ডা. মোঃ মাকসুদ উল্যাহ্‌

ডা. মোঃ মাকসুদ উল্যাহ্‌

চিকিৎসক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল


৩০ নভেম্বর, ২০১৬ ০৯:৫৪ পিএম

লুকায়িত হুংকারের সুরে কথা বলা

লুকায়িত হুংকারের সুরে কথা বলা

একদিন রাতের বেলা ঢাকা মেডিক্যালে ডিউটিতে ছিলাম।

মেডিসিন বিভাগ থেকে একটি রেফারেল সহ ৪ জন লোক এসে ডিউটি ডাক্তারের কক্ষে উপস্থিত হলেন।

এর মধ্যে একজন সহসাই দেরি না করে পায়ের উপর পা দিয়ে একটি চেয়ারে বসলেন।

আমি ডিউটি ডাক্তারের চেয়ারে বসা অবস্থায় ছিলাম।

অনেকটা লুকায়িত হুংকারের সুরে তিনি বললেন, "আমরা অমুক বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের পাশের বাড়ির লোক "।

লোকটার সার্বিক আচরনে মর্মাহত না হয়ে উপায় ছিল না! আমি শুধু শুনতে থাকলাম।

রেফারেল দেখলাম। ব্যবস্থা দিলাম।

 

ঠিক তার কিছুক্ষণ পরেই অন্য একজন ভর্তি রোগীকে দেখতে আসলেন একজন সচিব।

তার সাথে উপস্থিত কয়েকজন লোক সাধারন সুরে তার ব্যাপারে আমাকে শুরুতে জানালেন।

দেখলাম, তিনি অতি সাধারন চলাফেরা করলেন। সাধারন তার ভাষা।

কোন হুমকি হুংকারের লেশমাত্র নেই তার কথায়।

নিজের রোগীর খোজ খবর নিয়ে তিনি অচিরেই প্রস্থান করলেন।

আমিও তাকে তার রোগী সমপর্কে যথাযথ তথ্য দিলাম।

 

প্রায় আড়াই মাস আগে আমার কয়েকজন প্রতিবেশী কয়েক দিনের ব্যবধানে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

তারা আমাকে এ ব্যাপারে জানালে আমি কিছুটা সময় বের করে প্রতিবেশীকে দেখার জন্য অন্য ওয়ার্ডে গেলাম।

রোগীর ছেলে আমার সাথে সাথে যাচ্ছিল। এক সময় সেই ওয়ার্ডে উপস্থিত হলাম।

সেখানকার উপস্থিত ডাক্তারদের সাথে আমি আমার প্রতিবেশীর ব্যাপারে সংক্ষেপে আলোচনা করতেছিলাম।

এমন সময় ছেলেটি হঠাত সেখানে বসা একজন ডাক্তারের হাত আর মাথার মাঝামাঝি জায়গা দিয়ে রোগীর ফাইল টানতে শুরু করলো !

এতে করে তিনি স্বভাবতই বিরক্ত হলেন। ছেলেটির আচরনে আমি লজ্জা পেলাম, নিজের সহকর্মীর কাছে লজ্জিত হলাম।

 

সংশ্লিষ্ট সবাইকে একথা বুঝতে হবে যে, কোন একটি হাসপাতালে আপনার একজন প্রতিবেশী ডাক্তার আছেন, এর অর্থ এই নয় যে সেখানকার বাকি সব ডাক্তার আপনার চাকর বা অধীনস্থ হয়ে গেল!

দুনিয়ার সব জায়গাতেই আদব কায়দা বজায় রাখার কথা মনে রাখতে হবে।

হাসপাতালের একটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আপনার প্রতিবেশী বলে আপনি ডিউটি ডাক্তারের কক্ষে ঢুকে কিছু বুঝে উঠার আগেই চেয়ার দখল করে পায়ের উপর পা দিয়ে বসে লুকায়িত হুংকারের সুরে ডাক্তারের সাথে কথা বলবেন, এটা আপনার অসভ্যতাই প্রমান করে।

আপনাকে একথা জানতে হবে যে, আলোচিত বিভাগীয় প্রধান আপনার এই ধরনের আচরনের কথা শুনলে আপনাকে আর পরিচয়ই দিবে না।

 

মনে রাখবেন, ডাক্তারের সামনে কখনোই নিজের উচ্চ ক্ষমতার প্রমান দেয়ার চেষ্টা করবেন না।

কোন ধরনের লুকায়িত হুংকারের সুরে কথা বলবেন না।

কেউ যদি মনে করেন নিজের উচ্চ ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে ডিউটি ডাক্তারের থেকে উপযুক্ত চিকিৎসা আদায় করে নিবেন, তাহলে সেটা হবে মারাত্মক ভুল।

এতে করে বরং আরো খারাপ ফলাফলের সম্ভাবনা থাকে।

এ ধরনের আচরনের কারনে আপনার রোগীর প্রতি সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের আন্তরিকতা ধ্বংস হবে।

এ ধরনের আচরন ডাক্তারকে অপমান করার সমান।

 

মনে রাখবেন, এমবিবিএস / বিডিএস ডাক্তারেরা একটি দেশের সরবোচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যকার একজন।

একজন ডাক্তারকে আপনি যদি কখনো সম্মান করতে না জানেন বা না পারেন , তবে চুপ থাকুন।

তবু অসম্মান করবেন না। ডাক্তার কখনো ইচ্ছা করে রোগীকে ভুল চিকিৎসা দেন না।

একজন ডাক্তার সদাই তার জ্ঞানের পরিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী রোগীর সরবোচ্চ কল্যাণকর চিকিৎসা দিতে সচেষ্ট থাকেন।

ব্যতিক্রম কখনোই উদাহরন নয়

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত