১৭ নভেম্বর, ২০১৬ ১০:৩৪ পিএম
পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

এক মাসেও খোঁজ নেই ডাক্তার ইকবাল মাহমুদের

এক মাসেও খোঁজ নেই ডাক্তার ইকবাল মাহমুদের

 একমাসেও ডাক্তার ইকবাল মাহমুদের হদিস মেলেনি। তার খোঁজে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো আশ্বাস মিলছে না বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। 

ঘটনার ৩৩ দিনেও ছেলের সন্ধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডা. ইকবালের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নুরুল আলম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম বলেন, ডা. ইকবাল মাহমুদ লক্ষ্মীপুর থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন।

এরপর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ২৮ তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন।

ছোটবেলা থেকেই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না তিনি।

ডা. ইকবালের স্ত্রীও একজন গাইনি ডাক্তার।

তার ৯ বছরের ছেলে আনাছ এবং সাড়ে ৩ বছরের মেয়ে আশামনি রয়েছে।

বাবার ফেরার আশায় তারাও কান্না করছে।

তার মা ও পরিবারসহ এলাকার লোকজনও তার ফেরার অপেক্ষা করছেন।

সবাইকে নিয়ে ইকবাল মাহমুদ লক্ষ্মীপুরেই থাকতেন।
 

তিনি বলেন, ইকবাল মাহমুদের ছোট ভাই হাসান মাহমুদ কাঠালবাগানে থেকে পড়াশোনা করেন।

দুমাসের প্রশিক্ষণ হওয়ায় ইকবাল তার ছোট ভাইয়ের বাসায় এসে থাকতো।

গত ১৪ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে লক্ষ্মীপুর থেকে রয়েল কোচ পরিবহনের মাধ্যমে ঢাকায় এসে ধানমণ্ডি আড়ংয়ের সামনে নামেন।

তার ভাই হাসান ওই সময় তাকে আনতে আড়ংয়ের সামনে গিয়েছিল।

কিন্তু যাওয়ার দুই থেকে তিন মিনিট পূর্বে বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত একটি মাইক্রোবাসে করে ডা. ইকবালকে উঠিয়ে নিয়ে যায় বলে জানায় সেখানে থাকা রিকশাচালক ও পান দোকানদার।

পরবর্তী সময়ে তারা সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।


ডা. ইকবালের বাবা বলেন, গত ১৬ অক্টোবর ধানমণ্ডি থানায় একটি মামলা করা হয়।

সেই মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এমনকি কারা ডা. ইকবালকে নিয়ে গেছে তাও খুঁজে পায়নি পুলিশ।

সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির নম্বর ও অপহরণকারীদের সুস্পষ্ট দেখা গেলেও পুলিশ সেসবেরও কোন ক্লু বের করতে পারেনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণে দুমাসের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

২৮ তম বিসিএস এর মাধ্যমে কর্মস্থল লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চাকরি হলেও পরবর্তী সময়ে মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরে বদলি হন।

সেখান থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে এনেস্থাসিয়ার ওপর উচ্চতর কোর্স করার জন্য কুমিল্লায় বদলি হন।

মূলত সেখান থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুমাসের ট্রেনিংয়ে পাঠানো হয়।



ডা. ইকবাল মাহমুদের ছোটভাই হাসান বলেন, ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল দুই তিন মিনিটের মধ্যে বাস থেকে নামবেন।

আমি গিয়ে তাকে না পেয়ে আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, সাদা মাইক্রোবাসে কয়েকজন লোক জোর করে তাকে তুলে নিয়ে গেছে।

তবে কী কারণে এ অপহরণের ঘটনা ঘটল এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না ছোটভাই হাসান।

পুলিশের সংগ্রহ করা সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টা ১০ মিনিটে ডা. ইকবাল রয়েল কোচ পরিবহন থেকে নামে।

তার সঙ্গে আরো দুজন একই স্থানে নামে। দুজন লোক চলে যায়।

এর ২০/২৫ সেকেন্ডের মধ্যেই সাদা একটি হাইয়েস গাড়ি আস্তে এসে দাঁড়ায়।

৭ জন লোক তাকে ঘিরে ধরে।

পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুজনও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে জোর করে ধরে ওই গাড়িতে তুলে দেয়।

গাড়িটি সামনে যাওয়া শুরু করলে একটি পুলিশের ভ্যান পেছনে পেছনে যায়।

এর সঙ্গে মোটরসাইকেল আরোহী মোটরসাইকেলটি চালু করতে না পেরে ঠেলে চালু করা হয়।

অবশেষে তারাও মোটরসাইকেলে করে পিছু পিছু চলে যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, গভীরভাবে ডা. ইকবাল মাহমুদ অপহরণের ঘটনার তদন্ত চলছে।

গাড়ির নম্বর ও আসামিদের সিসিটিভি ফুটেজে অস্পষ্ট দেখায় তাদের শনাক্ত করা যায়নি।

তবে অপহরণের পর যে চারটি নম্বরে এক লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে নিয়েছে সেগুলি ধরে তদন্তকাজ চলছে।

অপহৃত গাড়ির পেছনে পুলিশ ভ্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে উপ কমিশনার বলেন, গাড়িটি ওইসময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল।

স্পেসিফিক (নির্দিষ্ট) কারণ জানা থাকলে হয়তো পুলিশের গাড়িটি সহায়তা করতে পারতো বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বার ফার্মগেট হোটেল থেকে ডিএনসিসির ডাক্তার মিথিলার বড়ভাই সাজ্জাদুর রহমানকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ওইদিন তেজগাও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করার পর নানাভাবে খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের সদস্যরা।

এখানেও মুক্তিপণ হিসেবে প্রথমে এক কোটি এবং পরে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

কোনো টাকা না পেয়ে অবশেষে ২৩ অক্টোবর রাতে দিয়াবাড়ী এলাকায় সড়কের পাশে তাকে জীবিত অবস্থায় ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। 

অন্যদিকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে পল্লবী থানাধীন মিরপুর সাড়ে ১১- এলাকা থেকে ডা. রিয়াদ নাসের চৌধুরী নামে এক ডাক্তারকে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় গণমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় হয়।

অবশেষে ১৯ অক্টোবর ডা. রিয়াদকে সেই দিয়াবাড়ী এলাকায় সড়কের পাশে গভীররাতে জীবিত অবস্থায় ফেলে দিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পুলিশ জানায়, ব্যক্তিগত এই ০১৭৭২৭৯০১৩১ নম্বর থেকে ০১৯৩৬৭০০৩৮৯, ০১৭১৬৫৫০৬৯৩, ০১৯১৩১৩৬২৪৭ এবং ০১৭৬৬৫৪৯২৮৩ -এই চারটি নম্বরে ২৫ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে পাঠানো হয়।

সেই নম্বরের ভিত্তিতে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। 

 

সৌজন্যে : যমুনা নিউজ

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি