০৩ জুলাই, ২০২১ ০৫:৫০ পিএম

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট: নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা-জনসম্পৃক্ততা চান বিশেষজ্ঞরা

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট: নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা-জনসম্পৃক্ততা চান বিশেষজ্ঞরা
প্রতীকী ছবি

মো. মনির উদ্দিন: করোনাভাইরাসে নতুন ধরন ডেল্টা সংক্রমণে ধুঁকছে সারাবিশ্ব। এরই মধ্যে শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুত সংক্রমণশীল এ ধরনটি। উৎপত্তিস্থল ভারত এ থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পেয়েছে। তবে সেখান থেকে ফেরা সংক্রমিতদের মাধ্যমে বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। শুরুর দিকে দেশের সীমান্তবর্তী কয়েক জেলায় হানা দিলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে সারাদেশে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ভ্যারিয়েন্টটি। 

শক্তিশালী এ ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে কোভিড-১৯-সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির শাটডাউনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ জুলাই থেকে সারাদেশে কঠোর লকডাউন চলছে। আগামী ৭ জুলাই রাত ১২ পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। 

তবে লকডাউন উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের রাস্তায় নেমে আসাসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যাপক অসতর্কতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এ অবস্থায় করোনার নতুন ধরন সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করা এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অভ্যস্ত করে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে করোনা প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারা বলেন, তা না হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ দুরূহ হবে। 

জনসম্পৃক্ততায় স্থায়ী সমাধান 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান মেডিভয়েসকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি যেভাবে বাড়ছে, এটা কত দিনে শেষ হবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আমরা এটা নিয়ে বিশ্লেষণের পাশাপাশি মানুষকে সতর্ক করার চেষ্টা করছি, সে সুবাদে মনে হয়েছে—এটা নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করাই হলো প্রধান কাজ। তাদের সহযোগিতা পুরোপুরি পাওয়া না গেলে করোনা মোকাবিলা কঠিন হবে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা যেমন আছে তা যথেষ্ট। এখানে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থাও হয়ে যাচ্ছে। এটা দিতে পারলে মানুষ অনেকাংশ ঝুঁকিমুক্ত হয়ে যায়। এরপরও নতুন ভ্যারিয়েন্টে হয় তো নতুন সমস্যা হতে পারে। সে কারণে আমাদের স্থায়ী সমাধান হলো জনগণকে সম্পৃক্ত করা। তারা বেশ সচেতন, কিন্তু নানা কারণে তারা এতে সম্পৃক্ত হতে পারছেন না। তারা যখন স্বাস্থ্যবিধিতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে, তখনই এর স্থায়ী সমাধান হবে। এর অভাবে কোনো প্রচেষ্টাই কাজে দিচ্ছে না। এই কাজটা করা উচিত। কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করে করে এ কাজ সম্পাদন হবে না। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে, তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যখনই পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যাবে, তখনই একটি স্থায়ী সমাধান হবে।

স্বাস্থ্যবিধিতে জনসাধারণের অভ্যস্ততা জরুরি 

জনসম্পৃক্ততায় রাষ্ট্র কোন কোন উপায়ে ভূমিকা রাখতে পারে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ জন্য জনপ্রতিধিদের মুখ্য ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এতে জনগণের একটি অংশ স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদ্বুদ্ধ হবেন। এ ছাড়াও শিক্ষার্থী, যুবক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, মসজিদের ইমাম এবং শিক্ষক—তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই এ কাজটি করতে হবে। তারা যখন জনগণের সঙ্গে কথা বলবেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবেন, তখন একটি ভালো ফল আসবে। এতে এটি তখন চূড়ান্তভাবে সামাজি আন্দোলনে পরিণত হবে। একের পর এক করোনার ঢেউ আসছে, কোনো কোনো দেশে তৃতীয় ঢেউও চলে গেছে। ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বড় বড় সক্ষম দেশগুলোতে নতুন করে আসছে। সে কারণে এটা কতদূর দেশকে নিয়ে যাবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় গুরুত্বারোপ

চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, ‘তারা লড়াই করছেন, আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সুতরাং কর্মস্থলে তাদের নিরাপত্তা, তাদের প্রয়োজনীয় পিপিই, সুযোগ-সুবিধাগুলো যেন চিকিৎসার স্বার্থেই যথাসময়ে সরবরাহ করা হয়। একই সঙ্গে তাদেরকে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা যেন জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ মেডিভয়েসকে বলেন, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পৃথিবীর একশ’ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মূল কারণই হলো এটি দ্রুত ছড়ায়। সেই সঙ্গে ডেল্টা প্লাস, সেটাও ছড়ায়। কখনো লক্ষণ বোঝা যায়, কখনো শরীর খারাপ না হলে বোঝা যায় না।

হঠাৎ করে রোগীর শ্বাস কষ্ট, বুকে ব্যথা, সর্দি, কাশি, জ্বর—এগুলো শুরু হয়। এ অবস্থায় তাড়াতাড়ি হাসপাতালে না নিয়ে গেলে এবং আইসিইউ না দিলে রোগী মারা যায়। আস্তে আস্তে এটা গ্রামে-গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রতিরোধেই সুরক্ষা

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, এ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো জনগণের সুন্দরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। ঘনঘন হাত ধোয়া, মাস্ক পড়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। এ থেকে বাঁচার একটাই উপায় হলো—প্রতিকার-প্রতিরোধ। এজন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে, দায়িত্বশীল হতে হবে। তা না হলে ঝুঁকি বাড়বে এবং টিকা যখনই আসে সবাই যেন টিকা নিয়ে নেয়, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা রোগীর কাছে যাচ্ছেন, চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা খুবই জরুরি। তারা পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস—এসব যেন সময় মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে পান। তাদের তো কায়ারেন্টাইনে থাকতে হয়, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। কাজ করে তাঁকে আবার ঘরে যেতে হয়, বাইরে গেলে তার মাধ্যমে ঘরে ছড়াতে পারে এটি। তিনি আক্রান্ত হয়ে গেলে আরও মুশকিল, কারণ রোগীরাও তখন হুমকিতে পড়বেন। তাই চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, তাদের সুরক্ষা খুবই জরুরি। তাই তাদের নিরাপত্তায় যা যা নেওয়া দরকার, তার সবই নিতে হবে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি