২২ নভেম্বর, ২০২১ ০১:৩৫ পিএম

আলমডাঙ্গায় স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধর, ইউএইচএফপিও’র সঙ্গে অসদাচরণ

আলমডাঙ্গায় স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধর, ইউএইচএফপিও’র সঙ্গে অসদাচরণ
আলমডাঙ্গার ইউএইচএফপিও ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) সঙ্গে অসদাচরণ ও তাঁর চালককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদে উপজেলার অস্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের টিকাদান কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে।

গত ১৮ নভেম্বরের ঘটনায় রোববার চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ১ ঘণ্টা জরুরি বৈঠক করেছেন জেলার তিন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জন চিকিৎসক।

অসদাচরণের শিকার আলমডাঙ্গার ইউএইচএফপিও ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ আজ সোমবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) সকালে মুন্সিগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভিড় হওয়ায় তাঁকে বিষয়টি জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রের ভিতরে যান তিনি। এ সময় তার গাড়ি চালক নুর আলম টিকা কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক সালাউদ্দিন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক মখলেছুর রহমান তাকে বাধা দেন। পরিচয় দেওয়ার পরও বাধা দিলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নূর আলমকে চড়-ঘুষি দিয়ে মারধর করেন।’

এ সময় সেখানে গিয়ে পরিচয় দেওয়ার পরও ডা. হাদির সঙ্গে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাঁর চালক স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যেই পড়েন উল্লেখ করে আলমডাঙ্গার ইউএইচএফপিও বলেন, ‘স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই যদি কর্মীদের মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়, তাহলে তাদের নিরাপত্তা দিবে কে? যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিয়োজিত, তারা আমার কেন্দ্রে এসেছেন, আমার অধীনে এসেছেন; অথচ তারা আমার কথা শুনতে চাচ্ছেন না। এমনটি চলতে থাকলে তো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকিমুক্ত রাখার কোনো বিকল্প থাকলো না।’

ডা. জিয়া উদ্দিন বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ জেলা মেডিকেল এসোসিয়েশনকে জানানো হয়েছে। 

‘এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার (২২ নভেম্বর) জেলা প্রশাসকের কাছে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গার নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। তিনি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আগামী তিন দিনের মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন’, যোগ করেন এই চিকিৎসক।

এদিকে বিষয়টি পুলিশ সুপার (এসপি) জাহিদুল ইসলামকে জানানোর পর ওই দুই কর্মকর্তাকে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ ক্যাম্প থেকে আলমডাঙ্গা থানায় বদলি করা হয়েছে বলে জানান আলমডাঙ্গার ইউএইচএফপিও।

তিনি বলেন, ঘটনা তদন্তে পুলিশ সুপারও আলাদা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। প্রমাণ সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গার সভাপতি ডা. মার্টিন হীরক চৌধুরী জানিয়েছেন, ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি না হলে মঙ্গলবার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ও সদর হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধনের মাধ্যমে কঠোর কর্মসূচিতে দেওয়া হবে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি