১৮ জানুয়ারী, ২০২২ ০১:৪৪ পিএম

দেশে করোনায় ২০ ভাগই অমিক্রনে আক্রান্ত

দেশে করোনায় ২০ ভাগই অমিক্রনে আক্রান্ত
‘কোভিড-১৯-এর ৭৬৯টি  জেনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণার ফলাফল প্রকাশ’এর এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান যায়। ছবি: মেডিভয়েস

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে করোনাভাইরাসে যারা শনাক্ত হচ্ছে তাদের ২০ ভাগই অমিক্রনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ।

আজ মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) মিল্টন হলে ‘কোভিড-১৯-এর ৭৬৯টি জেনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণার ফলাফল প্রকাশ’এর সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘কোভিড-১৯ এর জেনোম  সিকোয়েন্সিং গবেষণার উদ্দেশ্য কোভিড-১৯ এর জেনোমের চরিত্র উম্মোচন, মিউটেশন এর ধরণ  এবং বৈশ্বিক কোভিড-১৯ ভাইরাসের জেনোমের সাথে এর আন্ত:সম্পর্ক বের করা এবং বাংলাদেশী কোভিড-১৯ জোনেম ডাটাবেজ তৈরি করা। এই রিপোর্টে  বিএসএমএমইউ-এর চলমান গবেষণার ৬ মাস ১৫ দিনের ফলাফল, আমরা আশা করি, পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে চলমান হালনাগাদকৃত ফলাফল জানতে পারবো।’

আরও বলা হয়েছে,‘২৯ জুন ২০২১ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২২ ইং পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত সারা দেশব্যাপি রোগীদের উপর এই গবেষণা পরিচালিত হয়। এই গবেষণার দেশের সকল বিভাগের রিপ্রেজেন্টেটিভ স্যাম্পলিং করা হয়। গবেষণায় মোট ৭৬৯ কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীর ন্যামোফ্যারিনজিয়াল সোয়াব স্যাম্পল থেকে নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিং এর মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের জেনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়।’

বিএসএমএমইউ-এর গবেষণায় ৯ মাস থেকে শুরু করে ৯০ বছরের বয়স পর্যন্ত রোগী অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২১ থেকে ৫৮ বছর বয়সের রোগীদের সংখ্যা বেশি। যেহেতু কোনো বয়সসীমাকেই কোভিড-১৯ এর ইমিউন করছে না, সে হিসেবে শিশুদের মধ্যেও কোভিড সংক্রমণ হয়েছে।

আরও পাওয়া গেছে যে, কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে যাদের কো-মরবিডিটি রয়েছে যেমন- ক্যানসার, শ্বাসতন্ত্রের রোগে, হৃদরোগে, ডায়াবেটিস তাদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি পেয়েছিলাম। পাশাপাশি ষাটোর্ধ্ব বয়সের রোগেদের দ্বিতীয়বার সংক্রমণ হলে সে ক্ষেত্রে মৃত্যু ঝুঁকি বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

কোভিড-১৯-এর জেনোম সিকোয়েন্সিং বিশ্লেষণ গবেষণায় জুলাই ২০২১ এ দেখা যায়, মোট সংক্রমণের প্রায় ৯৮ শতাংশ হচ্ছে ইন্ডিয়ান বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। এক শতাংশ হচ্ছে সাউথ আফ্রিকান বা বেটা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমণ,এক শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে আমরা পেয়েছি মরিসাস ভ্যারিয়েন্ট অথবা নাইজেরিয়ান ভ্যারিয়েন্ট। জুলাই ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২১-এর প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত জেনোম সিকোয়েন্স এ প্রাপ্ত ডাটা অনুযায়ী ৯৯.৩১ শতাংশ ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট, একটি করে ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন- আলফা বা ইউকে ভ্যারিয়েন্ট এবং বেটা বা সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট এবং অন্য একটি স্যাম্পল এ শনাক্ত হয় 20B ভ্যারিয়েন্ট, যা SARS-COV-2-এর একটি ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট। ৮ ডিসেম্বর ২০১১ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত সংগৃহীত স্যাম্পলের ২০ শতাংশই অমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট এবং ৮০ শতাংশ ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি