ডা. বাহারুল আলম

ডা. বাহারুল আলম

প্রখ্যাত পেশাজীবী নেতা


০২ জুলাই, ২০২১ ০৯:১৭ পিএম

জুনিয়র কনসালটেন্ট নিয়োগ: অ্যানেস্থেসিওলজিতে পোস্ট গ্রাজুয়েট চিকিৎসকরা বঞ্চিত হবেন

জুনিয়র কনসালটেন্ট নিয়োগ: অ্যানেস্থেসিওলজিতে পোস্ট গ্রাজুয়েট চিকিৎসকরা বঞ্চিত হবেন
ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা নাই চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় সংখ্যা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে নিয়োগের জন্য প্রেরণ করা। এ বিষয়ে সর্বময় দায়িত্ব পালন করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কি কোন ভয়েস নাই? তার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কত পদ সৃষ্টি করতে হবে, চিকিৎসকসহ কত জনবল নিয়োগ দিতে হবে, অর্থ মন্ত্রণালয় হতে অর্থের যোগান পাওয়ার অনুমতি সাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়ার যোগ্যতা ও ক্ষমতা থাকবে না–এ কি ধরনের রাষ্ট্রীয় বিধি? জনবল লাগবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের, নিয়োগ দেবে অন্য মন্ত্রণালয়! কাদের কারণে ও কাদের স্বার্থে পাকিস্তানি মার্কা সিএসপি নিয়োগের বিধি স্বাধীন বাংলাদেশে এখনও বলবত আছে?

ভয়াবহ করোনা অতিমারীর সময়ে ৪০৯ জন জুনিয়র কনসাল্টেন্ট অ্যানেস্থেসিওলজি নিয়োগের যে সিদ্ধান্তের কথা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়েও যথেষ্ট সমালোচনার দাবি রাখে। যেমন: জুনিয়র কনসালটেন্ট ও সহকারী অধ্যাপক পদ সাধারণত পোস্ট গ্রাজুয়েশন পরবর্তী পদোন্নতি দেওয়ার জন্য সৃষ্ট। এসব পদে পদোন্নতি প্রত্যাশী অনেক চিকিৎসক পোস্ট গ্রাজুয়েশন করে উপজেলা, জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন কর্মরত আছেন। তাদের পদোন্নতি দিলেই জুনিয়র কনসালটেন্টের প্রয়োজনীয়তা মিটে যায়। ওই সকল শূন্য পদের বিপরীতে নিয়মমাফিক কর্ম কমিশনের মাধ্যমে গ্রাজুয়েট চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে এবং তাদের দ্রুত অ্যানেস্থেসিওলজির উপর প্রশিক্ষণ ও পরবর্তী পোস্ট  গ্রাজুয়েশন করার সুযোগ করে দিলে এ অভাব মিটে যায়। আলাদা করে বিসিএস নিয়োগ বিধিমালা ১৯৮১ সংশোধন করার প্রয়োজন নাই। অতীতে বহুবার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হয়েছে, আমলাতান্ত্রিক চক্রে পড়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই এখন অ্যানেস্থেসিওলজিতে চিকিৎসক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। 

বেসরকারি পর্যায়ে অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের সংখ্যা খুব নগণ্য, যাদেরকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে। কেবল সে কয়জন চিকিৎসকের জন্য বিধিমালা সংশোধন প্রয়োজন হতে পারে। তারপরেও প্রশ্ন ওঠে যে সকল চিকিৎসককে দুই বছর গ্রামে থাকতে হয়েছে, ফাউন্ডেশন ট্রেনিং নিতে হয়েছে, যারা পর্যায়ক্রমে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করার জন্য অধ্যয়নরত, তারা পাস করার পর দেখা যাবে জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ শূন্য নাই। পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে তাদের আবারও জেলা, উপজেলায় কর্মরত থাকতে হবে। 

এ সকল বিষয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিবেচনায় আনা উচিত। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংবেদনশীল, স্পর্শকাতর বিষয়গুলো ভাববে না। সবসময় বিসিএসের মাধ্যমে কত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে সে কথা ঘোষণা করা হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু কখনো বাংলাদেশের জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যানুসারে কত গ্রাজুয়েট ও পোস্ট গ্রাজুয়েট চিকিৎসক প্রয়োজন, সেটা নির্ধারণ ও সেই অনুযায়ী নিয়োগের ঘোষণা করা হয় না। প্রতিবারই বিসিএসের পূর্বে ৫০০/ ১০০০/ ২০০০/ ৫০০০ চিকিৎসক নিয়োগের ঘোষণা আসে। জনমনে প্রশ্ন জাগে, এই সংখ্যা প্রয়োজনের বিপরীতে নির্ধারিত হয়? না, কারো মনগড়া? এ বিষয়ে বিএমএর কথা বলা প্রয়োজন। 

প্রসঙ্গত, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের মাধ্যমে আরও ৪০৯ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অন্যান্য বিশেষ বিসিএসে প্রিলিমিনারি এবং ভাইভা হলেও ৪৪তম বিসিএসে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে চলতি মাসেই সার্কুলার দেওয়া হতে পারে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ পদে অনেক জনবল শূন্য। এ কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারি হাসপাতালগুলোকে। এর মধ্যে করোনাকালে সারাদেশে সিসিইউ ও আইসিইউতে রোগীর চাপ আগের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে অ্যানেস্থেসিওলজির শূন্য পদ দ্রুত পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিধিমালা সংশোধন করে গত ২৮ জুন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এ পদে নিয়োগ পেতে এ বিষয়ে পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা লাগবে। এ ছাড়া এ বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট বা ডিপ্লোমা থাকতে হবে।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি