২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৭:৩২ পিএম

নতুন নোটিসে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ-ক্ষোভ, সংশোধনের আশ্বাস কর্তৃপক্ষের

নতুন নোটিসে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ-ক্ষোভ, সংশোধনের আশ্বাস কর্তৃপক্ষের
ক্যারিঅন পদ্ধতি বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান।

মো. মনির উদ্দিনসাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার্থীদের নিজ ব্যাচের বদলে পরের ব্যাচের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জারি করা নোটিসে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, এ নোটিসে ক্যারিঅন পদ্ধতি বাতিলের ইঙ্গিত রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জীবনে পুরনো অন্ধকার নেমে আসবে।

তবে এ নোটিস দ্রুতই সংশোধনের কথা জানিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে ঢাবি মেডিসিন অনুষদ।

মে/নভেম্বর-২০ মাসের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মে-২০২১ মাসের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবে না বলে রোবববার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক নোটিসে জানায় ঢাবি।

বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সকল মেডিকেল কলেজে পাঠানো ওই নোটিসে আরও বলা হয়েছে, ‘আপনার সদয় অবগতির জন্য জানান যাইতেছে যে, ১ম ও ২য় পেশাগত যে সকল শিক্ষার্থী গত মে/নভেম্বর ২০২০ সনের পরীক্ষায় (ফেব্রুয়ারি ও মার্চ-২০২১ মাসে অনুষ্ঠিত) পাস করিয়া মে-২০২১ মাসের সাপ্লিমেন্টারী পরীক্ষায় ফরম পূরণ করিয়াছে, তাহারা এই সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবে না। আগামী নভেম্বর-২০২১ সনের নিয়মিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবে। যাহা নভেম্বর-২০২১ এ নিয়মিত পরীক্ষা হিসেবে অনুষ্ঠিত হইবে। এই সকল শিক্ষার্থীদের নভেম্বর ২০২১ এর জন্য পুনরায় ফরম পূরণের দরকার হইবে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করানোর জন্য অনুরোধ করা হইল।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাহালুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই নোটিসে প্রায় এক যুগ আগে আন্দোলনের মুখে চালু হওয়া ক্যারিঅন পদ্ধতি বাতিলের ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, নোটিসে উল্লেখিত আবেদন বাস্তবায়ন হলে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জীবনে অতীতের অন্ধকার নেমে আসবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে চালু হওয়া একটি পদ্ধতি বাতিল হলে মেডিকেল শিক্ষার জটিলতা আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।

তবে এ নোটিস দ্রুতই সংশোধন করা হবে বলে মেডিভয়েসকে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মেডিসিন অনুষদের ডিন ডা. শাহরিয়ার নবী। 

এ নিয়ে চিন্তা বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী, এক প্রফেশনাল পরীক্ষা থেকে আরেক প্রফেশনাল পরীক্ষার ন্যূনতম সময় এক বছর। নোটিসটি এই আলোকেই দেওয়া। এখানে যেহেতু করোনার কারণে সমস্যা হয়েছে, সেহেতু নোটিসের কারণে সৃষ্ট জটিলতা সমাধানের চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল সোসাইটির (বিএমডিসি) সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে। এটা সমাধানে কোনো জটিলতা দেখছি না, দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে। এটা আগামীকালই সংশোধন হতে পারে। করোনার কারণে এটি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা গত এপ্রিল মাসে অফিসিয়ালি উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলাফল যে দিন প্রকাশিত হয়েছে, সে দিন থেকে এক বছর পর তারা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। সে নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষা দিতে হলে তাদেরকে ২০২২ সালে দিতে হবে। নিয়ম তাই বলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার কারণে যেহেতু একটি বছর (২০২০ সাল) হারিয়ে গেছে, সেই বিবেচনায় তাদের সুযোগ দেওয়া হবে। চলতি বছর তারা ক্লাস করেছে, পারসেন্টেজ, ক্লাস আইটেমে যদি কোনো সমস্যা না হয়, সে ক্ষেত্রে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেছি। আইনের মারপ্যাঁচে গেলে পারা যাবে না। বিশেষ বিবেচনায় দিলেই তাদের সুযোগটা দেওয়া যাবে। সেই চেষ্টাই চলছে।’

ডা. শাহরিয়ার নবী বলেন, ‘সুতরাং শিক্ষার্থীদের এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নাই। এ সমস্যার সমাধান প্রায় হয়ে গেছে। এ সংক্রান্ত অফিসিয়াল কাগজ বের করার চেষ্টা চলছে। বিএমডিসির সঙ্গে কথা হচ্ছে। বিএমডিসিতে দুটি পদ্ধতি আছে, একটি ক্যারিঅন, আরেকটি ক্যারিঅন ছাড়া। ২০১২ সালে ক্যারিঅন চালু হয়। এ নিয়ে কথা হচ্ছে। এ ছাড়া হাইকোর্টেরও একটি নির্দেশনা আছে। ডিজি অফিসের কারিকুলাম শাখা থেকে এমনই তথ্য মিলেছে।’

►ঢাবির নোটিস

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি