২৬ জুন, ২০২১ ০৭:২৭ পিএম

চতুর্থ দফায় ঢাবির ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা স্থগিত, শিক্ষার্থীদের হতাশা-ক্ষোভ

চতুর্থ দফায় ঢাবির ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা স্থগিত, শিক্ষার্থীদের হতাশা-ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা চতুর্থ দফায় পিছিয়ে যাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পরীক্ষার্থীরা। তারা বলেন, করোনাভাইরাস স্বাস্থ্য সংকট হওয়ায় তা মোকাবেলায় পরীক্ষা স্থগিত না করে, বরং চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্যে এ পরিস্থিতিতেই পরীক্ষা চলমান রাখা জরুরি। অন্যথায় এ সংকট আরও তীব্র হলেও তা সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। প্রয়োজনে বিকল্প পদ্ধতিতে পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বারবার পরীক্ষা পেছানো হলে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মাশুল দিতে হবে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. আহমেদ লিংকন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে এক পোস্টে বলেন, ‘যখন কোভিড সংক্রমণ কম ছিল তখন গুটিকতক বিদেশি ছাত্রের অজুহাতে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। অপর দিকে শিক্ষার্থীরা ডাক্তার হয়ে ইন্টার্নশিপ শুরু করেছে। একবার তো পরীক্ষা শুরুর আগের দিন সেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এইভাবে ছেলেখেলা চলছে, এখন চতুর্থবার তা করা হলো। এইসব বাজে এবং ভুল সিদ্ধান্তের চরম মাশুল দিতে হচ্ছে ঢাবির মেডিকেল স্টুডেন্টদের।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে কারো কাজের জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হয় না। হে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল ফ্যাকাল্টি, তোমরা তোমাদের ছাত্রছাত্রীদের কি দিয়েছো, শুধু কয়েকটা বাতিল পরীক্ষার তারিখ ছাড়া?’

দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি এবং অপেক্ষার পরও পরীক্ষা আয়োজনে বিলম্ব হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ২০১৫-১৬ সেশনের মুর্তজা শাহরিয়ার। এক পোস্টে তিনি বলেন, যেখানে গত বছরের নভেম্বরেই প্রফ হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে এই বছরের জুন পার হয়ে যাওয়াটা বেশ হতাশাজনক। করোনা পরিস্থিতির কারণে এভাবে বারবার পরীক্ষা পেছানোর কারণে মানসিকভাবে সবাই ভেঙে পড়েছে। বিকল্প পদ্ধতিতে যদি পরীক্ষা নিয়ে নেওয়া যায় তাহলে খুব ভালো হয়।

এ প্রসঙ্গে শমরিতার মেডিকেল কলেজের মু. ফরহাদ হোসেন কায়েস বলেন, ‘বারবার পরীক্ষা পেছানোর ফলে আমার মতো অনেক শিক্ষার্থীই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। দ্রুত বিকল্প পদ্ধতিতে পরীক্ষা আয়োজনের ব্যবস্থা করার জন্যে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

রাবি ও সাস্ট অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর একই সেশনের শিক্ষার্থীরা ফাইনাল প্রফ পরীক্ষায় উত্তীণ হয়ে ইন্টার্নশিপ করার কথা জানিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের কাজী রাইয়ান হক সিনথিয়া বলেন, ‘আমরা জানি যে, মেডিকেল ২০১৩-১৪ সেশন থেকে নিউ কারিকুলাম জারি হয়েছে। তাহলে আমাদের ২০১৫-১৬ সেশনের বেলায়ও তো করা যায়, যেহেতু এই নিয়ে তিন-চারবার পরীক্ষা পেছালো। মন্ত্রণালয়ের কি উচিত না, আমাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের জন্য কোনো একটা ব্যবস্থা নেওয়া? আমাদের সাথে শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) পরীক্ষা হয়ে গেল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ওরা তো ইন্টার্ন ডক্টরই হয়ে গেল। আর আমরা? মন্ত্রণালয় কি এগুলো ভেবে দেখেছে? পরীক্ষা তো আরো শর্টকাট করে আগেই নিতে পারতো! OSPE নেওয়ার মত ফালতু যৌক্তিকতা আর নাই। আমাদের মেইন দরকার ক্লিনিক্যাল নলেজ। যেহেতু পুরো বিশ্ব এখন বাজে পরিস্থিতির শিকার, তাহলে transiently কারিকুলাম চেইঞ্জ করে তারা আমাদের ক্লিনিক্যাল এক্সাম নেওয়ার ব্যবস্থাই না হয় করতো! এত্ত তথা-কথিত প্রক্রিয়া, যেগুলার বাস্তবিক কোন আবেদনই নাই। এগুলো অনুসরণ করে লিখিত পরীক্ষা, তারপর OSPE এক্সাম নিয়ে কি হবে? ভাইভা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাই তো মূল বিষয়। অনলাইনেও আজকাল কত কি করা যায়! অথচ..., এই দেশ এত ব্যাকডেটেড কেন? করোনা পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হচ্ছে। এখন নতুন ইন্টার্ন নাই। কীভাবে হাসপাতালগুলো চলবে? যেই ইন্টার্নদেরকে জনগণ উঠতে-বসতে গাইল্লায়, উঠতে-বসতে গায়ে হাত তুলে, সেই ইন্টার্নরাই কিন্তু দিনে ১৬ ঘণ্টা ডিউটি করে রোগী ম্যানেজ করে। শুধু মিড-লেভেল ডাক্তার নিয়ে এতগুলো সরকারি হাসপাতাল কিভাবে চলবে? উনাদের উপরেও তো প্রচণ্ড চাপ পড়বে। কীভাবে জনগণ সেবা পাবে একবার ভেবে দেখেছে? এই এক লিখিত পরীক্ষা আর ওসপিই কি সব? এতদিনে কি তারা পারত না কোন বিকল্প ব্যবস্থা করতে? এত বিশ্রী আর বাজে কেন এই প্রশাসন ব্যবস্থা? শুধু শুধু সৃষ্টিকর্তাকে দোষ দিয়ে তো লাভ নাই। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে সাফ বলে দিয়েছেন, যে নিজেকে সাহায্য করে না,আল্লাহও তাকে সাহায্য করেন না। মূল কথা হলো: আমাদের প্রশাসন কোনদিন আমাদের নিজেদেরকে সাহায্য করার সুযোগটাই দেয়নি।’

শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজের তাহমিনা মিতু বলেন, ‘প্রতিবার একইভাবে পরীক্ষা পেছাচ্ছে, প্রত্যেকবারই মনে হচ্ছে যৌক্তিক কারণ। তাহলে আমরা যারা বারবার পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে আগের দিন জানতে পারছি, পরীক্ষাটা হবে না। তাদের মানসিক বিপর্যয় যে কত গভীর, তা কি যৌক্তিক নয়? ১ম, ২য়, ৩য় প্রফেশনাল পরীক্ষা হতে পারলো, তাদের সময় এত এত কারণ আসেনি। শুধু আমাদের সময়ই কেন? নভেম্বর সেশন গেল, মে’র সেশন গেল এখনও অনির্দিষ্টকালের জন্য বসে থাকছি ৷ আমাদের কি মানুষ মনে হচ্ছে না? এই পরীক্ষা পাস করলে সরাসরি মানুষের সেবার কাজে ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দিবো, সেই পরীক্ষা দিতে, নিতে এত সংকোচ কেন? চারবার প্রফের রুটিন দিয়েও প্রফ নিতে না পারাটা শুধুই কর্তৃপক্ষের অবহেলা ছাড়া আর কিছুই না। আমরা গাজীপুর আছি। গাজীপুর শাটডাউন হয়ে আছে গত সপ্তাহ থেকে। কোন গাড়ি চলাচল হচ্ছে না। পরীক্ষার জন্য সবাই হোস্টেলে অবস্থান করছিলাম, এখন আমরা বাসায়ই বা কিভাবে যাবো? এতগুলো শিক্ষার্থীর কথাও কি ভাবা হলো তাহলে?’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (কে-৭৩) ব্যাচের জাহিনুল আনাম ফায়াদ বলেন, ‘ফাইনাল প্রফ এমনিতেই একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর জন্য সব থেকে কঠিন পরীক্ষা। এই রকম একটা পরীক্ষা বারবার পেছানোতে মানসিকভাবে আমরা সবাই ভেঙে পড়েছি। যেইখানে সব প্রফ নিয়ে নিল, এই প্রফ নিয়েই কেন এত সমস্যা? আমরা ইন্টার্ন হয়ে তো করোনা নিয়েই থাকবো। তাই করোনার জন্য বারবার পরীক্ষা পেছানো একদমই যথাযথ নয়।’ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা
একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা

একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত