২৫ নভেম্বর, ২০১৬ ০৩:১৪ পিএম

চিকিৎ​সক হওয়ার পথে স্বপ্নযাত্রা

চিকিৎ​সক হওয়ার পথে স্বপ্নযাত্রা

তাঁদের কারও বাবা শ্রমিক, কারও বাবা ফেরিওয়ালা, কাঠমিস্ত্রি কিংবা সবজি বিক্রেতা। তাতে কি! তাঁরা তো ব্যক্তিজীবনে অদম্য, মেধায় অনন্য। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়ার জন্য যোগ্য বিবেচিত হওয়া সেই আটজনের কথা বলছি, যাঁরা টাকার অভাবে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারছিলেন না।

প্রথম আলো এই আটজনের সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আর প্রথম আলোর সংবেদনশীল ও সুহৃদ পাঠকেরা এই তরুণ মেধাবীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। ইতিমধ্যে এই তরুণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির ব্যবস্থা হয়েছে। তাঁদের সবার শিক্ষাজীবন শেষ হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও মিলেছে।

আইরিন আক্তার: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কিসামত কামারপুকুর মিস্ত্রিপাড়ার দিনমজুর ইউনুস আলীর মেয়ে আইরিন টাকার অভাবে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারছিলেন না। এ খবর প্রকাশের পর প্রথম আলোর পাঠকেরা আড়াই লাখ টাকার বেশি সহায়তা পাঠিয়েছেন। তিনি ভর্তি হয়েছেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে।

আইরিনের ভর্তির জন্য সহায়তা দিয়েছেন সৈয়দপুরের ইউএনও আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গি, জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন ও ঢাকার ইফাদ গ্রুপ। টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে সাভারের শিশু সিরাজুম মুনিরাও আইরিনের জন্য টাকা পাঠিয়েছে। নীলফামারীর সন্তান ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম আইরিনের পুরো পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন। আইরিন বলেন, ‘প্রথম আলো আমার সমস্যার কথা তুলে না ধরলে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন হয়তো অপূর্ণই থেকে যেত।’

রাসেল মাহমুদ: জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার দড়িপাড়ার রাসেল মাহমুদ ভর্তি হয়েছেন বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে। তাঁর বাবা মোতালেব মিয়া ফেরি করে কাপড় বিক্রি করেন। রাসেলের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এসেছেন দেশ-বিদেশের অনেকে। তাঁর পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. সাহাবুদ্দিন খান ও বকশীগঞ্জের ইউএনও মো. আবু হাসান সিদ্দিক।

আবু হাসান সিদ্দিক বলেন, সংবাদটি পড়ার পর তিনি রাসেল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সমস্যার কথা শোনেন। রাসেলের বাবাকে একটি কাপড়ের দোকান করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রায়হানুল বারী: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্বসারডুবি গ্রামের দিনমজুর সাফিউল ইসলামের ছেলে রায়হানুল বারী ভর্তি হয়েছেন ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে। রায়হানুলের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর ভর্তির জন্য টাকা দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মতিয়ার রহমান। রায়হানুলের মেডিকেল শিক্ষার সব দায়িত্ব নিয়েছে ল্যাবএইড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা বৃত্তি দেবে। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (করপোরেট কমিউনিকেশন) সাইফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রায়হানুল বারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল।’

সুস্মিতা কর্মকার: নালিতাবাড়ী পৌরসভার কাচারীপাড়ার কাঠমিস্ত্রি কৃষ্ণ কর্মকারের মেয়ে সুস্মিতা কর্মকার ভর্তি হয়েছেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে। দেশ-বিদেশের ৩১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাঁকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।

সুস্মিতার পুরো পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুর রউফ।

আবদুল আলিম: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বালুগ্রামের সবজি বিক্রেতা হযরত আলীর ছেলে আবদুল আলিম নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বালিয়াডাঙ্গা দারুস সুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক রেজাউল করিমের সহযোগিতায় রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তাঁর পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবদুল আলিম প্রথম আলোসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নাসরিন আক্তার: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন নাসরিন আক্তার। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তাঁর জন্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকার সহযোগিতা মিলেছে। মেডিকেলে পড়াশোনার জন্য মাসিক বৃত্তি দেবে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক। ব্যাংকের জয়পুরহাট শাখার ব্যবস্থাপক আমিনুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাসরিনদের আদি বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরে। যমুনায় বসতভিটা হারানোর পর তাঁর ভূমিহীন বাবা লাভলু প্রামাণিক পরিবার নিয়ে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বানদীঘি নলপুকুর গ্রামে বাস করছেন।

সোহেল রানা: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের দিনমজুর বাবা নুরুল ইসলামের ছেলে সোহেল রানা বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেত্রকোনায় কর্মরত প্রশাসনের একজন পদস্থ কর্মকর্তা তাঁকে ভর্তির জন্য ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। মেডিকেলে পড়াশোনার সময় সোহেলের মাসিক খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন ঢাকার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তাহমিনা বেগম।

সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, ব্যক্তিপর্যায়ে কয়েকজন সাহায্য দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন মাসিক খরচের দায়িত্ব নেওয়ায় সেসবের হয়তো দরকার হবে না।

আরজুমান: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ শহরের পশ্চিম রঘুনাথপুর মহল্লার আকবর আলীর মেয়ে আরজুমান দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছেন।

আরজুমান বলেন, এই টাকার একাংশ দিয়ে তিনি ভর্তি হয়েছেন। বাকিটা তাঁর কাছে আছে। তাঁর মেডিকেলে পড়াকালীন পুরো ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসকারী একজন চিকিৎসক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই চিকিৎসক দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের মাধ্যমে প্রতি মাসে আরজুমানের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সব খরচ পাঠাবেন বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

 

প্রথম আলোর ধন্যবাদ

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তায় দেশ-বিদেশের অনেকে এগিয়ে এসেছেন। কেউ কেউ অদম্য এই মেধাবীদের অর্থ সাহায্য করেছেন। বিভিন্ন স্থানের আট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি আটজন লড়াকু শিক্ষার্থীর ভর্তিসহ এমবিবিএস পড়ার সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। এই শিক্ষার্থীদের পাশে প্রথম আলো আজ যেমন দাঁড়িয়েছে; তেমনি ভবিষ্যতেও তাঁদের পাশে থাকবে।

সৌজন্যে: প্রথম আলো

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা

অতিরিক্ত বেতন নিচ্ছে একাধিক বেসরকারি মেডিকেল

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি