‘করোনায় বিলম্ব সেবায় অসংক্রামক রোগে আক্রান্তদের মৃত্যু বেড়েছে’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনা রোগীদের চাপে যথাসময়ে স্বাস্থ্যসেবা দিতে না পারায় হাসপাতালে আসা অসংক্রামক রোগে (এনসিডি) আক্রান্তদের মৃত্যু হার বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
আজ বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ ফোরাম ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত প্রথম জাতীয় এনসিডি সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালগুলো কোভিড রোগী দিয়ে ভর্তি হওয়ায় এনসিডি রোগীরা সেবাবঞ্চিত হয়েছে। দেরিতে সেবা নেওয়ায় মৃত্যু বেড়েছে। এখন দেশে করোনার শনাক্তের ৩২%, দিনে ১৫ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সংক্রমণ রোধে সবাইকে মাস্ক পরতে, জনসমাগম এড়ানো ও ভ্যাকসিন নিতে হবে।
জাহিদ মালেক বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ বাংলাদেশের জন্য ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি ও উদ্বেগের কারণ। দেশের ৬৭ শতাংশ মৃত্যুর জন্য এটি দায়ী। প্রতি বছর দেশে ২০ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপ, ১০ শতাংশ ডায়বেটিস ও ২০ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। নতুন করে যোগ হয় আরও ৫০ হাজার রোগী। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, তামাকের ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ, অপর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম ও ওষুধের অপব্যবহারের কারণে এ রোগ বেড়েই চলেছে।’
অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকার খাতভিত্তিক প্রোগ্রাম নিয়েছে জানিয়ে জাহিদ মালেক আরও বলেন, ‘দেশের আট বিভাগে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের হাসপাতাল স্থাপন করা হচ্ছে। দেশের সব জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস ও আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে উপজেলাসহ দেশের সব হাসপাতালে এনসিডি কর্নার করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস বলেন, অসংক্রামক ব্যাধির কারণে বাংলাদেশসহ মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রাইমারি হেলথ কেয়ার পর্যায়ে এই রোগগুলোর চিকিৎসা নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. বর্ধন জং রানা।
-
১৬ জানুয়ারী, ২০২৩
-
২৬ জানুয়ারী, ২০২২
-
২৬ জানুয়ারী, ২০২২