২২ অক্টোবর, ২০২১ ০৫:২০ পিএম

‘করোনায় ১ লাখ ৮০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু’

‘করোনায় ১ লাখ ৮০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু’
স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়ার পাশাপাশি টিকা সরবরাহে বৈষম্যের সমালোচনা করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস ডেস্ক: করোনায় সারা পৃথিবীতে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়ার পাশাপাশি টিকার সরবরাহে বৈষম্যের সমালোচনা করেন সংস্থাটির প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত এসব  স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে ১৩ কোটি ৫০ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছেন।

এর আগে সংস্থাটির আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রুস আইলওয়ার্ড সতর্ক করেছিলেন, করোনা মহামারী আগামী বছর পর্যন্ত তাণ্ডব চালাতে পারে। এর পেছনে তিনি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন দরিদ্র দেশগুলোর প্রয়োজনীয়সংখ্যক টিকা না পাওয়ার বিষয়টি।

তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, ১১৯টি দেশ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সারা বিশ্বে গড়ে পাঁচজনের মধ্যে দুজন স্বাস্থ্যকর্মী করোনার টিকা পেয়েছেন। তবে এই গড় হিসাবের আড়ালে বিভিন্ন অঞ্চল ও আর্থিক সক্ষমতাভেদে বড় বৈষম্য রয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জনেরও কম স্বাস্থ্যকর্মী টিকা পেয়েছেন। অপর দিকে উচ্চআয়ের দেশগুলোতে এই অনুপাত প্রতি ১০ জনে ৮ জন।

বিবিসি জানিয়েছে, করোনার টিকাপ্রাপ্তির দিক দিয়ে আফ্রিকা অঞ্চলের অবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশ খারাপ। বিশ্বে এখন পর্যন্ত দেওয়া মোট টিকার মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশ পেয়েছে এ মহাদেশের বাসিন্দারা। আফ্রিকার ৫ শতাংশের কম মানুষ করোনার টিকা পেয়েছে। অপর দিকে অন্য মহাদেশগুলোতে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এসব টিকার সিংহভাগই পেয়েছে উচ্চ আয় ও উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশগুলো।

করোনার টিকা নিয়ে এমন বৈষম্য দূর করতেই কোভ্যাক্স প্রকল্প চালু করেছিল জাতিসংঘ। এর উদ্দেশ্য ছিল আর্থিক সক্ষমতা নির্বিশেষে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে টিকাপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা। তবে জাতিসংঘের এমন প্রকল্পের বাইরে গিয়ে ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭-এর অনেক সদস্য টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তিতে গিয়ে সরাসরি টিকা সংগ্রহ করতে থাকে।

টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে করোনার টিকা সরবরাহের ক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে পারে, সে জন্য ধনী দেশগুলোর প্রতি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রুস আইলওয়ার্ড। তিনি বলেন, জি-৭-এর মতো শীর্ষ সম্মেলনে ধনী দেশগুলো দরিদ্র দেশগুলোতে টিকাদানের বিষয়ে অঙ্গীকার করেছিল। তাই এখন ধনী দেশগুলোর উচিত নিজেদের টিকার মজুত পর্যালোচনা করে তা থেকে দরিদ্র দেশগুলোকে টিকা দেওয়া।

ধনী দেশগুলোকে উদ্দেশে ডব্লিউএইচওর এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি যে টিকাদানের ক্ষেত্রে আমরা সঠিক পথে নেই। আমাদের সত্যিই এই কার্যক্রমকে গতিশীল করা দরকার।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : স্বাস্থ্যকর্মী
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও