১৩ নভেম্বর, ২০১৬ ১০:১৪ এএম

বারাক ওবামার স্বাস্থ্যনীতি আংশিক রাখবেন ট্রাম্প

বারাক ওবামার স্বাস্থ্যনীতি আংশিক রাখবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিজয়ী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আলোচিত স্বাস্থ্যনীতির কিছু অংশ বহাল রাখার কথা ভাবছেন। ট্রাম্প নিজেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ওয়ালস্ট্রিট জার্নালকে এ কথা জানিয়েছেন। ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিতি পাওয়া ওই স্বাস্থ্যনীতির ভালোমন্দ নিয়ে কয়েক বছর ধরেই পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প আগে এর সমালোচনা করে নির্বাচনে জিতলে বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

মার্কিন কংগ্রেসে ২০১০ সালে পাস হওয়া এই স্বাস্থ্যনীতি বারাক ওবামার অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক অবদান। দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।

ওয়ালস্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প বলেছেন, ওবামাকেয়ারে বিমা-পূর্ব অসুস্থতার জন্য রোগীকে বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা দিতে অপারগতার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা তিনি সমর্থন করেন। সেই সঙ্গে মা-বাবার বিমার আওতায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও বিমা করার যে সুযোগ ওবামাকেয়ারে রাখা হয়েছে, তা-ও পছন্দ করেন তিনি।

সংবাদপত্রটিকে ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে গত বৃহস্পতিবার ওবামার সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকে তিনি অবস্থান পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। বিদায়ী প্রেসিডেন্টকে এ ব্যাপারে আশ্বাসও দিয়েছেন।

টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএসকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ওবামাকেয়ারের ‘যে অংশটুকু তিনি বজায় রাখতে চান’, তা ‘সত্যিকার অর্থেই দেশের সম্পদ’। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য কম খরচে আরও ভালো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিলটি খুব সম্ভবত সংস্কার করা হবে।

হিলারির বিরুদ্ধে তদন্ত নিয়ে: ই-মেইল ইস্যুতে হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি, সীমান্তে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সমস্যাগুলোর সমাধান এবং কর-ব্যবস্থা সংস্কার করতে চাই। এসব নিয়েই বেশি ভাবছি। ওই বিষয়টা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করিনি।’ প্রচারণার সময় ই-মেইল ইস্যুতে ডেমোক্রেটিক পার্টির পরাজিত প্রার্থী হিলারির বিরুদ্ধে তদন্ত করার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে এ তদন্তের জন্য বিশেষ আইনজীবী নিয়োগ করে হিলারিকে জেলে ভরার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি।

সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারির স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পরামর্শ চাইবেন বলে ভাবছেন।

হোয়াইট হাউসে ওবামার সঙ্গে সাক্ষাতের পরও ট্রাম্প এ ধরনের কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন, ওবামা ‘খুব ভালো মানুষ’ এবং দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর পরামর্শ চাইবেন। বিল ক্লিনটন সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন,

‘তিনি অত্যন্ত প্রতিভাবান। আমি আক্ষরিক অর্থেই বলছি, এই (ক্লিনটন) পরিবার অত্যন্ত প্রতিভাবান।’

নির্বাচনের ফলাফল প্রায় নিশ্চিত হওয়ার পর হিলারির টেলিফোন সম্পর্কে ট্রাম্প সিবিএসকে বলেন, ‘ওই ফোনকলটা ছিল চমৎকার, তবে তাঁর জন্য বেদনার। আমি তা বুঝি। আমি হারলেও হয়তো এতটা কষ্ট হতো না। আমি বলতে চাইছি, পরাজিত হলে তা আমার জন্য খুবই কঠিন হতো। কিন্তু তিনি সুন্দরভাবে আমাকে বললেন, “অভিনন্দন ডোনাল্ড, ভালো করেছেন”।’

ক্ষমতা হস্তান্তরকালীন দলে পরিবার: এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল শনিবারও ক্ষমতা হস্তান্তরকালীন দলের সদস্যদের বাছাই নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে ট্রাম্পকে। এ দল বাছাইয়ের ভার দেওয়া হয়েছে নির্বাচনে তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মাইক পেন্সকে।

নতুন মন্ত্রিসভা গঠন সহজ করতে নিজের তিন সন্তান ও মেয়েজামাই জারেড কুশনারকেও সদস্য বাছাইয়ের কাজে সংশ্লিষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তাঁর এ পদক্ষেপে অনেকেই অবাক হয়েছেন। কারণ এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ব্যবসার ভার তিন সন্তান ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, এরিক ট্রাম্প ও ইভানকা ট্রাম্পের ওপর ছেড়ে দেবেন।

তাঁরা যে সরকারেও যুক্ত থাকবেন, তার ইঙ্গিত এর আগে কখনোই তিনি দেননি।সৌজন্যে:প্রথম আলো

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত