১৫ অগাস্ট, ২০২১ ০২:১৬ পিএম

হোমিও-ইউনানি ডিগ্রিধারীদের নিয়ে রায়, যা বললেন রিটকারী আইনজীবী  

হোমিও-ইউনানি ডিগ্রিধারীদের নিয়ে রায়, যা বললেন রিটকারী আইনজীবী  
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: হোমিওপ্যাথি বোর্ডের অধীনে হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রিধারীদের ডাক্তার পদবি ব্যবহার বেআইনি উল্লেখ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেছেন রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তিনি বলেন, এখানে স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে, বিকল্পধারার ডিগ্রিধারীরা ডা. লিখতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে কি লিখতে পারবেন, তার বাস্তবিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ব্যারিস্টার রাশনা বলেন, ‘গত বছরের ১৯ নভেম্বর বিকল্পধারার চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে একটি রিট করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ থেকে একটি ঐতিহাসিক রায় আমরা পেয়েছি। বিকল্প ধারার চিকিৎসকদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ন্যাশনাল মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পক্ষে রিটটি করা হয়। আমি আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী। রায়ে রুলটা খারিজ করা হয়েছে। কিন্তু বেশ কিছু ফাইন্ডিংস এবং পরামর্শ এসেছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘রায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কারা নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবেন। বিষয়টি বহুল আলোচিত এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিএমডিসির ২০১০ এর আইনে স্পষ্ট করে লেখা আছে, বিএমডিসির রেজিস্ট্রার্ড মেডিকেল বা ডেন্টাল প্রাকটিশনার ছাড়া অন্য কেউ ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবে না। রায়ে এটি স্পষ্ট করে বলা আছে। সুতরাং হোমিওপ্যাথ, আয়ুর্বেদ, ইউনানীসহ অন্যান্য বিকল্পধারার কেউ ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না।’ 

ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, এসব ডিগ্রিধারীরা কী ব্যবহার করতে পারবেন, এ ব্যাপারে চারটি বিকল্প পদবি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে আদালত। রায়ে বলা হয়, বিকল্পধারার চিকিৎসা পদ্ধতির পেশাধারীরা নামের আগে ইন্ট্রিগ্রেটেড ফিজিশিয়ান (Integrated Physician), কমপ্লিমেন্টারি ফিজিশিয়ান (Complementary Physician), ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিন প্র্যাকটিশনার (Integrated Medicine Practitioner) এবং কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন প্র্যাকটিশনার (Complementary Medicine Practitioner) পদবি ব্যবহার করতে পারেন। 

রায়ে আরও বলা আছে, সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে, বিকল্পধারার চিকিৎসার জন্য একটি আইনি অবকাঠামো প্রস্তুত করা।

রায়ের পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিকল্পধারার চিকিৎসা পদ্ধতি হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ ও ইউনানী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। পাঁচ হাজার বছর বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের বিকল্প ধারার চিকিৎসা চলছে। এটার একটি তালিকাও রায়ে দেওয়া হয়েছে। আকুপ্রেসার, আকুপাংচার, ফিজিওথেরাপি—এ ধরনের অতিপরিচিত বিকল্পধারার কথা রয়েছে এখানে। 

তিনি দাবি করেন, বিশ্বব্যাপী বিকল্পধারার এ চিকিৎসায় আইনি স্বীকৃতি মিলছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ সুযোগ বাড়ছে, কমছে না।

এ সংক্রান্ত পরামর্শে আদালত বলেছে, প্রয়োজনে বিকল্প ধারার চিকিৎসা পদ্ধতির আলাদা মন্ত্রণালয় তথা ‘মিনিস্ট্রি অব আয়ুশ গভর্নম্যান্ট অব ইন্ডিয়ার’ আদলে বাংলাদেশে আলাদা মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা। তাদের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, তাদের সেবার মান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের সমন্বিত কনফারেন্সের স্লোগান ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’র আলোকে আইন ও নীতিমাল প্রণয়ন করতে হবে। কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে, যাতে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য সেবা প্রদান ও সবার জন্য সেবা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত হয়।

ব্যারিস্টার রাশনা বলেন, বিকল্প ধারার আইনি অবকাঠামো তৈরি করার সময় ‘পেশেন্ট সেন্টার কেয়ার’ নামে আন্তর্জাতিক নীতিমালার অনুসরণ করার পরামর্শ দেয় আদালত।

রায়ের আরেকটি দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও বিকল্পধারার চিকিৎসার প্রাকটিসের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নাই। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ এবং ৪০ কে কোড মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার আছে, তারা প্রচলিত ধারার চিকিৎসক হবেন নাকি বিকল্প ধারার। কিংবা নাগরিকরা কী ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। এটা প্রচলিত হতে পারে কিংবা বিকল্প ধারার।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের অধীনে হোমিওপ্যাথিক ও ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রিধারী কোনো ব্যক্তি নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না বলে রায় নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে এসব বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (১৪ আগস্ট) বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৭১ পৃষ্ঠার রায়ে নামের পূর্বে ডাক্তার শব্দ ব্যবহারের নির্দেশনা চেয়ে দায়ে করা হোমিওপ্যাথি বোর্ড থেকে ডিগ্রিধারীদের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলও খারিজ করে দেওয়া হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট খোন্দকার নীলিমা ইয়াসমিন ও অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান। অপরপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি