১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১২:৫৫ পিএম

ট্রেনে প্রসব বেদনা: মুহূর্তে হাজির নারী চিকিৎসক, ফুটফুটে বাচ্চা প্রসব

ট্রেনে প্রসব বেদনা: মুহূর্তে হাজির নারী চিকিৎসক, ফুটফুটে বাচ্চা প্রসব
সন্তান প্রসবের পর স্বজনদের মাঝে প্রসূতি সাবিনা ইয়াসমিন (মাঝখানে স্ট্রেচারে বসা)। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সন্তান প্রসবের জন্য কুষ্টিয়া থেকে ট্রেনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রওয়ানা দেন এক প্রসূতি। খানিকটা পথ অতিক্রম করতেই শুরু হয় প্রসব বেদনা। এমনই সংকটময় মুহূর্তে কাকতালীয়ভাবে ট্রেনেই মিলে নারী চিকিৎসকের সন্ধান। নিজের কর্তব্য পালনে সামান্য কুণ্ঠাবোধ করেননি তিনি। খবর পাওয়ার সঙ্গে নির্ধারিত কামরায় গিয়ে সযত্ন পরিচর্যায় বাচ্চা প্রসবের কাজ সম্পন্ন করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে নাটোরের আব্দুলপুর স্টেশনের কাছে ওই প্রসূতি সন্তান প্রসব করেন।

সূত্রে জানা যায়, সন্তান প্রসবের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওয়ানা দেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন।

রাত আটটার দিকে ভেড়ামারা স্টেশনে খুলনা ছেড়ে আসা সাগরদাড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ছ’ বগিতে ওঠেন। এর পরপরই তার প্রসব বেদনা শুরু হয়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি জানতে পারেন ট্রেনের কন্ডাক্টিং গার্ড রুবায়েত হাসান। তিনি বিষয়টি গার্ড ইনচার্জ আজিমুল হোসেনকে জানালে ট্রেনের মাইকে সন্তান প্রসবের ব্যাপারে সাহায্য কামনা করা হয়।

মাইকে ঘোষণা শুনে একজন নারী চিকিৎসক তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত কামরায় উপস্থিত হয়ে যান। সযত্ন পরিচর্যায় সম্পন্ন করেন বাচ্চা প্রসবের কাজ।

ফারজানা তাসনীম নামে ওই মানবিক চিকিৎসক বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। এরপর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আরবান হেলথ কেয়ারে চাকরি করেছেন।

৪২তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী সার্জন হিসেবে এখন সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ডা. ফারজানা তাসনীম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ওখানে যাওয়ার পর ২/১ জন নারীর সহযোগিতা পেয়েছি আমি, যারা আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন। আমি চিকিৎসক পরিচয় দেওয়ার পর গ্লাভস, ব্লেড ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে তারা আমাকে বলেন, ম্যাডাম বিষয়টি আপনি দেখলে ভালো হয়। পরে আমি প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করি। এরই মধ্যে ট্রেন রাজশাহী পৌঁছে যায়। ওই সময় পর্যন্ত মা ও নবজাতক ভালো ছিল। পরে আমি স্বজনদের তাদেরকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি।’

এজন্য কোনো কৃতিত্ব নিতে নারাজ ওই প্রচারবিমুখ চিকিৎসক আরও বলেন, ‘আমি কতটুকু কি করেছি, সেটা বলতে চাই না। একজন চিকিৎসক হিসেবে কাজটা করতে পেরেছি, সেটাই আমার প্রাপ্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন চিকিৎসকের জন্য এটি অভাবনীয় সুন্দর অভিজ্ঞতা। এমন সহযোগিতায় যুক্ত হতে পেরে আমি সত্যিই সুখী। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চেষ্টা করেছি। নিঃসন্দেহে এটা আমার দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে। মা ও নবজাতক ভালো থাকলেই আমি খুশি।’

ডা. ফারজানার পিতা গণপূর্ত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সোলায়মান আলী। মেয়ের এই মানবিক সেবায় মুগ্ধ ও গর্বিত। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি