১৬ নভেম্বর, ২০১৬ ১১:৫৮ এএম

অনুকরণীয় ‘ডা. শেখ ইউনুস আলী’

অনুকরণীয় ‘ডা. শেখ ইউনুস আলী’

দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের মানুষের মাঝে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ‘একজন সাদা মনের মানুষ’ অধ্যাপক এমিরিটাস ডা. শেখ ইউনুস আলী।

শুধু চিকিৎসা পেশায় নয়, ডা. শেখ ইউনুস আলী সমাজসেবায়ও অবদান রেখে চলেছেন সমানভাবে।

সমাজসেবায় অবদানের জন্য পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। ফরিদপুরে জন্ম না হলেও ফরিদপুরবাসীকে বেশ আপন করে নিয়েছেন তিনি।

তার ছোঁয়ায় ফরিদপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পেয়েছে আলোর দিশা। ‘রোগীদের আপনজন খ্যাত’ এ ব্যক্তিটি মানুষের জন্য এখনো নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

চিকিৎসা সেবায় তিনি বিশেষ সুনাম অর্জন করে দেশের চিকিৎসকদের জন্য গৌরবজনক সম্মান বয়ে এনেছেন।

ছোটকাল থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার লক্ষ্যই ছিল তার। এজন্য চিকিৎসক হবার স্বপ্ন ছিল চোখে মুখে। চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে মানুষের সেবা করাটাই ছিল তার লক্ষ্য।

তার এই অদম্য ইচ্ছেটা পূরন হয়েছে।

 

জন্ম ও বেড়ে ওঠা : 

মেরিন একাডেমীতে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ভর্তি হননি। ইচ্ছে ছিল চিকিৎসক হবার সেটার জন্যই লড়েছেন। সফলও হয়েছেন। বর্তমানে তিনি দেশসেরা একজন হৃদরোগ চিকিৎসক।

অধ্যাপক এমিরিটাস ডা. শেখ ইউনুস আলীর জন্ম ১৯৫৭ সালের ১লা অক্টোবর। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার ছায়াঘেরা, পাখিডাকা শাহপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।

খুলনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম ইমান আলী শেখের ৮ ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

ছোটবেলা কেটেছে নিজ জন্মভুমি খুলনাতে। ১৯৭৩ সালে শাহপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৫ সালে খুলনা সরকারী বজ্রলাল কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন কৃতিত্বের সাথে।

১৯৮২ সালে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এম.বি.বি.এস ডিগ্রী লাভ করেন।

পরে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে তিনি সুনামের সাথে কাজ করেছেন।

১৯৯৩ সালে তিনি জাতীয় বক্ষব্যাধী হাসপাতাল ও শিক্ষায়তন মহাখালী, ঢাকা থেকে বক্ষব্যাধীর উপর ডি.টি.সি.ডি ডিগ্রী লাভ করেন।

২০০০ সালে ঢাকাস্থ জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল ও শিক্ষায়তন থেকে এম.ডি (কার্ডিওলজি) ডিগ্রী লাভ করেন।

২০১৩ সালে আমেরিকার পেনসালভিয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে পি.এই.ডি (কার্ডিওলজি) ডিগ্রী অর্জন করেন।

২০১৫ সালে হৃদরোগ চিকিৎসায় অনন্য অবদানের জন্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যামেরিকান গ্লোবাল ইনিসিয়েটিভ (ইউ.এ.জি.আই) অ্যারিজেনো, নিউইয়র্ক থেকে প্রফেসর অব অ্যামিরির্টাস খেতাবে ভুষিত হন।

যা দেশের চিকিৎসকদের মাঝে সম্মান বয়ে আনে।

দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত তিনি ফরিদপুরের মানুষের মাঝে সুনামের সাথে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপকের দায়িত্বে ছিলেন ২০১২ সাল পর্যন্ত।

বর্তমানে তিনি ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।

 

স্মরণীয় ঘটনা: 

২০১০ সালের একটি ঘটনা এখনো তাকে বেশ নাড়া দেয় বলে জানালেন তিনি।

একজন রোগী আসেন তার কাছে। রুগীটির মারা যাবার সম্ভবনা ছিল প্রবল।

হার্টের বাইরে পানি জমেছিল। অসম্ভবকে সম্ভব করে সেই পানি বের করে রোগীকে একেবারেই সুস্থ্য করেছিলেন।

সেটিই তার জীবনের বড় একটি সাফল্য বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া অনেক রোগীকে তিনি চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ্য করেছেন।

সমাজসেবা :  

চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সমাজসেবায়ও করে যাচ্ছেন।

এর স্বীকৃতি স্বরুপ ২০১৬ সালে পেয়েছেন ‘মাদার তেরেসা’ পুরস্কার। অধ্যাপক এমিরিটাস ডা. শেখ ইউনুস আলী একজন সফল রোটারিয়ান।

রোটারী ক্লাব অব ফরিদপুর নিউ টাউনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

রোটারীয়ান হিসাবে তিনি বিভিন্ন সময় অগনিত মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তার কাছে কেউ কখনো খালী হাতে ফিরে যাননি।

অসহায়, দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করছেন বিভিন্ন ভাবে।

তিনি তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তিনজন গরীব অথচ মেধাবী ছাত্রকে প্রতিমাসে পড়ালেখা বাবদ ছয় হাজার টাকা দান করছেন।

এছাড়া রোটারীর মাধ্যমে অনেক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন।

লেখালেখির প্রতিও রয়েছে তার প্রবল আগ্রহ। জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে বেশকিছু প্রকাশনা রয়েছে তার।

লেখালেখিতেও তিনি প্রচুর সুনাম অর্জন করেছেন। বিদেশ ভ্রমন তার অন্যতম সখ হলেও গানশোনা, রান্না করা, ছবি আঁকা তার প্রিয়।

সবসময় হাসিখুশি থাকা এ ব্যক্তিটি মানুষের কল্যানের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন তিনি।

ঘুমানো বাদে যতটুকু অবসর সময় পান ততটুকু সময় বিভিন্ন কাজে ব্যয় করেন।

কঠোর পরিশ্রমই সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করেন তিনি। তাই সময় পেলেই সমাজের কল্যানে নেমে পড়েন।

সমাজসেবামূলক একাধিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন।

আজীবন সদস্য হয়েছেন বিএমএ, ফরিদপুর শাখা, বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি, চেস্ট এন্ড হার্ট এসোসিয়েশন, এ্যাজমা এসোসিয়েশন, ইউরোপীয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি, সন্ধানী ডোনার ক্লাব, ফরিদপুর, ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন, আমেরিকার ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের।

বিবাহিত জীবনে ডা. শেখ ইউনুস আলী এক মেয়ে ও দুই ছেলের গর্বিত জনক। মেয়েটি বাবার মতো চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

সে বর্তমানে ঢাকাস্থ ল্যাব এইড হাসপাতালে গাইনি ও অবস বিভাগে কর্মরত রয়েছে। তার স্ত্রী বেগম রওশন আরাও একজন দেশের সুনামধন্য চিকিৎসক।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রওশন আরা বর্তমানে খুলনা মেটারনিটি ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সেন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন।

চিকিৎসা সেবায় অসামান্য অবদানের জন্য ডা. রওশন আরা দুইবার ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

ডা. শেখ ইউনুস আলী জানান, তিনি মানুষের জন্য সেবা করে যাচ্ছেন, যতদিন দেহে প্রান থাকবে ততদিন পর্যন্ত তিনি সমাজের অবহেলিত মানুষের সেবায় কাজ করে যাবেন।

নিজে সৎ থাকতে পছন্দ করেন এবং অন্যকে সৎ থাকার পরামর্শ দেন।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. শেখ ইউনুস আলী জানান, সৃষ্টিকর্তার আরাধনার পাশাপাশি সৃষ্টির সেরা জীবকে ভালোবাসা এবং সেবার মধ্য দিয়েই সৃষ্টিকর্তার করুনা পাওয়া যায়।

একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের সেবা করার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবো।

 

করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

এক বছর প্রয়োগ হবে সেনা সদস্যদের দেহে

চীনে করোনার প্রথম ভ্যাকসিন অনুমোদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত