০১ মার্চ, ২০২১ ০৯:২২ পিএম

দেশে ব্যাপক আকারে স্বাস্থ্যবীমা চালু করা প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

দেশে ব্যাপক আকারে স্বাস্থ্যবীমা চালু করা প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে ব্যাপক আকারে স্বাস্থ্যবীমা চালু করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘দেশে ব্যাপক আকারে স্বাস্থ্যবিমা চালু করা প্রয়োজন। আমাদের জনগণ সচেতন নয়, কিন্তু আমি আশা করছি, তারা কোভিড-১৯-এর পর এ ব্যাপারে সচেতন হবে।’

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) সোমবার ‘জাতীয় বীমা দিবস-২০২১’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমা একটি সেবামূলক পেশা। গ্রাহক-স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি একে জনপ্রিয় এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে।

কোম্পানিগুলোর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ যাতে সংকটকালে বিমা পলিসি খুলে সুবিধা পেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ যাতে বিমার বিষয়ে উৎসাহিত হয়, সে লক্ষ্যে তথ্য দিয়ে তাদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে।’

এবারের জাতীয় বীমা দিবসের প্রতিপাদ্য হলো: ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, বীমা হোক সবার’। স্বাধীনতার মহান রূপকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিমাকে পেশা হিসাবে নিয়ে ১৯৬০ সালের ১ মার্চ আলফা ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে যোগ দেন। এ দিনটির স্মরণে সরকার প্রতিবছর ১ মার্চ জাতীয় বীমা দিবস পালন করছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির যত বিস্তৃতি ঘটবে, বিমার গুরুত্বও তত বৃদ্ধি পাবে। আর এজন্যই জনগণের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য বীমা কোম্পানিগুলোর আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’

বিমা কোম্পানিগুলো থেকে সময়মতো অর্থ পরিশোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ যেন ক্ষতি অনুযায়ী যথাযথভাবে বীমার অর্থ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু মানুষের প্রবণতাই হচ্ছে সাজানো দুর্ঘটনার মাধ্যমে বিমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা। এ মুহূর্তে এ ধরনের প্রবণতা কমেছে বা বন্ধ হয়ে গেলেও কোম্পানিগুলোকে এ ব্যাপারে আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং দক্ষ ও উপযুক্ত লোককে তদন্ত করতে পাঠাতে হবে।’

‘জাতীয় বীমা নীতি-২০১৪’ বাস্তবায়নে সরকারের সময় উপযোগী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে ‘প্রবাসী শ্রমিক বীমা’ চালু করা হয়েছে। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কাটিতে উঠতে দরিদ্র মানুষের জন্য সীমিত আকারে শস্যবীমা চালু করা হয়েছে। 

বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমাকে একটি উলে­খযোগ্য পদক্ষেপ হিসাবে উলে­খ করে তিনি বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা মা-বাবার অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর পর এ বিমা তাদের শিক্ষাজীবনকে নির্বিঘ্ন করবে।’ বিমা খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বীমা গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘স্টেট অব দি আর্ট’ প্রযুক্তিভিত্তিক সমন্বিত মেসেজিং প্ল্যাটফরম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি’, ‘সাধারণ বীমা কর্পোরেশন’, ‘জীবন বীমা কর্পোরেশন’ এবং আইডিআরএ কার্যক্রমে অটোমেশন চালু ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ৬৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় অ্যাকটুয়ারিয়াল বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঁচ শিক্ষার্থীকে যুক্তরাজ্যে পাঠাচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু ‘বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স (জাতীয়করণ) আদেশ-১৯৭২’ জারি করে ৪৯টি দেশি-বিদেশি বিমা কোম্পানিকে জাতীয়করণ করে সুরমা, রূপসা, তিস্তা ও কর্ণফুলী নামে চারটি বিমা করপোরেশন গঠন করেছিলেন। পরে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি দেশের বিমা শিল্পের উন্নয়নের প্রয়োজনে ‘ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন আইন-১৯৭৩’ প্রণয়ন করে জীবনবিমার জন্য ‘জীবন বীমা কর্পোরেশন’ এবং নন-লাইফ বিমা সেবা প্রদানের জন্য ‘সাধারণ বীমা কর্পোরেশন’ নামে দুটি পৃথক বিমা করপোরেশন গঠন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জীবন বীমা কর্পোরেশন’ ও ‘সাধারণ বীমা কর্পোরেশন’ এখনো মানুষকে বিমা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমিও জাতির পিতাই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। 

অনুষ্ঠানে বিমা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে চার বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই চার বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এবং চার ছাত্রের মাঝে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমাও বিতরণ করেন। মোট ৫০ হাজার ছাত্রকে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা দেওয়া হচ্ছে। 

মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ‘বীমা সমিতি’-এর সভাপতি শেখ কবির হোসেন। অনুষ্ঠানে বিমা খাতের ওপর একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’, বঙ্গবন্ধু নিরাপত্তা বিমা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু স্পোর্টসম্যান’স কম্প্রিহেনসিভ ইন্সুরেন্স’ চালু করায়  ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটিকে (ডিআইআরএ) ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি