখন গ্রামের মানুষের জন্য নাটক লেখা হতো। ওই সময় আমার দুটি নাটক গ্রামে মঞ্চস্থ হয়েছে। এরপর এইচএসসি পরীক্ষার পরেও লেখালেখির মধ্যে ছিলাম। তখন হাত একেবারে কাচা ছিল। যেখানে কোনো ব্যাকরণ ও বিষয়বস্তু ছিল না, যা মানুষের সামনে তুলে ধরা যায়। মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর আর লেখালেখি সম্ভব হয়নি। ওই সময়টা কঠিন মনে হতো অর্থাৎ নতুন কিছু নিয়ে ভাবার সময় ছিল না। পরে চিকিৎসক হওয়ার সুবাধে উপজেলা পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে অবসর সময়ে কিছু করা সম্ভব। ১৯৯৫ সালে প্রথম কবিতা ‘স্বাধীনতা’ নামে জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে কয়েকটি বই লেখার মাধ্যমে এই পর্যায়ে আসছি।

এ ছাড়া মেডিকেল সাইন্সের উপর ‘শিশুদের চিকিৎসায় সার্জারি’ নামে একটি বই রয়েছে। বইটি সম্পর্কে ডা. আকন বলেন, ‘আমি একজন শিশু বিশেষজ্ঞ সার্জন। তাই বিভাগ থেকে অনেকের দাবির প্রেক্ষিতে বইটি লেখা হয়েছে। শিশুদের চিকিৎসায় কখন সার্জারির প্রয়োজন হবে, মূলত এ বিষয়ের উপর বইটি লেখা হয়েছে।’ 

প্রথম বই

ডা. আবু বকর আকনের ২০১৪ সালে ‘প্রতীক্ষার প্রহর’ নামে প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছে। বইটি ছিল কাব্যগ্রন্থ। বইটি বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম মেনে লেখা হয়নি। বইটা প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর শুভাকাঙ্খিরা বলেছিল, কবিতা লিখতে হলে ব্যাকরণের নিয়ম বা অনুশাসন মেনে চলতে হবে। ইংরেজি ও বাংলা শেখার যেমন ব্যাকরণ রয়েছে, তেমনি কবিতারও ব্যাকরণ রয়েছে। তাই তাকে ব্যাকরণ শিখতে বলা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় তাঁর শুভাকাঙ্খিরা প্রায় ১১টি বইয়ের তালিকা দিয়েছিল। কিছু বই সংগ্রহও করেছেন তিনি। এরপর সেখান থেকে শেখার চেষ্টা করছেন তিনি।

বেড়ে ওঠা

ডা. আবু বকর আকন বরিশাল জেলার উজিরপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে এসএসসি এবং ১৯৮১ এইচএসসি সালে পাস করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (১৯৮২-৮৮) থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরে ২০১১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে মাস্টার্স অব সার্জারি ইন পেডিয়াট্রিক্স (এমএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিজের জন্মস্থান সম্পর্কে ডা. আবু বকর বলেন, ‘এই মাটিতে জন্ম জীবনানন্দ দাশের। আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের যারা কবিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাদের লেখায় জীবনানন্দ দাশের ভাবধারা ফুটে ওঠে। এই মাটিতে জন্মগ্রহণ করে যে সকল লেখকরা কবিতা প্রকাশ করে, এটি দেখলে বুঝা যায় তার কবিতার মধ্যে জীবনানন্দ দাশের অক্ষর বৃত্তের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে আমার কবিতার অধিকাংশ বইয়ে ওই অক্ষর বৃত্তের চিহ্ন রয়েছে। অনেক পাঠক আমাকে ‘ছায়া জীবনানন্দ’ বলে আখ্যায়িত করেন।’ 

এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : অমর একুশে বইমেলা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত