২৪ নভেম্বর, ২০১৬ ০৯:১১ এএম

কল্পনার মৃত্যু ও কিছু প্রশ্ন

কল্পনার মৃত্যু ও কিছু প্রশ্ন

কল্পনার আগে দুইটি সিজার হয়েছে। শেষ বাচ্চার বয়স দেড় বছর।

গত দেড় মাস ধরে মাসিক হচ্ছে না। প্রেগনেন্সি কিট দিয়ে পরীক্ষা করে পজিটিভ রেজাল্ট পায় সে।

স্বামীকে বলে। স্বামী চায়না তার বাচ্চা হোক।

সে গিয়ে ফার্মেসীওয়ালাকে বলে। ফার্মেসীওয়ালা নিজেই ডাক্তার হয়ে কিছু লাভের আশায় বাচ্চা নষ্ট হবার অষুধ দেয়।

 

সে অষুধ খাবার পর কল্পনার প্রচন্ড পেট ব্যাথা শুরু হয়। সে ভীষণ দুর্বল হয়ে যায়। পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়। পেট ফুলে যায়।

এভাবে চারদিন পার হবার পর বিকেল বেলায় তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে ভর্তি দেওয়া হয়।

বিকালে সরকারী ভাবে আল্ট্রাসনোগ্রাফি হয় না। তাই সন্ধ্যার পর বাইরে বেসরকারিভাবে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হল।

 

আল্ট্রার রিপোর্ট আসলো A case of Fetal Death at 20 weeks of gestation with Suspected Ruptured Uterus.

পেশেন্ট দেড় মাস ধরে মাসিক বন্ধ থাকার কথা বললেও আসলে এটা মিস ইন্টারপ্রিটেশন ছিল।

আসলে তার পাঁচ মাসের বাচ্চা পেটে ছিল। এমতাবস্থায় বাচ্চা নষ্ট করার অষুধ খাওয়াতে জরায়ুতে প্রচন্ড সংকোচনের সৃষ্টি হয়।

ফলে পুর্বের সিজারিয়ান অপারেশনে জরায়ুর যে জায়গা কাটা হয়েছিল তা ফেটে গিয়ে বাচ্চা জরায়ুর বাইরে চলে আসে এবং পেটের ভিতরে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে।

 

স্বাভাবিক ভাবেই বাচ্চাটি জীবিত নেই। এবং রোগী চরম রক্ত শূন্যতায় ভুগছে।

খুব আর্জেন্টলি কয়েক ব্যাগ ব্লাড ম্যানেজ করে অপারেশন না করলে বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে রোগীকে।

 

আল্ট্রাসনোগ্রাফি যিনি করেছেন তিনি পুরো ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করার পরও যখন তারা শুনলো এই সমস্যার সমাধান অপারেশন ছাড়া হবে না তখন সিদ্ধান্ত নিতে দুইপা পিছিয়ে গেল রোগীর স্বজনরা।

ভেবেই বসলো তাদেরকে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতানোর ফন্দী এঁটেছে ডাক্তার আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তারা আবার রোগীকে সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেল। সকালের আগে কন্সাল্টেন্ট লেভেলের কেউ আসবে না।

 

কর্তব্যরত চিকিৎসক নিকটস্থ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বললেও রোগীর স্বজনরা রাজি হয় নি। তারা সকালের অপেক্ষা করলো।

অত:পর সকাল হল আর সবাই কল্পনার নিথর দেহ দেখে বিচলিত হয়ে ডাক্তার ডাকতে গেল।

কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলো। কিছু লোভী আর অদূরদর্শী সন্দেহপ্রবন মানুষের জন্য করুন পরিণতির শিকার হল কল্পনা।

 

কী করলে কল্পনার এই পরিণতি হতো না?

এই ঘটনার পেছনে সবচেয়ে বড় বদমাশ হলো সেই অষুধ বিক্রেতা।

সে ৫০০ টাকা দিয়ে বাচ্চা নষ্ট হবার অষুধ বিক্রি না করে তাকে একটা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে গাইনী বিশেষজ্ঞ কাউকে দেখানোর পরামর্শ দিলেই কল্পনার অকাল মৃত্যু হতো না।

 

সবার কাছে আকুতি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোন সমস্যায় পড়লে আগে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। তার পরামর্শে কাজ করুন বা অষুধ খান।

বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসনের কাছে আদৌ কি এর কোন সমাধান আছে?

 

বিনা প্রেসক্রিপশনে ঔষধ বিক্রি বন্ধের কি কোন রাস্তা নেই ?

তা না হলে কিন্তু এভাবেই কল্পনাদের অকাল মৃত্যু হতেই থাকবে।

 

বি.দ্র: কল্পনা নামটি কাল্পনিক।

 

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না