১৪ নভেম্বর, ২০১৬ ০৩:৩৭ পিএম

চিকিৎসাধীন সাঁওতালের হাতকড়া খোলার নির্দেশ হাইকোর্টের

চিকিৎসাধীন সাঁওতালের হাতকড়া খোলার নির্দেশ হাইকোর্টের

চিকিৎসাধীন তিন সাঁওতালের হাতকড়া তাৎক্ষণিক খুলে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট​ বেঞ্চ আজ সোমবার এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের প্রতি ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে ওই তিন কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতকড়া পরানো কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও গাইবান্ধা পুলিশ সুপার—এই পাঁচজনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকার সাঁওতাল-অধ্যুষিত মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের ওই সংঘর্ষ হয়। রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হন চরণ সরেন, বিমল কিছকু ও দ্বিজেন টুডু।

পরে তাঁদের আটক করে হাতকড়া পরিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাতকড়া পরা অবস্থায় চিকিৎসাধীন তিন সাঁওতালকে নিয়ে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়। আদালতে রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। আদালতে তিনি নিজেই শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, আহত তিনজনের মধ্যে দ্বিজেন টুডু ঢাকা চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে; চরণ সরেন, বিমল কিছকু রংপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন। তাঁরা গুলিতে আহত হয়েছেন। শারীরিকভাবে নিজেরা চলতে অক্ষম। তাঁদের পালানোর কোনো আশঙ্কা নেই। এভাবে হাতকড়া লাগানো মানবাধিকার লঙ্ঘন। এসব যুক্তিতে রিটটি করা হলে আদালত ওই আদেশ দেন।

সৌজন্যে: প্রথম আলো

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি