ঢাকা      মঙ্গলবার ১৬, জুলাই ২০১৯ - ১, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী

MRCP ডিগ্রী অর্জন করতে হলে

MRCP ইন্টার্নাল মেডিসিনের উপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ডিগ্রী। দিন দিন ডিগ্রীটির প্রতি চিকিৎসক সমাজের আগ্রহ বেড়েই চলেছে ।

কিছুটা ব্যয় বহুল হলেও দ্রুত প্রতিষ্ঠা প্রাপ্তি কিংবা নামের পাশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তকমা লাগাতে ডিগ্রীটি বেশ সময়োপযোগী।

সঙ্গত কারনেই এ ব্যাপারে সকলের কৌতুহল অনেক বেশী। তাই ডিগ্রী সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্যগুলো আলোচনা করা হল এ লেখায়।

 প্রাথমিক তথ্যঃ

১. MRCP পরীক্ষার জন্য কখন, কিভাবে আবেদন করা যাবে?

উত্তর : এম.বি.বি.এস পাশ করার পরে এক বছর ইন্টার্নশীপ শেষ করার পর পরবর্তী সেশনেই একজন পরীক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন।

* পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন এবং তা কত ধাপে সংঘটিত হয় ?

উত্তরঃ এম আর সি পি পরীক্ষাটি মূলতঃ তিন ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে। পার্ট-১, পার্ট-২ (লিখিত), এবং PACES ক্লিনিক্যাল।

MRCP পার্ট-১

প্রতি বছর সাধারণত জানুয়ারী, মে এবং সেপ্টেম্বর এই তিন সেশনে পরীক্ষা সংঘটিত হয়ে থাকে। পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়।

ওয়েবসাইটে এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পরীক্ষার সময় দেয়া থাকে সুবিধামত সময়ে রেজিস্ট্রেশন করা যায়।

তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.mrcpuk.org

 এদেশের জন্য জন্য নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি ৫৯৪ পাউন্ড। পার্ট-১ পরীক্ষা দুটি পত্রে অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিটি পত্রে ১০০টি করে প্রশ্ন থাকে। দুই পেপারে সর্বমোট ২০০ টি প্রশ্ন। প্রতি পেপারে সময়সীমা ৩ ঘন্টা করে।

MRCP পার্ট-২ লিখিত

পার্ট-১ এর মত পার্ট-২ পরীক্ষাও তিনটি সেশনে হয়ে থাকে প্রতিবছর। সাধারনত এপ্রিল, জুলাই এবং ডিসেম্বর এই তিন সেশনে পার্ট-২ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

পূর্বে উল্লেখিত ওয়েবসাইটে ভিজিট করে পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নিশ্চিত হয়ে নেয়া যেতে পারে।

পার্ট-২ পরীক্ষার জন্য কোন সময়সীমা নেই। পার্ট-১ পাশ করার পর যে কোন সেশনে পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারেন।

পার্ট-২ পরীক্ষার জন্যও অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। part-১, part-২ উভয় পরীক্ষার জন্য ফি একই।

পার্ট-২ লিখিত পরীক্ষায় থাকে তিনটি পেপার যা দুইদিন ব্যাপি হয়ে থাকে। প্রতি পেপারে থাকে ৯০ টি করে প্রশ্ন। প্রতি পেপারের সময়সীমা ৩ ঘন্টা করে।

part-১ এবং part-২ অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে রয়েল কলেজ স্বীকৃত ঢাকার পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা যায়।

তবে রেজিস্ট্রেশন বিলম্ব হলে ঢাকার বাইরের সেন্টার যেমন কলকাতা বা চেন্নাইতেও অংশগ্রহণ করা যায়।

২. এম.আর.সি.পি পরীক্ষা কি দেশে থেকেই দেওয়া যাবে?

উত্তর : পার্ট-১ এবং পার্ট-২ দুটো পরীক্ষাই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে রয়েল কলেজ কর্তৃক নির্ধারিত ঢাকার পরীক্ষা সেন্টারে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

তবে PACES ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার কোন সেন্টার এখনও ঢাকাতে অনুমোদন পায়নি।

৩. PACES- ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা কোথায় দিতে হয় এবং কেমন খরচ হয়?

উত্তর : PACES পরীক্ষার জন্য রয়েল কলেজ কর্তৃক স্বীকৃত কোন পরীক্ষা সেন্টার এখনও বাংলাদেশ অনুমোদন পায়নি।

PACES পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ইউ কে, ভারত (কলকাতা, চেন্নাই) ওমান, ব্রুনেই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কুয়েত প্রভৃতি দেশে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে হয়।

ইউ কে সেন্টার গুলোতে পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য রেজিস্ট্রেশনের ফি ৬৫৭ পাউন্ড। বাকী দেশগুলোতে পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি ১২০২ পাউন্ড।

PACES ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ৫ টি স্টেশনে সংঘটিত হয়। স্টেশনগুলোতে পরীক্ষার্থীর ক্লিনিক্যাল বিচার-বিচক্ষণতা, রোগীর সাথে কথোপকথন, সহমর্মীতা, বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষার পারদর্শিতা, কাউন্সেলিং, রোগীর ইতিহাস নেওয়ার ক্ষমতা যাচাই করা হয়।


৪. এম.আর.সি.পি পরীক্ষার জন্য কি কোন ট্রেনিং লাগে?

উত্তর : PACES-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার জন্য অন্তত দুই বছর প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ থাকলেও এর কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

৫. অনলাইনে আবেদনের জন্য কি কি কাগজ  লাগে?

উত্তরঃ প্রতি পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আপনাকে একটি আবেদন ফরম পূরন  করতে হবে। পার্ট-১ পরীক্ষার জন্য আবেদন ফরম পূরণের সাথে সাথে রেজিস্ট্রেশন ফি অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে দিতে পারেন অথবা ব্যাংকের মাধ্যমে চেক বা ড্রাফট পাঠাতে পারেন। এছাড়া এম.বি.বি.এস সনদ এর ফটোকপি ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃক সত্যায়িত করে কুরিয়ারে পাঠাতে হবে নির্ধারিত ঠিকানায়।

৬. আমাদের দেশে কি MRCP ডিগ্রী স্বীকৃত?

উত্তরঃ MRCP ডিগ্রী BMDC কর্তৃক ডিপ্লোমা ডিগ্রী হিসেবে স্বীকৃত। 

৭. MRCP পরীক্ষার সুবিধা কি?

MRCP একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত স্নাতকোত্তর ডিগ্রী। এ ডিগ্রী অর্জনের পর ইউ কে তে রেজিস্ট্রার পদের জন্য আবেদন করা যায়। এছাড়াও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মত দেশগুলোতে করসালট্যান্ট পদের জন্য আবেদন করা যায়। ট্রেনিং এর কোন বাধ্যবাধকতা না থাকায় এ ডিগ্রি অর্জনে সময়ক্ষেপন কম হয়।

সর্বোপরি একজন যোগ্য ক্লিনিশিয়ান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে MRCP ’র ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিভিন্ন রোগেরর গাইড লাইন এবং রিসার্চ সম্বলিত সিলেবাসটি তৈরী হওয়ায় সিনারিও ভিত্তিক প্রশ্ন থাকায় ক্লিনিক্যাল দক্ষতা ও বিচার বিচক্ষণতার সম্মিলন ও সম্প্রসারণ ঘটে  এ ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে। 

লেখক : ডা. সাইফ হোসেন খান মার্ক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ
[email protected]

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ৪, বর্ষ ২, জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তে প্রকাশিত)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর