০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ০৮:২৭ পিএম

গরিবের মেয়ে বলে সহপাঠীদের কেউ কেউ এড়িয়ে চলতো, কটু কথা শোনাতো: ডা. শিউলি

গরিবের মেয়ে বলে সহপাঠীদের কেউ কেউ এড়িয়ে চলতো, কটু কথা শোনাতো: ডা. শিউলি
ডা. শিউলি আক্তার।

শিউলি আক্তার। রাজশাহীর বেসরকারি বারিন্দ মেডিকেল কলেজ থেকে সদ্য পাস করা এমবিবিএস চিকিৎসক। ছোটবেলা ও শিক্ষাজীবন কেটেছে সীমাহীন অভাব-অনটনে। দৈন্যতার কারণে মাঝে মাঝে তিন বেলা খাবারও জুটেনি। অভাবের কারণে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনার সময় বিয়ে হয়ে যায় শিউলীর। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাকে সইতে হয় সহপাঠীদের অবজ্ঞা ও নানা কটু কথা। তারপরও দমে যাননি, পুরোদমে চালিয়েছেন পড়াশোনা। জীবন সংগ্রামে দুর্দমনীয় এ নারীর সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয় মেডিভয়েসের। একান্ত আলাপচারিতায় উঠে আসে তার দুঃসময়ের লোমহর্ষক বর্ণনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: সাখাওয়াত হোসাইন।

মেডিভয়েস: নবম শ্রেণিতে থাকতে আপনার বিয়ে হয়েছিল। এরপর এসএসসি ও এইচএসসি পর‌ীক্ষা কিভাবে দিলেন?

ডা. শিউলি আক্তার: অভাবের কারণে নবম শ্রেণির দ্বিতীয় সাময়িকের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার আগের রাতে হঠাৎ আমার বিয়ে হয়ে যায়। ওই দিন রাত ১১টার মধ্যে আমার বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরপর আমি অনেক কান্না-কাটি করেছি। আমার আগাগোড়া অভ্যাস ভোরে ঘুম থেকে উঠা। অবশ্য পরের দিনের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষাটা অনেক ভালো হয়েছে। বিয়ের পর আমার মা-বাবার পড়াশোনার খরচ চালানোর সামর্থ ছিল না। এদিকে স্বামীর প্রচণ্ড ইচ্ছা আমাকে পড়াশোনা করাবেন। এসএসসিতে আমি গোল্ডেন এ প্লাস পেলাম।

পরীক্ষার পরপর রেজাল্টের আগেই আমাকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পর শ্বশুর বাড়ি থেকে সিদ্ধান্ত হলো, আমাকে আর পড়াশোনা করতে দেওয়া হবে না। আমার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছিল, যেকোনোভাবেই হোক পড়াশোনা করবো, স্বামী আমার পক্ষে ছিলেন। শ্বশুর বাড়ি থেকে মানসিকভাবে আমাকে নির্যাতন করা হতো। শ্বাশুরি ও ননদ আমাকে মানসিকভাবে অনেক নির্যাতন করতো। তারা আমাকে দিয়ে সংসারের সকল কাজ করতে বাধ্য করতো। এর মধ্যেই আমি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছি। তারা দেখলো, কিছুতেই তো কাজ হচ্ছে না। এক পর্যায়ে, তারা তিন বেলা খাবার বন্ধ করে দিল। তাদের হুঁশিয়ারি ছিল, এটা আমার স্বামীকে জানানোও যাবে না। তিনি সকাল আটটায় রাজশাহীর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিএমডিএ) যেতেন, আসতেন রাত দশটায় দিকে। বিএমডিএতে আমার স্বামী মাসিক দেড় হাজার টাকা বেতন কাজ করতেন। একদিন স্বামী লক্ষ্য করলেন, না খেয়ে থাকায় আমার মুখ শুকনা। এরপর তিনি ঘটনাটি বুঝতে পারলেন এবং প্রতিবাদ করলেন। পরে আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

পরে আমরা শ্বশুর বাড়ির পাশে একটি ভাড়া বাসায় উঠি। এরই মধ্যে ইন্টারে ভর্তি সময় গেল। রাজশাহী কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পরও যাতায়াত খরচের টাকার কথা ভেবে সেখান ভর্তি হইনি। শ্বশুরবাড়ির কাছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজে ভর্তি হলাম। এইচএসসিতেও আমি ভালো ফলাফল করেছি।

মেডিভয়েস: বিয়ের সময় আপনার মানসিক অবস্থা জানতে চাই। 

ডা. শিউলি আক্তার: আসলে আমি এত অল্প বয়সে বিয়ে করতে চাইনি। আমি অনেক কান্না-কাটি করেছি। ধরতে গেলে আমার বিয়েটা ১৪ বছরের বাল্যবিবাহ। তখন আমার কাছে অবর্ণনীয় খারাপ লেগেছিল। কিন্তু পরে দেখলাম, স্বামী আমাকে প্রচুর সহযোগিতা করছেন। তখন ভাবলাম, আমার ভাগ্যটা হয়তো ভালো! আল্লাহ মনে হয়, ভালোর জন্য আমার বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন।

মেডিভয়েস: মেধাবী শিক্ষার্থী হওয়ায় পাবলিক, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোথাও পড়াশোনা করতে পারতেন। কিন্তু মেডিকেল বেছে নিলেন কেন?

ডা. শিউলি আক্তার: আমার ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা। বাবা-মার চোখের পানি। ছোটবেলা থেকেই কেন যেন ইচ্ছা কাজ করতো, সেবামূলক কোনো কাজের সাথে যুক্ত থাকবো। এক সময় মা কান্নাকাটি করতেন, সংসারে প্রচুর অভাব। ভেবে দেখেছি, মানুষের সেবাটা সবচেয়ে বড় সেবা, এখানে আমি অনেক ভালো করতে পারবো। আমি মেধাবী হলেও টাকার অনেক সমস্যা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আবেদন করার যে টাকা লাগে, এ টাকা কোথায় পাবো? 

মেডিভয়েস: সরকারিতে চেষ্টা করেছিলেন? চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা ব্যয়বহুল, প্রাইভেটের খরচ কিভাবে মিটালেন?

ডা. শিউলি আক্তার: আমি সরকারিতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু হয়নি। ভেবেছি, আমার মেডিকেলে পড়া আর হবে না। এরপর রাজশাহীর একটি পত্রিকায় আমাকে নিয়ে নিউজ হয়। প্রতিবেদনটি বারিন্দ মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাবা মো. শামসুদ্দিন স্যারের নজরে আসে। পরে খবর নেওয়ার জন্য স্যার আমার বাসায় গাড়ি পাঠালেন। সব শুনে তিনি বারিন্দ মেডিকেল কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করে দিলেন। প্রত্যেক প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে বিনা বেতন কোটায় পাঁচজনকে পড়ানো হয়। তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা-পয়সা নেওয়া হয় না। আর ফ্রি কোটায় পড়তে যে খরচ লাগে, আমার কাছ থেকে তাও নেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম স্যারের বাবা আমাকে বারিন্দ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন। তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করে আমি শেষ করতে পারবো না।

মেডিভয়েস: শ্বশুর বাড়ি লোকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পড়াশোনার কারণে আপনার খাবার বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবাদ করায় স্বামীসহ আপনাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়, কিভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করেছেন?

ডা. শিউলি আক্তার: ওই সময়টা ছিল আমার জন্য অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের। আমাদের এমনও দিন গেছে তিন বেলা না খেয়ে থাকতে হয়েছে। বাবার চায়ের দোকান ছিল, আমার কষ্ট দেখে তিনি চাউল-ডাউল পাঠাতেন। ওই জীবনটা কত যে, কষ্টের ছিল। তা বলে বোঝানো যাবে না।

মেডিভয়েস: ইন্টারে পড়ার সময় আপনার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তখন স্বামী রাশেদুর রহমানের চাকরির সামান্য টাকায় তার এবং আপনার পড়াশোনা কিভাবে সম্ভব হলো?

ডা. শিউলি আক্তার: দেড় হাজার টাকার মধ্যে ১২ শ’ টাকা বাসা ভাড়া দিতে হতো। আর তিনশ’ টাকা দিয়ে সারা মাস চলতে হতো। বাবা যতটুকু পারতেন, আমাদেরকে সহযোগিতা করতেন। আর কোনো সহযোগিতা লাগলে শাহরিয়ার স্যারের বাবা আমাদেরকে সহযোগিতা করতেন। অবশ্য সবসময় বলতে পারতাম না, অনেক সময় আমরা দুজনেই না খেয়েও থেকেছি।

আবার আমার কলেজের কথিত ধনীর সন্তানরা আমাকে অন্যরকমভাবে দেখতো। তারা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতো এবং কটু কথা বলতো। বিশেষ করে বারিন্দ মেডিকেলে এটা বেশি হয়েছে। ক্লাসমেটরা যখন জানতে পেরেছে, আমার স্বামী ছোট কর্মচারী, ফ্রি কোটায় পড়াশোনা করি। তখন আমার পাশে কোনো ক্লাসমেট বসতো না। তারা এমনভাবে নির্যাতন করেছেন, সামনে দিয়ে হেটে গেলে, পিছন দিয়ে লাথি মারতো বা খোঁচা দিতো। ক্যান্টিনে খেলে তারা মনে করতো, তাদের পাশে বসবো বা তাদের খাবার খেয়ে ফেলবো। তারা কোনো রেস্টুরেন্টে গেলে আমাকে কখনো আমন্ত্রণ জানাতো না। আর করার তো প্রশ্নই আসে না, কারণ আমি তাদেরকে সেখানে গিয়ে খাওয়াতে পারবো না।

মেডিভয়েস: এ ছাড়া জীবনে কী ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন এবং সবচেয়ে দুঃসময় মনে করেন কোন সময়টাকে? স্মৃতিচারণ করবেন?

ডা. শিউলি আক্তার: আমি ক্লাসে সবসময় নিয়মিত ছিলাম। এজন্য শিক্ষকরা আমাকে খুব ভালোবাসতেন। আমার দুঃসময় হলো, ২০১৯ সালের শেষের দিকে যখন সহপাঠীরা আমাকে গ্রুপ থেকে রিমুভ দিয়ে দিলো। আমি যাতে ক্লাসে উপস্থিত হতে না পারি। ওই মেসেঞ্জার গ্রুপে জানানো হতো, স্যার বা ম্যাম কখন ক্লাস নিবেন। আমার সাথে কেউ গ্রুপ স্টাডি করতে চাইতো না। আর আমাকে যাই বলা হোক না কেন আমি সহ্য করেছি। এরপর শেষের দিকে আমি আর স্বামী ক্যাম্পাসের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম, তখন তিনজন ক্লাসমেট আমার স্বামীকে বললো, তুই তো ওয়ার্ড বয়, ওয়ার্ড বয়-ই থাকবি। ওই দিনটা আমার কাছে সবচেয়ে দুর্বিষহ লেগেছে। তুই বলে সম্বোধন করায় একবার আত্মহত্যা করতেও গিয়েছিলাম। এ ঘটনায় আমি, স্বামী ও মা অনেক কেঁদেছি। 

ক্লাসমেটরা বলতো, আমরা টাকা দিয়ে পড়ি আর ওই মেয়ে (শিউলি) ফ্রি পড়ে। ও আমাদের চেয়ে ভালো করবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। এরপর শিক্ষকরা যখন পার্সেন্টিজ দেওয়ার দায়িত্ব দিত, প্রায় সময় আমাকে অনুপস্থিত দিয়ে দেখানো হতো । কিন্তু আমি জানতাম না। একবার ভাগ্যক্রমে এক শিক্ষক পার্সেন্টিজ দেখলো, কার কার পার্সেন্টিজ নেই। আর তিনি দেখলেন, ক্লাসের প্রথম ব্যাঞ্চে বসেও আমার পার্সেন্টিজ নেই। আর তিনজন ক্লাসে ছিল না, তাদের পার্সেন্টিজ আছে। তখন আমি স্যারকে বলার জন্য একটু দাঁড়িয়েছিলাম। পরে স্যার যাওয়ার পর আমার সাথে তারা মারমুখী আচরণ করেছিল। এরপর আমি চিকিৎসক হওয়ার আগেই আমার বাবা মারা যান। এ সময়টা আমার কাছে সবচেয়ে কষ্ট্রের মনে হয়।

মেডিভয়েস: অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে চিকিৎসক হওয়ার মর্যাদা অর্জন করেছেন, কোন অনুপ্রেরণায় এ পর্যন্ত আসা এবং বর্তমান অবস্থান কী স্বস্তিদায়ক মনে হয়? 

ডা. শিউলি আক্তার: বাবা-মার চোখের পানিটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। এর পরই আমার স্বামীর সহযোগিতা। তিনি (স্বামী) এত ছোট কর্ম করেও আমাকে পড়াশোনা করিয়েছেন, ঘর ছেড়েছেন আমার জন্য। আমার কাছে মনে হয়েছে তাকে একটা বাড়ি করে দেওয়া উচিত, তার কৃতজ্ঞতা শেষ করা যাবে না। বর্তমান পরিস্থিতি এখনও অতটা স্বস্থিদায়ক হয়নি, মাত্র এমবিবিএস পাস করলাম। আল্লাহ জানেন, ভবিষ্যতে হয়তোবা স্বস্তিদায়ক হবে।

মেডিভয়েস: ইন্টারশিপ শুরু করেছেন দুই দিন হলো, কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাই?

ডা. শিউলি আক্তার: কাজ করে খুব ভালো লাগছে, বিশেষ করে যখন ওয়ার্ডে যাই। অন্যান্য চিকিৎসকদের সাথে কেমন হয়, তা জানি না। আমি গেলে রোগীরা অনেক খুশি হন, আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। কলেজের বিখ্যাত ম্যাম ডা. শায়লা শারমিন শিল্পীর সঙ্গেও ওটি করেছি। ওইটাই ছিল প্রথম। ম্যাম তার অ্যাসিস্টেন্টের মতো করে যন্ত্রপাতিগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন। সে সময় অনেক আনন্দ লেগেছে। তখন হয়তো আমার স্বপ্নটা পূরণ হয়েছে, স্বপ্নের জায়গায় এসে পৌঁছেছি।  

মেডিভয়েস: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাই। 

ডা. শিউলি আক্তার: মাসে অন্তত একদিন আমার বাবার এলাকায় ফ্রি রোগী দেখবো। আমার মতো মেধাবী, দরিদ্র ছেলে-মেয়েরা যাতে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, তাদের পাশে দাঁড়াবো। আর আমার স্বামীকে একটা পর্যায়ে নিয়ে যাবো। কেউ যাতে ছোট কর্ম বলে এড়িয়ে না যায়, বা কটু কথা বলতে না পারে। আর স্বামীও কিছুদিন পর পড়াশোনা শেষ করবেন। আর যারা (শ্বশুর-শ্বাশুড়ি) আমাকে কষ্ট দিয়েছেন বা কটু কথা বলেছেন আমি তাদেরকে কখনও কষ্ট দিবো না, বা এড়িয়ে যাবো না। যতদূর পারি তাদেরকে সম্মান-শ্রদ্ধা, সেবা-যত্ন ও সহযোগিতা করবো। যারা আমাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের উপর আমার কোনো রাগ বা মান-অভিমান নেই। আমি মনে করি, তারা আমাকে কষ্ট দিয়েছেন বলে আমি এখানে আসতে পেরেছি।

মেডিভয়েস: প্রথম মাসের বেতন দিয়ে কি করবেন?

ডা. শিউলি আক্তার: মায়ের চোখের পানি সবচেয়ে কষ্টের মনে হয়েছে। মা ও স্বামীর কাছে দেবো। রোজগার শুরু হলে নিজের টাকায় তাদের খুশি করা ও ছয় বছর বয়সী স্কুল পড়ুয়া ছেলের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতে মনোযোগী হবো।   

মেডিভয়েস: আপনার শৈশব ও কৈশোর সম্পর্কে জানতে চাই?

ডা. শিউলি আক্তার: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মুক্তারপুর খলিফাপাড়া গ্রামে আমার জন্ম। তিন ভাইয়ের বিপরীতে আমি একমাত্র বোন। আমার বাবা একজন চায়ের দোকানদার ছিলেন। ওই গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পাস করেছি। বিদ্যালয়টির পাশেই সরদাহ সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়। আমার ইচ্ছা জাগতো সেখানে পড়বো। মাত্র দুই মাস হাতে সময় আছে, সেখানে এক কেরানির স্ত্রী প্রাইভেট পড়াতেন। তার কাছে যারা পড়তো, বেশির ভাগই চান্স পেত। আমার আম্মা উনার (কেরানির স্ত্রী) কাছে গেলেন। তার সঙ্গে আরও দুই অভিভাবক গিয়েছিলেন, তাদের ভেতরে নেওয়া হলেও মাকে বাইরে বসিয়ে রাখা হয়। তখন আমার মনে প্রশ্ন জাগলো, কেন দুইজনকে ভিতরে নেওয়া হলো আর আম্মাকে বাহিরে রাখা হলো? তখন আমি জানালা দিয়ে দেখলাম, তাদেরকে ভিতরে পায়েশ খেতে দেওয়া হয়েছে। তখন আমার পড়াশোনার ইচ্ছাটা আরও বেড়ে গেলো। দুই মাসের পড়াশোনাতেই ওই বিদ্যালয়ে চান্স পাই। তখন আমার নামটা ভালো স্টুডেন্ট হিসেবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 

আমাকে শিক্ষাজীবনের পুরো সময়জুড়ে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় পোশাক বা শখের জিনিস, তাও আমার ছিল না। বিশেষ করে ঈদের দিন খুব খারাপ লাগতো, চাঁদ রাতে অনেক কান্নাকাটি করতাম। সবাই নতুন জামা-কাপড় পড়ে, আমি তা পাইনি। ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পেয়েছি। বৃত্তির টাকায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এবং অষ্টমের বৃত্তির টাকায় এসএসসি পর্যন্ত পড়েছি।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বারিন্দ মেডিকেল
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি