১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:৩২ এএম

১৮ মাস পর খুললো স্কুল-কলেজ, কাল খুলছে মেডিকেলগুলো

১৮ মাস পর খুললো স্কুল-কলেজ, কাল খুলছে মেডিকেলগুলো
স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

মেডিভয়েস রিপোর্টি: দীর্ঘ ১৮ মাস পর আজ রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) খুলেছে করোনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষার্থীরা ফিরেছে আপন ঠিকানায়। তাদের পদচারণায় মুখরিত প্রতিটি ক্যাম্পাস। প্রথম ধাপে আজ খুলেছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্তরের প্রতিষ্ঠান।

আর আগামীকাল খুলে দেওয়া হবে দেশের সকল মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলো।

শারীরিক উপস্থিতিতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগে থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করার নির্দেশনা ছিল। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। শ্রেণি কার্যক্রম প্রস্তুতি ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বরণ করতে সাজানো হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শ্রেণিকক্ষ।

রোববার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের আগমন উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসবের বিরাজ করছে। বিশেষ করে দুই শিফটের স্কুলগুলোতে সকাল ৮টার আগেই শিক্ষার্থীরা নতুন স্কুল ড্রেস পরে অভিভাবকের হাত ধরে উপস্থিত হতে দেখা গেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্দেশনা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুটি শ্রেণির পাঠদান অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী একটি রুটিনও প্রণয়ন করা হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী, আজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।

সাত নির্দেশনা মেনে মেডিকেলের ক্লাস কাল

এদিকে সাত নির্দেশনা মেনে আগামীকাল সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) খুলছে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলো। সশরীরে ক্লাস শুরুর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত নির্দেশনাসমূহ প্রতিপালন করতে বলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এগুলো হলো:

ক. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষার্থী হোস্টেল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ক্লাস শুরুর ৩ (তিন) দিন পূর্বে খুলে দিতে হবে;

খ. সশরীরে ক্লাস পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে;

গ. শিক্ষার্থীদেরকে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং স্বাস্থ্যবিধির উপকরণসমূহ সহজলভ্যের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

ঘ. ক্লাস শুরু করার ক্ষেত্রে শুরুতে ক্লাসের সংখ্যা ও সময় কম রাখা যেতে পারে;

ঙ. সশরীরে উপস্থিতির পাশাপাশি অনলাইনে ক্লাস চলমান থাকবে;

চ. মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর মেডিকেল কলেজ ও অন্যান্য চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার পূর্বে একটি গাইডলাইন পুস্তিকা আকারে প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট প্রেরণ করবেন এবং

ছ. অধ্যক্ষগণ সশরীরে ক্লাস পরিচালনা কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। এক মাসের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অন্যান্য সেশনের ক্লাস শুরুর বিষয়ে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

শিখন ঘাটতি পূরণে তাড়াহুড়ো নয় 

স্কুল-কলেজ খোলার পর ১৮ মাসের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য হয়ে উঠবে ঝুকিঁপূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চাইল্ড অ্যাডোলেসেন্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রির সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দুই কোটি ৭৫ লাখ শিক্ষার্থী এই ১৭ মাস ঘরেই ছিল, হঠাৎ করে তাদের সেই পুরোনো স্কুলের নিয়মে ফিরে গেলে হোঁচট খেতে হবে, তাদের মনের উপর চাপ পড়বে। অভিভাবক, শিক্ষার্থী এমনকি শিক্ষকদের অধীরতা আমরা বুঝতে পারি, কিন্তু তাড়াহুড়োর কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে করোনা চলে যায়নি, স্কুল খুলছে ঠিকই; কিন্তু তা শতভাগ আগের মতো নয়। স্কুল-কলেজ খোলার অর্থ এই নয় যে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট দৌড় দিয়ে সব শিখন ঘাটতি একবারে পুষিয়ে নিতে হবে। এমনটা করতে গেলে শিক্ষার্থীদের মনের উপর চাপ পড়বে, তারা তড়িঘড়ি করে সব কিছু একবারে পূরণ করতে চাইবে, যখন সেটা পারবে না তখন উদ্বিগ্নতায় ভুগবে। বাবা-মায়েরা সব ঘাটতি পুষিয়ে নিতে তাদের উপর টার্গেট চাপিয়ে দিবেন। স্কুল, কোচিং, আর 'হতেই হবে', 'পেতেই হবে'র চাপে তাদের জীবন জেরবার হয়ে যাবে।

এজন্য আমাদের যেটা মনে রাখতে হবে,

১. স্কুল কলেজ খোলার প্রক্রিয়াটি সফট ল্যান্ডিংয়ে হতে হবে। তারাহুড়ো করা যাবে না। এটি ১০০ মিটার দৌড় নয়, এটা অনেক লম্বা ম্যারাথন।

২. প্রথম কয়েক মাস শিখন ঘাটতি পূরণের দিকে মনোযোগ না দিয়ে স্কুলে স্বাস্থ্যবিধি, মাউশির নির্দেশনা পালন এগুলোর দিকে জোর দিতে হবে।

৩. একদিনে সব শিখিয়ে দিবো, একদিনে সব পড়িয়ে ঘাটতি পূরণ করে দিবো—এই মনোভাব থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বের হয়ে আসতে হবে।

৪. আমার সন্তান পিছিয়ে পড়েছে, দ্বিগুণ গতিতে দৌড় দিয়ে তাকে এগিয়ে যেতে হবে—এই মানসিকতা থেকে অভিভাবকদের সরে আসতে হবে।

৫. গণমাধ্যমকে জোর দিয়ে প্রচার করতে হবে, স্কুল খোলার প্রাথমিক উদ্দেশ্য এই মুহূর্তে শিখন ঘাটতি পূরণ নয়; এখন স্কুল খোলার মূল উদ্দেশ্য অতিমারির সময়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কিভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্কুল কলেজ চালু রাখা যায় সেটার প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে।

করোনা ভাইরাসের অতিমারি কিন্তু চলে যায়নি। এটা আছে। কতদিন থাকবে সেটা অজানা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে লাগসই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আর এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য কখনোই দ্রুত শিখন ঘাটতি পূরণ করা নয়। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি