০২ ডিসেম্বর, ২০২১ ১০:৩৩ এএম

২১ সেশনের নন-রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ভাতা ১৫ ডিসেম্বর

২১ সেশনের নন-রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ভাতা ১৫ ডিসেম্বর
অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তারা খুব তাড়াতাড়িই পাবে। ১৫ ডিসেম্বর তাদের ভাতা দিয়ে দেওয়া হবে।’

মো. মনির উদ্দিন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও এর অধিভুক্ত ইনস্টিটিউটগুলোতে নন-রেসিডেন্সি (ডিপ্লোমা-এমফিল) কোর্সে অধ্যয়নরত ২১ সেশনের শিক্ষার্থীদের ভাতা প্রদান করা হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর। ওই দিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে এ ভাতা প্রদান করা হবে।

বিএসএমএমইউ ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ মেডিভয়েসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তারা খুব তাড়াতাড়িই পাবে। ১৫ ডিসেম্বর ওদেরকে ভাতা দিয়ে দেওয়া হবে।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (হিসাব ও অর্থ) মো. আবদুস সোবহান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এটা আপনাদের দোয়াই বাস্তবায়ন করে ফেলেছি। বিএসএমএমইউ ভাইস-চ্যান্সেলর এর উদ্বোধন করবেন। ১৫ ডিসেম্বর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সচিবের উপস্থিতিতে এটা প্রদান করা হবে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশাল অর্জন। চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ এই সুবিধাটি পাচ্ছেন। নন-রেসিডেন্ট এসব চিকিৎসক তো প্রাইভেট প্রাকটিস করার সুযোগও পান না। এ সেশনের সবার নামের তালিকা অনুযায়ী, টাকা আসবে এবং এটা চলতে থাকবে।’

ভাতা চালুর প্রেক্ষাপট 

রেসিডেন্সি ও এফসিপিএস কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা থাকলেও ডিপ্লোমা কোর্সে ভাতার ব্যবস্থা ছিল না। এতে নন-রেসিডেন্সিতে অধ্যয়নরতদের চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে কোর্স সম্পন্ন করতে হতো। 

এ অবস্থায় স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মিটিংয়ে নন-রেসিডেন্সি কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের ভাতা প্রদান সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ সেপ্টেম্বর ডিপ্লোমা-এমফিল (নন-রেসিডেন্সি) কোর্সে অধ্যয়নরত ২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ভাতা প্রদান করে বিএসএমএমইউ। তবে ভাতা সংক্রান্ত বিল পাস হওয়ার সময় অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থী এর আওতাভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ১৯ সেশনের শিক্ষার্থীরা এ ভাতা পাননি। 

নিয়মিত ভাতা প্রত্যাশা চিকিৎসকদের

এদিকে চালু হওয়ার পর নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের ভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও গত পাঁচ মাস ধরে তা পাচ্ছেন না ২১ সেশনের শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোর্সে অধ্যয়নত একজন নবীন চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘সাধারণত রেসিডেন্সি বা এফসিপিএসে কখনো ১/২ মাস বিলম্ব হয়। কিন্তু পাঁচ মাস হয়ে গেলো, আমাদের কাগজপত্র যাচ্ছে কিনা, তা কেউ পরিষ্কার করছেন না। অনেকেই এ রকম আছেন, যারা পারিতোষিকের ঘোষণা না পেলে এ কোর্সে ভতি হতেন না। অনেকে ভালো চাকরি ছেড়ে কোর্সে এসেছেন। তারা জ্যেষ্ঠ মেডিকেল কর্তকর্তা হিসেবে ছিলেন, উচ্চবেতনে চাকরি করতেন। এ কোর্সে পারিতোষিক পাবেন—এমনটি জেনেই তারা এসব ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছেন। …কোর্সে আসার পর পাঁচ মাস হয়ে গেলো, অথচ কোনো অগ্রগতি নাই। সেজন্য সবাই হতাশ। অসুবিধা হলো, কোর্সে ঢোকার কারণে প্রাকটিসও করা যাচ্ছে না, আবার ৪/৫ মাস ধরে কোনো ভাতাও পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের অনেকেই বিবাহিত, অনেককেই পিতা-মাতার দায়িত্ব নিতে হয়। অনেকের সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় একেবারে নিরূপায়। ভাতা পাওয়ার নির্ধারিত সময় জানতে পারলে আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।’ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ডিপ্লোমা-এমফিল
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত