২৭ অক্টোবর, ২০২১ ১০:০৭ পিএম

রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড পেলেন অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব

রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড পেলেন অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব
‘রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড ২০২১’  গ্রহণ করছেন অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ‘রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের আরও ১৪ জন এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

আজ বুধবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে ‘বিএসএমএমইউ তৃতীয় গবেষণা দিবস-২০২১’ অনুষ্ঠানে তাদের এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। 

অনুষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের শ্রেষ্ঠ গবেষক হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ লাভ করেছেন অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব। তাঁর ‘বঙ্গভ্যাক্স ভ্যাকসিনেটেড বানরে সার্স-কোভ-২ চ্যালেঞ্জ’ ট্রায়ালের উপর গবেষণা নিবন্ধটি সেরা ৫টি নিবন্ধের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক স্বপ্নীলসহ বিভিন্ন অনুষদের ১৫ জন শিক্ষক, চিকিৎসককে গবেষণার জন্য রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এছাড়াও চারজন শিক্ষক চিকিৎসককে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ২০২১ প্রদান করা হয়েছে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার তথ্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএসএমএমইউতে বিভিন্ন রোগ ও চিকিৎসা বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গবেষণা করার জন্য ২০২০-২০২১ সালে ৭ শতাধিক শিক্ষক, চিকিৎসক ও ছাত্রছাত্রীদের গবেষণা কর্ম অনুমোদন দেওয়াসহ অনেককে গবেষণা মঞ্জুরী, থিসিস গ্রান্ট প্রদান করা হয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকর্ম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে দেশে গবেষণা বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। আমরাও গবেষণায় গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি, যেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় বিশ্বের বুকে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে কোভিড-১৯ এর জেনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছি। গবেষণায় দেখা গেছে মোট সংক্রমনের শতকরা ৯৮ ভাগ ভারতীয় বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। আমরা করোনার টিকা গ্রহীতাদের উপর গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছি। সেখানে দেখা গেছে টিকা গ্রহীতাদের শতকরা ৯৮ ভাগের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ভারতের অ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকা নিয়েছেন ৬ মাস পরে তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি উপস্থিতির হার পূর্বের তুলনায় মাত্র ৫ ভাগ কমেছে। করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরে বুস্টার ডোজ নিতে হবে কিনা সে বিষয়ে গবেষণা চলছে।’

গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক শারফুদ্দিন বলেন,‘গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে আলাদাভাবে রিসার্চ সেন্টারসহ একাডেমিক ভবন গড়ে তোলা হবে। উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান উন্নত চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সংযুক্তির মাধ্যমে বিএসএমএমইউ আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে এই প্রত্যাশা সবার। সবাই মিলে যার যে দায়িত্ব, তা সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সফল হবেই।’

ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের সভাপত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মনঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন, বিএসএমএমইউ উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান প্রমুখ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি