২৬ জানুয়ারী, ২০২২ ০৭:২৮ পিএম

নিস্তেজ ডেঙ্গু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন রোগী নেই

নিস্তেজ ডেঙ্গু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন রোগী নেই
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ছয়জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। প্রতীকী ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গত বছর করোনাভাইরাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তাপ ছড়ানো মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে এসেছে। নতুন বছরে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তির খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

আজ বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সারাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ছয়জন চিকিৎসাধীন আছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য ইউনিটের (এমআইএস) ইনচার্জ ডা. মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, চিকিৎসাধীন ছয়জনের মধ্যে ঢাকায় ৪ জন ও ঢাকার বাইরে দুইজন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে গত ১-২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সর্বমোট ১২২ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১৬ জন।

আগামী মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে ঢামেক হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের ল্যাব ইনচার্জ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. নুসরাত সুলতানা লিমা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের দেশে সাধারণত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে এপ্রিল-মে মাস থেকে। কারণ এ সময় বর্ষাকাল শুরু হয় এবং বৃষ্টি থাকে। আর এটা এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলে। এই সময় মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা একটু কম। চার বছর ধরে ডেন থ্রি রি-ইমার্জ করছে। অর্থাৎ ডেনভি থ্রি সার্কুলেট করছিল ২০১৮ থেকে ২০২১ পর্যন্ত। যেহেতু ডেনভি থ্রি সার্কুলেট করছিল এবং অলরেডি ডেনভি ১, ডেনভি-২ সার্ককুলেটিং ভাইরাস। সেক্ষেত্রে এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ কম হতে পারে।’

২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু নিয়ে বছরভিত্তিক তথ্য রাখছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওই বছর ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিল ৯৩ জন। এর পরের দুই বছর যথাক্রমে ৪৪ ও ৫৮ জন মারা যায়। ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর ডেঙ্গুতে কেউ মারা যায়নি।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এর আগের সব বছরের রেকর্ড ছাড়ায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ডেঙ্গু জ্বরে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রায় ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আক্রান্ত হয়েছিল এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন। তবে সে বছর সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৭৯।

২০২০ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা কম ছিল। সে বছর ১ হাজার ৪০৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু সন্দেহে ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ডেঙ্গুর কারণে ৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আর গত বছর মশাবাহিত ভাইরাসজনিত এ রোগে প্রাণহানি ঘটেছে ১০৫ জনের এবং আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ডেঙ্গু
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত