১৫ জুন, ২০২১ ০৭:৫১ পিএম

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হবে এফসিপিএস পরীক্ষা, ‘চূড়ান্ত’ সিদ্ধান্ত ১৯ জুন

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হবে এফসিপিএস পরীক্ষা, ‘চূড়ান্ত’ সিদ্ধান্ত ১৯ জুন
ছবি: মেডিভয়েস

মুন্নাফ রশিদ: বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) পরীক্ষা কমিটির মিটিংয়ে আগামী জুলাইয়ে এফসিপিএস সকল পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার বিষয়ে আগামী শনিবার (১৯ জুন) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিসিপিএস।

বিসিপিএসের দুইজন কাউন্সিলর মঙ্গলবার (১৫ জুন) মেডিভয়েসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ১৯ জুন কাউন্সিল মিটিং হবে। তাবে ১ জুলাইকে সামনে রেখে সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

এদিকে বিসিপিএসের ঘোষিত তারিখে পরীক্ষার বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের মাঝে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ যথা সময়ে পরীক্ষা গ্রহণের পক্ষে মত দিলেও অনেকেই আবার বিসিএস ভাইভা পরীক্ষাসহ নানা কারণে পরিবর্তিত তারিখের কথা বলছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বলেন, গত বছর যখন করোনার প্রকোপ কিছুটা কম ছিল তখন প্রায় দুই সপ্তাহের গ্যপে রেসিডেন্সি ইন্ট্রান্স টেস্ট এবং এফসিপিএস পার্ট-১ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমার মতো অনেকেই আছেন, যারা দুটিতেই বাদ পড়েছেন। যদিও এসব পরীক্ষা ডাক্তারী জীবনের অংশ হলেও অনেক বেকার ও আধা বেকার চিকিৎসকদের জন্য আশির্বাদ হয়ে এসেছে ৪২তম বিসিএস। যার ভাইভা চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত। 

তিনি বলেন, বিসিপিএস তো চিকিৎসকদেরই প্রতিষ্ঠান। তাই জুনিয়র চিকিৎসকের এই আর্থিক ও মানসিক চাপের বিষয়টি মাথায় রেখে এফসিপিএস পরীক্ষার তারিখ কোনোভাবে পেছানো যায় কিনা তা বিবেচনায় রাখা উচিত। 

অরেকজন চিকিৎসক বলেন, বিসিপিএস কোনোভাবেই বিবেচনায় আনবেন বলে মনে হয় না। আর বিসিএস, এফসিপিএস একসাথে দেওয়া লাগবে কেন? 

তিনি বলেন, বিসিএস দিতে গিয়ে এইবার যদি এফসিপিএস পাশ না করেন, তাহলে জীবনের তেমন কোন ক্ষতি হয়ে যাবে না। আর যদি দুইটাই একসাথে পাশ করতে চান, চাপ ডাবল হবে। কিছু করার নেই মেনে নিতেই হবে।

অরেকজন পরীক্ষার্থী বলেন, এভাবে বারবার জুনিয়র চিকিৎসকদের বিপদে ফেলে বা নিরুৎসাহিত করে কার কি লাভ হচ্ছে?

বিসিপিএসের কাউন্সিলর ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. রিদওয়ানুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘কারো কারো সমস্যা হবে। তবে কখনোই অল্প কিছু লোকের জন্য পুরো পরীক্ষা পেছানো যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘করোনার অবস্থা যদি খুব সিরিয়াস থাকতো তাহলে না নেওয়ার প্রশ্ন আসতো। কিন্তু আমাদের এখানে সংক্রমণ হতেই থাকছে। তাহলে কমিউনিটি রিস্কের চেয়ে যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া হয় সেখানে রিস্ক বেশি না।’

অধ্যাপক ডা. মো. রিদওয়ানুর রহমান বলেন, ‘এটি যদি করোনার শুরুতে হতো তাহলে অন্য বিষয় ছিল। কিন্তু দেড়বছর পরে এসে করেনা সম্পর্কে আমরা অনেক কিছু জেনে গিয়েছি। এজন্য পরীক্ষা চলবে।’

বিসিপিএসের কাউন্সিলর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘পরীক্ষার বিষয়ে আগামী শনিবার (১৯ জুন) কাউন্সিল সদস্যদের একটি মিটিং হবে। সেখানে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া গত পরীক্ষা কমিটির মিটিংয়ে আমরা জানিয়েছি যে, পরীক্ষার সকল কার্যক্রম ও প্রস্তুতি নেওয়া শেষ। এখন হাসপাতালগুলোর অবস্থা, পরীক্ষার কেন্দ্র ও পরীক্ষার্থীদের অবস্থা এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর এটি নির্ভর করছে।’

অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গতবছরের জুলাইয়ে আমরা পরীক্ষা নিতে পারিনি। যদিও চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরীক্ষা নিতে পেরেছি। সুতরাং দুটি চিত্রই আমাদের সামনে রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে জুলায়ের ১ তারিখকেই সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছি।’

করোনা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন যেহেতু হঠাৎ করে সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে এবং কিছু কিছু এলাকাকে লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া অনেক চিকিৎসককে এখন পুরোদমে ডিউটি করতে হচ্ছে। গতবছারের জুলাইয়ের তুলনায় এখন সংক্রমণ হার বেশি। চিকিৎসকদের দায়িত্বও বেশি। সুতরাং যেসকল চিকিৎসকবৃন্দ পরীক্ষার্থী, তারা কোথাও না কোথাও ডিউটি করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সকল এলাকা থেকে চিকিৎসকদেরকে আনা সম্ভব হবে না। ফলে সব কিছুই বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।’

চিকিৎসকদের ক্যারিয়ারের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পরীক্ষার এখনও ১৫ দিন বাকি রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এবং তারা যাতে ছয় মাস পিছিয়ে না পড়ে সে জন্য আমরা চেষ্টা করবো। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে,  তাহলে আমরা আশা করছি জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকেই পরীক্ষা শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল শিক্ষক-ফেলো-মেম্বারদের কথা চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নেবো; বৈশ্বিক অবস্থা, দেশের অবস্থা ও আমাদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করবো। আমরা এমন একটি সিদ্ধান্ত নেবো, যেটা সবার জন্য কল্যাণকর হবে। যে সিদ্ধান্তই হোক ১৯ জুনের পর জানাতো পারবো।’

প্রসঙ্গত, এফসিপিএস সকল পরীক্ষা আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হবে বলে সোমবার (১৪ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার সময়সূচী প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)।  

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ডা. মো. টিটু মিঞাঁ স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘জুলাই-২০২১ সেশনের সকল পরীক্ষা (এফসিপিএস ১ম পর্ব, এফসিপিএস ২য় পর্ব (শেষ পর্ব), প্রিলিমিনারী এফসিপিএস ২য় পর্ব, এফসিপিএস (সাব-স্পেশালিটি), এফসিপিএস মিড-টার্ম এবং এমসিপিএস লিখিত পরীক্ষা আগামী জুলাইয়ে শুরু হবে।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি