২৫ নভেম্বর, ২০১৬ ১২:১৫ পিএম

প্রশ্নোত্তরে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

প্রশ্নোত্তরে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

অ্যাপেন্ডিসাইটিস কী?

মানবদেহে পেটের মধ্যে নিচে ডান দিকে অবস্থিত একটি ছোট উপান্ত্র। এর প্রদাহ বা জীবাণু সংক্রমণকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস বলে।

 

লক্ষণ কী কী?

  • প্রথমত, পেটের মাঝামাঝি ব্যথা শুরু হয় এবং ক্রমান্বয়ে নিন্মপেটের ডান দিকে স্থানান্তরিত হয়।
  • বমি বমি ভাব, ক্ষুধা কমে যাওয়া।
  • হাঁটার সময় পেটের ডান দিকে ব্যথা হয় এবং ওই স্থানে চাপ দিলে বা আল্টাসাউন্ড করার সময় ব্যথা অনুভূত হয়।
  • জ্বর ও অবসাদ বোধ হওয়া।
  • ডায়রিয়া অথবা কোষ্ঠকাঠিন্য।

 

অ্যাপেন্ডিক্স কী?

অ্যাপেন্ডিক্স হচ্ছে মলান্ত্রের কাছে ফাঁপা, মুখ খোলা ছোট আঙুলের মতো একটি অঙ্গ। এর কাজ একেবারে পরিষ্কার নয়। তবে যদি কোনো কারণে এটি বন্ধ হয়ে যায়, তখন সংক্রমিত হয়ে পড়ে।

 

অ্যাপেন্ডিক্সে প্রদাহ হলে কী হয়?

অ্যাপেন্ডিক্সে প্রদাহ হলে এটা ফুলে যায় এবং মুখ বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় এর ভেতর থেকে তরল বর্জ্য প্রবাহিত হতে পারে না। তখনই সংক্রমিত হয়ে পড়ে।

 

অ্যাপেন্ডিক্সে ছিদ্র হলে কী হয়?

একটি সংক্রমিত অ্যাপেন্ডিক্স বন্ধ হয়ে ফুলে যেয়ে ফেটে বা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে এবং ওই ছিদ্রপথে সংক্রমিত গয়ে বর্জ্য বের হয়ে তলপেটে ফোড়ার আকার ধারণ করে এবং পেরিটনাইটিস হতে পারে। এ অবস্থায় পেটে তীব্র ব্যথা ও পেট শক্ত হয়ে যায়।

 

রোগ নির্ণয় কিভাবে করা হয়?

প্রথমত, রোগীর কাছ থেকে উপরি উক্ত লক্ষণগুলো জেনে এবং সার্জন রোগীকে পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করে থাকেন।

এ ছাড়া রক্তে সিবিসি, প্রস্রাব পরীক্ষা, পেটের এক্স-রে, আন্ট্রাসাউন্ড করা হয়। কখনো বা, পেটের সিটিস্ম্যান বা বেরিয়াম এনেমা এক্স-রে করা হয়। তবে সার্জন রোগীকে পরীক্ষা করে। নিশ্চিত হয়ে থাকেন। কেননা ল্যাব পরীক্ষায় অ্যাপেন্ডিসাইটিস শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।

 

চিকিৎসা কী?

নিশ্চিত অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসা হচ্ছে অস্ত্রপচার করা। রোগীর জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ চিকিৎসা হচ্ছে নিরাপদ। তবে সব অস্ত্রোপচারেই কিছুটা ঝুকি থাকে। যেমন কর্তিত অংশে রক্তক্ষরণ, তলপেটে জীবাণু সংক্রমণ, অ্যানেসথেসিয়া সংক্রান্ত কোনো সমস্যা।

এই অস্ত্রপচার লাপারোস্কপি মেশিন দিয়ে বা ছোট করে পেট কেটে করা হয়। তবে যদি কখনো অপারেশনের আগে ফেটে যেয়ে থাকে, তবে অপারেশনের স্থানটি বড় করা লগতে পারে। নিরাময় পর্যায়ে এক বা দুই দিন হাসপাতালে থেকে বাড়ি যেয়ে সাত দিন পর আবার সার্জনকে দেখাতে হবে। এ সময় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথার ওষুধ খেতে হবে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপারেশন করা না গেলে কনজারভেটিভ চিকিৎসা করে পরবর্তী সময়ে এক মাস পরে ইন্টারভাল অ্যাপেন্ডিসেক্টমি করতে হয়।

 

অপারেশনের পর কখন সার্জনকে আবার কখন দেখাবেন?

  • সাত দিন পর সেলাই কেটে নেয়ার জন্য দেখাবেন।
  • এ ছাড়া যদি অপারেশন স্থলে ফুলে যায়, লাল হয়, ব্যথা বেড়ে যায়, জ্বর ১০১°F-এর বেশি হয়, বেশি বমি ও ডায়রিয়া হয় তবে সার্জনের কাছে যেতে কখনো দেরি করবেন না।

 

লেখক:

ডা: মো: আকমল আলী।

 

 

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা

অতিরিক্ত বেতন নিচ্ছে একাধিক বেসরকারি মেডিকেল

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে