ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১৩ ঘন্টা আগে
০৬ নভেম্বর, ২০১৬ ১০:৩৭

অধ্যাপক‌দের শিক্ষক তিনি

অধ্যাপক‌দের শিক্ষক তিনি

ডা. মুহিব্বুর রহমান রাফি: এ‌টিই একজন জাতীয় অধ্যাপ‌কের বাসা!!!

অ‌তি সাধারণ, অনাড়ম্বর!!!

না দেখ‌লে বিশ্বাস হ‌বেনা।

আমার বন্ধুপিতা, আহসানউল্লাহ মিশন ক্যান্সার হাসপাতা‌লের সা‌বেক প্র‌জেক্ট ডি‌রেক্টর, বিখ্যাত হস‌পিটাল ম্যানেজ‌মেন্ট বি‌শেষজ্ঞ ডা: লুৎফর রহমান আ‌ঙ্কেল বেড়া‌তে নি‌য়ে‌ গি‌য়ে‌ছি‌লেন স্যা‌রের বাসায়।

সা‌থে ছিল আমার প্রিয় ক‌য়েকজন।

এতবড় একজন মানুষের বাসায় কি নি‌য়ে যাব?

সেটাও ছি‌ল একটা মহা ভাবনার বিষয়।

অ‌নেক ভে‌বে নিলাম এক ডা‌লি ফুল আর ক‌য়েকপ‌দের মি‌ষ্টি।

‌‌বৈঠকখানায় ব‌সে ভাব‌ছিলাম, যার বই প‌ড়ে ডাক্তার হলাম, তি‌নি কেমন?

রাশভা‌রি না‌কি হাস্যজ্জ্বল?

ভাবগম্ভীর না‌কি অন্তরঙ্গ?

আলা‌পি না‌কি শুধুই শ্রোতা?

অ‌নেকক্ষণ বসার পর নে‌মে এ‌লেন এক হিমালয়।

শান্ত,‌সৌম্য, অ‌তি সাধারন বে‌শের এক তারকা।

সবাই মি‌লে অ‌নেক গল্প করলাম। প্রায় দেড় ঘন্টা।

অদ্ভুত শিশুসুলভ সরলতার তীব্রতায় আ‌ন্দো‌লিত হলাম।

জ্ঞা‌নে সমৃদ্ধ হলাম। অ‌নি:‌শেষ স্নেহ আর উৎসাহ জ‌লে সিক্ত হলাম। উঠ‌তে ইচ্ছা কর‌ছিলনা।

আপ‌নি বিশ্বাস কর‌তে পারবেন না, ফেরার সময় বয়‌সের ভা‌রে ন্যুজ ৮৮ বছ‌রের মানুষটা ঘর থে‌কে বে‌রি‌য়ে গাড়ীর দরজা পর্যন্ত এ‌গি‌য়ে দি‌তে এসে‌ছি‌লেন, শত নি‌ষেধ স‌ত্ত্বেও। অতি‌থি‌দের জন্য তি‌নি সেটাই ক‌রেন।

একজন জাতীয় অধ্যাপক।

অধ্যাপক‌দের শিক্ষক।

দাঁড়ি‌য়ে ছি‌লেন; গাড়ী আ‌ঙিনা ‌থে‌কে বের হওয়া অ‌ব্দি।

স্যার ব‌লে‌ছি‌লেন, রসগোল্লা তার অসম্ভব পছন্দ।

কথাও দি‌য়ে‌ছিলাম, প‌রেরবার খাওয়াব, সে সু‌যোগ হয়‌নি।

স্যার ব‌লে‌ছি‌লেন, আবার দেখা হ‌বে, তাও আর হলনা।

স্যা‌রের বৈঠকখানায় একটা মানপত্র দে‌খে‌ছিলাম।

ঠিক যেন স্যা‌রের পো‌র্ট্রেট।

একঘন্টার সাক্ষাত, কিন্তু আজ রি‌য়ে‌লি মি‌সিং। ম‌নে হ‌চ্ছে অ‌নেক আপন কাউ‌কে হা‌রি‌য়ে‌ছি। একা নই। আজ ফেসবুক নিউজ‌ফিড তার প্র‌তি দোয়া ও ভা‌লোবাসায় সিক্ত। বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে ৮৮ বছরের কর্মময় জীবন শেষে নি‌জের গড়া সেন্ট্রাল হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না‌লিল্লা‌হি ওয়া ইন্নাইলাই‌হে রা‌জিউন।

প্রফেসর এম আর খান স্যার এ দেশে শিশু রোগ চিকিৎসার একজন পথিকৃৎ । এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিটিএমঅ্যান্ডএইচ, এমআরসিপি, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিসিএইচ, ঢাকার আই‌পি‌জিএমআর থেকে এফসিপিএস, ইংল্যান্ড থেকে এফআরসিপি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। পেনশনের টাকা দিয়ে গড়েছেন ডা. এম আর খান-আনোয়ারা ট্রাস্ট। গ‌ড়ে‌ছেন জাতীয় পর্যায়ের শিশুস্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠা করেছেন শিশুস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।গড়ে তুলেছেন সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল, যশোর শিশু হাসপাতাল, সাতক্ষীরা ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, রসুলপুর উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল, নিবেদিতা নার্সিং হোমসহ আরও বহু প্র‌তিষ্ঠা‌নের জনক এই পিতা।

স্যার!!

আল্লাহ আপনা‌কে জান্নাতবাসী করুন।

ক্ষুদ্র ত্রু‌টিগু‌লো মার্জনা করুন।

‌নিষ্পাপ শিশু ও অসহায় মানু‌ষের জন্য আপনার কৃত কাজগু‌লো‌কে স‌বোত্তম পুরষ্কা‌রের উপলক্ষ ক‌রে দিন।

 

লেখক: ডা. মুহিব্বুর রহমান রাফি, অ্যাসিসটেন্ট সার্জন। 

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত