২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০৭:৫১ পিএম

মায়ের অনুপ্রেরণায় চবির ফাইনাল প্রফে সেরা ডা. নাফিস

মায়ের অনুপ্রেরণায় চবির ফাইনাল প্রফে সেরা ডা. নাফিস
ডা. মুহাম্মদ আদিবুল হক নাফিস।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অধীনে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ডা. মুহাম্মদ আদিবুল হক নাফিস।

২০১৫-১৬ সেশনে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় তৃতীয় হওয়া এ কৃতি শিক্ষার্থী এবার চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষায় অলঙ্কৃত করেছেন সেরা মেধাবীর স্থান। আজ রোববার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে নবীন এ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হয় মেডিভয়েস প্রতিবেদকের।

আলাপচারিতায় উঠে আসে ঈর্ষণীয় সাফল্যের নেপথ্য কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: সাখাওয়াত হোসাইন।

মেডিভয়েস: চমকপ্রদ এ সাফল্যের অনুভূতি জানতে চাই।

ডা. নাফিস: অনুভূতি অনেকটা মিশ্র। সৃষ্টিকর্তার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতাবোধ করছি। এ ফলাফলে বাসার সবাই খুশি, তাই আমিও আনন্দিত। দীর্ঘ সময় পর পরীক্ষা শেষ হয়েছে বলে স্বস্তিও বোধ করছি। এই আনন্দের সঙ্গে কিছু দুঃখের ব্যাপারও রয়েছে। আমার বন্ধু-বান্ধদের মধ্যে অনেকেই প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেননি। কিছুদিন পর আমাদের ইন্টার্নশিপ শুরু হবে, এটা নিয়ে কিছু উত্তেজনাবোধ করছি। আর কিছুটা ভয়ও লাগছে, করোনার কারণে অনেকদিন ধরে আমাদের তেমন হাসপাতালের ওয়ার্ডে যাওয়া-আসা হয় না। 

মেডিভয়েস: কোন অনুপ্রেরণায় এ পর্যন্ত আসা?

ডা. নাফিস: মায়ের অনুপ্রেরণায় এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। আমার মা-বাবা দুজনেই চিকিৎসক। মা-বাবার কাছ থেকে আমি অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। আমাদের শিক্ষকদের অবদানও অতুলনীয়। শিক্ষকরা সব ব্যাপারে আন্তরিকতার সাথে উৎসাহ দিয়েছেন। একটা বিষয়ে আবদ্ধ না থেকে অনেকগুলো বিষয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মানোর জন্য স্কুল, কলেজ ও মেডিকেলের শিক্ষকরা অনেক উদ্দীপনা দিয়েছেন। এ কারণে তাঁদের প্রতি আমি অশেষ কৃতজ্ঞ। 

মেডিভয়েস: কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে চান?

ডা. নাফিস: সব বিষয়ের প্রতি আমার কম-বেশি আগ্রহ রয়েছে। এখন কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হবো, এটা তো গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত। এজন্য আমি নিজের দিক থেকে ভেবেছি, যখন ইন্টার্নশিপ শেষ হবে এবং এই সময়ের মধ্যে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবো। তার মধ্য থেকেই সিদ্ধান্ত নেবো।

মেডিভয়েস: যারা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ জানতে চাই?

ডা. নাফিস: আসলে যারা ফাইনাল প্রফে অকৃতকার্য হয়েছেন, তারা অত্যন্ত মর্মাহত ও হতাশ। কারণ অন্যান্য প্রফে খারাপ করার চেয়ে ফাইনাল প্রফে খারাপ আরও কষ্টের বিষয়। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো, দমে না যাওয়া। আসলে ভালো চিকিৎসক হওয়া আর প্রফে একবারে পাস করা এক জিনিস নয়। দুটিই আলাদা জিনিস। পরীক্ষা আবার অচিরেই যেহেতু চলে আসবে, মন খারাপ না করে কিছুটা সময় নিয়ে আবার পড়াশোনায় মন বসানো উচিত। ইনশাআল্লাহ আবার সামনের পরীক্ষাটা ভালো হবে। যারা ফেইল করেছেন তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তাদের বোঝা উচিত, কোনো দিকে সমস্যা হওয়ার কারণে পরীক্ষা খারাপ হয়েছে। এমনিতেই করোনার কারণে পরীক্ষাটা এক বছর পিছিয়ে ছিল। এজন্য আশা করা যায়, সাপ্লি পরীক্ষা দ্রুতই হবে।

মেডিভয়েস: করোনার বিপর্যস্ত সময়ে প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন কিভাবে?

ডা. নাফিস: আসলে করোনার সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্লাস সব বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া রোগীর সংস্পর্শে ওয়ার্ডে আসতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। অনেকেরই এজন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি। করোনার কারণে অনেকবার আমাদের পরীক্ষা পিছানো হয়েছে। কবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলাম। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আমাদের কলেজে প্রচুর অনলাইন ক্লাস হয়েছে, পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে আর ব্লক পোস্টিংও হয়েছে।

সব মিলিয়ে আমাদের সাথে সহপাঠীরা কমবেশি সবাইভালো প্রস্তুতি নিতে পেরেছে। নিজের প্রস্তুতির বিষয়ে বলবো, বন্ধুদের সাথে সবসময় যোগাযোগ করেছি। ওরা কিভাবে পড়াশোনা করছে, কি করছে, নিয়মিত জেনেছি। এতে আমার পড়াশোনার আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল। করোনার এই সময়ে একজন আরেকজনের কাছ থেকে আমরা দূরে থাকতে পারি। কিন্তু বন্ধু-বান্ধব অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে গিয়েছি। এতে আমার পরীক্ষা ভালো হয়েছে। 

মেডিভয়েস: পরীক্ষার প্রস্তুতি ও কৌশল সম্পর্কে জানতে চাই।

ডা. নাফিস: আসলে আমাদের এমবিবিএসের একেক প্রফের প্রস্তুতি একেক রকম। ফার্স্ট প্রফের প্রস্তুতির সঙ্গে দ্বিতীয় প্রফের প্রস্তুতি মেলানো যাবে না। তবে সব প্রফের ক্ষেত্রে যে জিনিসগুলো কমন সেটা হচ্ছে, আমাদের লেকচার ক্লাস। আমাদের মেডিকেলে পড়াশোনা সাগরের মত। এখানে যত পড়াশোনা আছে, কখনই তা শেষ করা সম্ভব নয়। আমাদেরকে ক্লাস স্যার-ম্যাডামরা যা বলেন, সেটার প্রতি গুরুত্বটা বেশি রাখতে হবে। আর ফাইনাল প্রফের সময় ওয়ার্ডে স্যারেরা যা বলেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পরীক্ষার সময় এমন কোনো কিছু জিজ্ঞেস করেননি, যা কোনো না কোনো স্যারের মুখ থেকে বের হয়নি। তাই সব ক্লাস নিয়মিত করার চেষ্টা করতে হবে। তা সম্ভব না হলে, যারা নিয়মিত করেছে, তাদের কাছ থেকে পড়াশোনাটা বুঝে নিতে হবে। কারণ ক্লাসের নোটগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মেডিভয়েস: জাতীয় মেধায় তৃতীয় হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি না হয়ে চমেকে কেন?

ডা. নাফিস: চমেকে ভর্তি হওয়ার পেছনে মোটা দাগে বড় দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, আমি সবসময় চাই পরিবারের কাছাকাছি থাকতে। আমার জীবনের অধিকাংশ সময় যেহেতু চট্টগ্রামে কেটেছে। মেডিকেল পড়াশোনায় এত চাপ থাকে। এই সময়ে পরিবারের সহযোগিতা পেলে ভালো করা সহজ হয়। দ্বিতীয়ত, ঢাকা মেডিকেল কলেজ অনেক বড় কলেজ। কিন্তু চমেকেরও গুণগত মান অনেক উপরে এবং বিদেশেও এই মেডিকেলের ডিগ্রিটা অনেক গুরুত্ব রয়েছে। আসলে সব মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, এই কলেজে পড়াশোনা করা সম্মানের ব্যাপার। এজন্য আমার পছন্দের তালিকায় সবচেয়ে উপরে ছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত