০৭ নভেম্বর, ২০১৬ ০৮:১৭ পিএম

মেয়াদোত্তীর্ণ টিকা দেয়া হলো টিউলিপের মেয়েকে

মেয়াদোত্তীর্ণ টিকা দেয়া হলো টিউলিপের মেয়েকে

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে (এনএইচএস) শিশুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি যক্ষা প্রতিষেধক বিসিজি টিকার ঘাটতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি টিউলিপ সিদ্দিক।

এনএইচএস -এ বিসিজি টিকার ঘাটতি থাকায় হাজার হাজার শিশু এই প্রতিষেধক নিতে পারছে না লন্ডনের ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকাকে উদ্বেগের কথা জানান যুক্তরাজ্যের শিশুশিক্ষা বিষয়ক এই ছায়ামন্ত্রী।

স্থানীয় সময় শুক্রবার পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এমনকি টিউলিপ সিদ্দিকের মেয়ে আজেলিয়া জয় পার্সিও এই প্রতিষেধক নিতে গেলে তাকে চিকিৎসকরা তাদের সরবরাহ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ বিসিজি টিকা অফার করেন।

তবে মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও চিকিৎসকরা ওই ভ্যাকসিনকে নিরাপদ ও কার্যকরী বলে আশ্বাস দেওয়ার পর টিউলিপ সিদ্দিক তার মেয়ের জন্যে সেটি গ্রহণ করেন বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।

ইভনিং স্ট্যান্ডার্ডকে টিউলিপ বলেন, “যখন আমার মেয়ের বয়স ছিল চার মাস, তখন আমি একটি চিঠি পাই; ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাস করি বলে তাকে প্রতিষেধক দিতে হবে। আমার হেলথ ভিজিটরও একই উপদেশ দেন।

“যখন চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করি তখন বলা হয় বিশ্বব্যাপী সরবরাহে ঘাটতি থাকায় তাদের কাছেও এই ওষুধের সরবরাহ কম, কিন্তু আমি মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যাচ থেকে একটি প্রতিষেধক নিতে পারব।”

মেয়ের জন্যে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষেধকে উদ্বেগ প্রকাশ করলে এটি নিরাপদ এমন নিশ্চয়তা দিয়ে চিকিৎসকরা তাকে চিঠি দেন বলে জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ।

৩৪ বছর বয়সী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই নাতনি গত বছর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নিউ হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে লেবার পার্টির হয়ে বিজয়ী হওয়ার পর এবছরের এপ্রিলে প্রথম মা হন।

সাতমাস বয়সী মেয়ের স্বাস্থ্য ভালো জানিয়ে লন্ডনের অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের মেয়াদোত্তীর্ণ বিসিজি টিকাও দিতে না পারায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন টিউলিপ।

তিনি বলেন, “অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের জরুরি এই প্রতিষেধক দিতে পারছেন না; তাদেরকে অন্ততপক্ষে তিন মাস অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। শিশুদের প্রথম বছরে স্বাস্থের জন্যে জরুরি এই প্রতিষেধক দেওয়া।”

লন্ডনের ৩২টি বরোর মধ্যে বর্তমানে ২৪টিতে এই বিসিজি টিকা দেওয়া হলেও সেপ্টেম্বর থেকেই এর ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয় বলে জানায় ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘাটতির কারণে হাজার হাজার শিশু এই প্রতিষেধক নিতে গিয়ে ফিরে আসছে; শুধুমাত্র যক্ষারোগের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এই ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি সরবরাহ না থাকায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে বিসিজির চাহিদা বেড়ে গেছে। একজন মা তার সন্তানকে ৩৫০ পাউন্ড দিয়ে এই প্রতিষেধক দিয়েছেন বলেও টিউলিপ বরাত দিয়ে জানানো হয়।

বিসিজি ভ্যাকসিনের ঘাটতিতে লন্ডনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় যক্ষার হার বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করে যুক্তরাজ্য সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান দেশটির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই পার্লামেন্ট সদস্য।

সৌজন্যে: বিডিনিউজ২৪.কম।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও