২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ০২:১১ পিএম

বইমেলায় ডা. কাজী মুশতাকের চিকিৎসা বিষয়সহ চার বই 

বইমেলায় ডা. কাজী মুশতাকের চিকিৎসা বিষয়সহ চার বই 
অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন বলেন, বইগুলোর মধ্যে চিকিৎসা সেবার জন্য ‘ক্যান্সার সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান’ নামে প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছে। ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এসেছে অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেনের চারটি বই। নন্দিতা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত বইগুলো হচ্ছে সৌমিক ও ঋতির জন্য ছড়া, ছোটদের আপেক্ষিক তত্ত্ব, পথে প্রান্তরে ও ক্যান্সার সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান। এসব বইয়ে ছোটদের জন্য ছড়া, বিজ্ঞানের বিষয়বস্তুকে সহজ ভাষায় উপস্থাপন, বিভিন্ন দেশের আচার-আচরণ, খাবার, সংস্কৃতি ও ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রাথমিক চিকিৎসা-প্রতিকার সম্পর্কে সহজ ভাষায় বিভিন্ন বার্তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হয়েছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আসাদুল ইসলাম দুলাল।

প্রকাশিত বইগুলো নিয়ে অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, এবারের বইমেলায় আমার ছয়টি বইয়ের মধ্যে চারটি বই রয়েছে। আর দুটি পর্যাপ্ত নেই। বইগুলোর মধ্যে চিকিৎসা সেবার জন্য ‘ক্যান্সার সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান’ নামে প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছে। দেশের সাধারণ ক্যানসারগুলো নিয়ে বইটিতে আলোচনা রয়েছে। তার মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার, গলার ক্যান্সার, মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার ও জরায়ু ক্যান্সার ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই বইটি পড়লে পাঠক যেন সহজভাবে ক্যান্সারের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারেন, সেসব বিষয় সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে এই রোগের ভয়াবহতা, এর কারণ ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। একজন ক্যান্সার রোগী সাধারণভাবে জীবনযাপন করতে পারেন কিনা। রোগীকে কিভাবে যত্ন নিতে হবে এবং তার খাদ্য তালিকায় কি পরিমাণ পুষ্টি থাকবে। এই বিষয়গুলো বইটি সাধারণ মানুষের জন্য সহজভাবে লেখা হয়েছে। যেন বইটি পড়ে সহজেই বিষয়গুলা বুঝতে পারেন। যারা বইটি পড়বে তারা সহজেই ক্যান্সার বিষয়ে আত্মীয়-স্বজনকে সতর্ক করতে পারবেন। 

ক্যান্সারের কারণ

অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন বলেন, ক্যান্সারের কারণ সম্পর্কে অনেকে জানেন। ক্যান্সারের প্রধান কারণ হচ্ছে ধূমপান। ধূমপান করলে শুধু ফুসফুসের ক্যান্সার হয় না। মুখ, গহ্বর, গলা, শ্বাসনালী, খাদ্যস্থলী, পাকস্থলি ও মূত্রথলীর সঙ্গেও এই ধূমপানের সম্পর্ক রয়েছে। অনেকে ফ্যাশন, স্মার্টনেস প্রকাশের উদ্দেশ্যে ধূমপান করে থাকেন। এতে যিনি ধূমপান করছেন, তার তো ক্ষতি হচ্ছেই। ধূমপায়ীর পাশের ব্যক্তিরও সমান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এটিকে পরোক্ষ ধূমপান বলে। এই নিকোটিন বাতাসের মাধ্যমে অন্যের দেহে প্রবেশ করছে। ফলে দুজনই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তাই বইটি পড়লে নিজেকে সুরক্ষা দিতে পারবেন।

ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন বলেন, ক্যান্সার নিয়ে দেশে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে বলে দেশে চিকিৎসা হয় না। প্রকৃতপক্ষে ক্যান্সারের চিকিৎসা কিছুটা অপ্রতুল। যে পরিমাণ ক্যান্সার চিকিৎসার কেন্দ্র দরকার। সেই পরিমাণ কেন্দ্র নেই। এ ছাড়া এই রোগের চিকিৎসা নেই কিংবা চিকিৎসক নেই, এটা সঠিক না। অনেকে এই রোগের চিকিৎসার জন্য অন্য দেশে যান। কিন্তু দেশে ক্যান্সারের সকল ধরনের চিকিৎসা রয়েছে। এর মধ্যে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, সার্জারি ও হরমোন থেরাপিসহ প্রায় সব ধরনের চিকিৎসা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে এটি বিদ্যমান রয়েছে। অনেকে অপপ্রচারে প্রলুব্ধ হয়ে কবিরাজি ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে ক্যান্সারের ভয়াবহতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে অনেকে চিকিৎসার আওতার বাইরে থাকছেন। এটি দেশের জন্য বড় ধরনের সমস্যা। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়া গেলে ক্যান্সার নিরাময় করা সম্ভব।

ক্যান্সারের ধাপ  

অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন বলেন, ক্যান্সারের কয়েকটি পর্যায় রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের চিকিৎসা করা গেলে একজন ক্যান্সার রোগী নিরাময় লাভ করতে পারবেন এবং দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। এটি পরীক্ষিত ও প্রমাণিত। কিন্তু সচেতনতার অভাবে দেশে রোগ নির্ণত হয় অনেক দেরিতে। ফলে অনেকে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। দেশে এবং বিদেশে চিকিৎসার খুব একটা পার্থক্য নেই। বিষয়ক পার্থক্য হচ্ছে কোন পর্যায়ে এই রোগের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। বিদেশে শুরুতেই ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য সব বয়সের মানুষের জন্য কয়েকটি টেস্ট, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করতে হয়, যা দেশে এই বিষয়গুলো প্রচলিত নয়। ইউরোপ ও আমেরিকাতে এটি প্রচলিত, যার কারণে ওই সকল দেশে শুরুতেই রোগ নির্ণিত হচ্ছে। এজন্য তারা সব ধরনের চিকিৎসা নিতে পারেন এবং ফলাফলটা ভাল হচ্ছে। দেশে এই ধরনের চিকিৎসা নেই বলে রোগ নির্ণয় হয় দেরিতে। এতে আর কিছু করার থাকে না। বিষয়টি নির্ভর করে চিকিৎসাটি কখন শুরু হয়েছে এবং রোগটি কখন নির্ণিত হয়েছে। এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা। এ বিষয়টি জানা থাকলে কেন ক্যান্সার হচ্ছে, সেগুলো থেকে দূরে থাকা যায়।

ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়:

প্রতিরোধে করণীয় তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন বলেন, ক্যান্সার প্রতিরোধে কোন ধরনের ভ্যাকসিন নিতে হবে বা নেওয়া উচিত। বিশেষ করে জরায়ু মুখের ক্যান্সার জন্য যে ভ্যাকসিন রয়েছে, সেটি যদি নেওয়া হলে, ক্যান্সার শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ইউরোপ ও আমেরিকায় সাধারণত জরায়ু ক্যান্সার হয় না। এটি বাংলাদেশে বেশি হচ্ছে, এজন্য ভাইরাস দায়ী। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ভ্যাকসিন নিতে হবে। তেমনি এ বিষয়ে সচেতন হলে স্ক্র্যানিং পদ্ধতি প্রয়োগ করলে দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হবে। এটির ফলে রোগ প্রতিরোধে সুচিকিৎসা বা পরিপূর্ণ চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। এটিই হচ্ছে উন্নত দেশ ও অনুন্নত দেশের মধ্যে পার্থক্য। 

আটটি বিভাগে আটটি হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অনেকটা ঢাকা কেন্দ্রিক। এর বাহিরে এখন যে সেন্টারগুলো রয়েছে, সেখানে সুযোগ-সুবিধা একেবারেই অপ্রতুল। আটটি বিভাগীয় শহরে সরকার আরও আটটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র তৈরি করতে চেষ্টা করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার উপরে চাপ কমবে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার লোকজন তার নিজ বিভাগে চিকিৎসা নিতে পারবেন এবং অপেক্ষমাণ চিকিৎসাটা কমে আসবে এবং সবাই এই রোগের চিকিৎসটা নিতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বেসরকারি হাসপাতাল ক্যান্সার সেন্টার তৈরি করছেন। এটি হয়ে গেলে ঢাকা কেন্দ্রিক চিকিৎসা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।

এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : অমর একুশে বইমেলা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স