১৯ অক্টোবর, ২০২১ ১২:২৯ পিএম

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ৪৮তম ডা. সায়মুল ফাইনাল প্রফে সেরা

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ৪৮তম ডা. সায়মুল ফাইনাল প্রফে সেরা
মেডিকেল লাইফে শুরু বা শেষ বলে কোনো কথা নেই: ডা. কাজী মো. সায়মুল রেজা।

২০১৫-১৬ সেশনে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ৪৮তম হয়েছিলেন ডা. কাজী মো. সায়মুল রেজা। তবে কঠোর অধ্যাবসায় ও নিয়মিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাবি অধিভুক্ত মেডিকেলগুলোর এবারের ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় তিনি দখল করেছেন শীর্ষ মেধাবীর স্থান।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত নভেম্বর-২০২০ এবং জানুয়ারি-২০২১ সনের পরীক্ষায় প্রথম হওয়া এ নবীন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হয় মেডিভয়েসের।

মেডিকেল শিক্ষায় ক্রমান্বয়ে নিজেকে শাণিত করার রহস্য জানানোর পাশাপাশি এবারের পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে খারাপ করা সহপাঠীদের দিয়েছেন চমৎকার পরামর্শ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: সাখাওয়াত হোসাইন।

মেডিভয়েস: আপনার অনুভূতি জানতে চাই।

ডা. সায়মুল রেজা: ফাইনাল প্রফে প্রথম হওয়ায় আমি খুবই সম্মানিতবোধ করছি। আমার কাছে খুবই ভালো লাগছে। আশপাশের মানুষরাও অনেক খুশি। সবাই আমাকে ক্ষুদেবার্তা দিচ্ছেন, মুঠোফোনে খোঁজ নিচ্ছেন। বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব সবাই খুশি। সবার খুশি দেখে নিজের কাছেও ভালো লাগছে।

মেডিভয়েস: কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে চান?

ডা. সায়মুল রেজা: এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি, যেহেতু আমার অভিজ্ঞতা এখনও কম। আমি আশা করি, ইন্টার্নশিপের সময় আমার সবগুলো বিষয়ে একটা অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে। তখন আমি বুঝতে পারবো—কোন বিষয়ে কাজ করতে বেশি ভালো লাগছে বা কোথায় কাজ করার সুযোগ বেশি, আমি কোথায় সঠিকভাবে কাজ করতে সক্ষম। সব মিলিয়ে ইন্টার্নশিপের পর বিশেষজ্ঞ হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।

মেডিভয়েস: এবারের ফাইনাল প্রফে কোনো বিষয়ে যারা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের জন্য কোনো পরামর্শ?

ডা. সায়মুল রেজা: আমি যখন ফলাফল দেখেছি, আমার বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই অপ্রত্যাশিত ফলাফল করেছেন। আসলে মেডিকেল লাইফে খারাপ করাটা অপ্রচলিত কিছু নয়। মেডিকেলে ৬০ শতাংশের নিচে পেলে ফেইল। তাই এখানে পাস করাটা খুব বেশি কঠিন। তাই মেডিকেলে খারাপ করলেও খুব বেশি হতাশ না হয়ে আস্তে আস্তে পরের ধাপে কিভাবে ভালো করা যায়; সেদিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। অপ্রত্যাশিত ফলাফল হলে খারাপ লাগবে—এটাই স্বভাবিক। মেডিকেলে পড়াশোনার শেষ নাই, ডিগ্রিরও শেষ নাই। অনেকেই ভালো পরীক্ষা দিয়েও অপ্রত্যাশিত ফলাফল করেছেন। মেডিকেল লাইফে শুরু বা শেষ বলে কোনো কথা নেই। নিয়মিতভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়, এটি ম্যারাথন টাইপের একটা জায়গা। খানিকটা আটকে যাওয়া মানে ওখানেই জীবন শেষ, এমনটা নয়। মেডিকেল হলো ধারাবাহিক একটা পথচলা। সাময়িকভাবে একটু পিছিয়ে গেলেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। একেকজনের পড়াশোনার সময় ব্যবস্থাপনা একেরকম। একজন হয়তো এটা আজকে করেছে, আরেকজন হয়তো আরেকটু পরে করতে পারবে। এটা আসলে আগে পরে করার কিছু নাই। সবাই সবার সময় মতো করতে পারবে। তাই বলবো, কেউ হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে পড়াশোনা করা উচিত।

মেডিভয়েস: করোনার বিপর্যস্ত সময়ে প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন কিভাবে?

ডা. সায়মুল রেজা: আমাদের ফাইনাল প্রফের বেশির ভাগ বিষয়ই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনাটা হাসপাতালের ওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে। করোনায় এটা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমরা দীর্ঘ সময় হাসপাতাল থেকে বাইরে ছিলাম। ফলে খুব বেশি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারিনি। সর্বশেষ ফাইনাল প্রফের রুটিনটাও আমাদের কাছে একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল। পরীক্ষাগুলোর মধ্যে শূন্যতা একদম কম ছিল। পরীক্ষা দিতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছিল। পড়াশোনার ধারাবাহিকতা অন্য সবার মতোই ছিল। মানসিক একটা চাপের মধ্যেও ছিলাম। পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে ছিল ব্যাপক অনিশ্চয়তা। করোনা পরিস্থিতিতে সবার নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের চিন্তা ছিল। আমি চেষ্টা করেছি। আল্লাহ সহযোগিতা করেছেন।

মেডিভয়েস: পরীক্ষার প্রস্তুতি ও কৌশল সম্পর্কে জানতে চাই।

ডা. সায়মুল রেজা: একেকজনের পরীক্ষার প্রস্তুতি ও দুর্বলতা একেক রকম। আমার একটা অভ্যাস ছিল, আমি কখনও ওয়ার্ড মিস দিতাম না। ক্লাস, লেকচার হারালেও চেষ্টা করতাম প্রত্যেক ওয়ার্ডে যাওয়ার। ওয়ার্ডের ক্লাসগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে করতাম। আমাদের শেষ সময়ে ব্লক পোস্টিং হয়েছিল; সেখানেও থাকার চেষ্টা করেছি। ওয়ার্ডে স্যার, মেডামদের কথাগুলো শুনলে ও সরাসরি রোগী দেখলে অনেক কিছুই সহজ হয়ে যায়। এমবিবিএসে পড়াশোনা ব্যাপক। কোথায় আমি মনোযোগ দেবো বা কোথায় বেশি গুরুত্বারোপ করবো—এ জিনিসগুলো বোঝার জন্য ওয়ার্ডে স্যার বা ম্যাডামদের কথাগুলো খুবই কার্যকরী। এটা আন্তরিকতার সাথে করার চেষ্টা করেছি। থিওরিক্যাল সব ক্লাস করতাম। আরেকটি কাজ করতাম, তাহলো: কোনো কিছু শিখতে চাইলে টেক্সট বইগুলোতে বাড়তি মনোযোগ দিতাম। এটা আমার মৌলিক বিষয়ের জ্ঞানকে এগিয়ে নিতে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি