অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী

অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী

লেখক ও গবেষক

সাবেক অধ্যক্ষ, 
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

 


২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ১০:২৬ এএম

বিসিপিএসের নতুন কাউন্সিলরদের জন্য শুভকামনা

বিসিপিএসের নতুন কাউন্সিলরদের জন্য শুভকামনা
অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী। ছবি: সাহিদ

আমি সহজে ঘর থেকে বেরুই না, কিন্তু এমন সব কারণ থাকে, না বেরুলে নিজের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। 

আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) ছিল বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) নির্বাচন। যারা দাঁড়িয়েছে তাদের মধ্যে বেশির ভাগ আমার ছাত্র, স্নাতক আর স্নাতকোত্তর দুই পর্যায়ে। শিক্ষকতা শুরু ১৯৬৯, এর পর ২০০৪ পর্যন্ত সরকারি চাকরি, এরপর বেসরকারি পর্যায়ে ২০১৮ পর্যন্ত। তাই ছাত্র-ছাত্রী, নাতি ছাত্র আর ছাত্রীরা অসংখ্য। এদের সঙ্গে দেখা করা আমার এক শখ।

তাদের সঙ্গে দেখা হওয়া, কুশল বিনিময়, আদাব-সালাম, নমস্কার, অনেকে পায়ে ধরে সালাম; উপভোগ করি জীবনের গোধূলি বেলায়। দুঃখের সাথে দেখি, আমার কিছু সিনিয়ার কিছু সমসাময়িক অনেকে নাই, চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

আমি কবে যাব জানি না। সব নিয়তি তবে যতদিন বাঁচি, প্রবলভাবে বাঁচার ইচ্ছা। আমার শরীর কিছুটা দুর্বল হলেও আমার মন-মগজ আরও শাণিত।

ভোট দেওয়ার পর কিছুক্ষণ বসলাম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম)। অনেকের সঙ্গে দেখা। দেখি বিএসএমএমইউর ভিসি প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, ‘দাদা কেমন আছেন বলে একগাল হাসি।’ 

আমার পেছনে বসা বিখ্যাত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ রুহুল আমিন। ‘দাদা কেমন আছেন।’ শেষ দেখা তার সঙ্গে ক্যানাডার ক্যালগেরিতে, সেখানে ডাক্তাররা আমাকে সম্বর্ধনা দিয়েছিল ২০১৮। আর এবার দেখা হলো। সে বর্তমান কাউন্সিলর।

হটাৎ, কেমন আছেন স্যার, চিনতে পারলাম না, একজন বলল সে এখন ডিজিএমএস। অনেক উঁচু পদে। খুব খুশি হলাম।

মঞ্চে  বসে আছে যে সভাপতি খ্যাতনামা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী দীন মোহাম্মদ, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আমার ছাত্র। পাশে মহাসচিব প্রফেসর খুরশিদ আলম বর্তমান ডিজি, হেলথ। আমার খুব স্নেহভাজন। যেমন দারুণ নাম পেশায়, তেমনি সংস্কৃতিমনা সাহিত্যিক সার্জন এখন প্রশাসনেও দারুণ নাম। আর সৎ লোক আপাদমস্তক। অন্তর পরিচ্চন্ন থাকলে জগতে শ্রদ্ধা-সম্মান আসবেই।

হটাৎ দেখি, আমার পাশে প্রফেসর সায়েবা, বিখ্যাত স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ এক বিশেষ উদ্ভাবনের জন্য বিশ্ব নন্দিত। স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন। আমি গর্বিত এমন ছাত্রী পেয়ে। ইস্কাটনে একটি হাসপাতাল করেছে, সম্পূর্ণ নিখরচা। ফিস্তুলা রোগীদের জন্য। আমাদের দেশে মেয়েদের, নিম্ন বিত্ত মেয়েদের একটি দুরন্ত-দুঃসহ রোগ যে রোগের জন্য সমাজ-সংসার তাদের ত্যাগ করে, একঘরে করে এদের মুক্তির আনন্দে উদ্ভাসিত করার ব্রত সায়েবার। বললাম আমি তোমাদের মত ছাত্র-ছাত্রী পেয়ে ধন্য। নম্র সায়েবা বলে স্যার, আপনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন, বললাম আমি একদিন যাব দেখতে আমার স্ত্রীও যাবে। তোমার জীবন ধন্য। অনেক দোয়া করি।

এর পাশে আরেকজন প্রখ্যাত স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রওশন, বহুমুখী প্রতিভা তার। হটাৎ স্যার সালাম; দেখি প্রফেসর সানোয়ার, আমার স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্র। তার স্ত্রীও আমার ছাত্রী। বিখ্যাত পেশাজীবী দুজনই। অধ্যাপক সানোয়ার স্কয়ার হাসপাতালের এমডি। বিখ্যাত সার্জন। স্ত্রী প্রখ্যাত স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ।

মাথা নিচু, হটাৎ আমার সামনে সালাম স্যার। দেখি প্রফেসর টিটো মিঞা, ‘আমি টিটো’। আমার স্নাতক পর্যায়ে ছাত্র। এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল। খুব খুশি তাকে দেখে।

বাইরে প্রফেসর এ কে খন্দকার, দাঁড়িয়েছে নির্বাচনে, আপনার ছাত্র স্যার। পোস্ট গ্রাজুয়েট ক্লাস নিয়েছি। প্রফেসর এখলাসের সঙ্গে দেখা, সুজন প্রিয়জন আমার ঘনিষ্ঠ। বিখ্যাত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ আর আনোয়ার মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপ্যাল। খুব নামকরা লোক।

প্রফেসর তাহমিনা, ‘স্যর কেমন আছেন? দাঁড়িয়েছে নির্বাচনে। আমি আপনার ছাত্রী দোয়া করবেন।’ শিশু রোগ  আর মেডিকেল এডুকেশন দুটোতেই জাদরেল বিশেষজ্ঞ।

পাশেই আমার খুব প্রিয় ছাত্র অধ্যাপক এ বি এম জামাল। ঢাকা মেডিকেল কলেজে সার্জারির প্রধান, তার নিজের বিষয় আর মেডিকেল এডুকেশন দুটোতেই দারুণ এক্সপার্ট।

হটাৎ পায়ে ঢিপ করে প্রণাম, কে রে? দেখি অধ্যাপক দীপক। প্রখ্যাত চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ। দাঁড়িয়েছে  নির্বাচনে। আশীর্বাদ চাইল।

পাশে প্রফেসর শাহ আলম। এত সুদর্শন চোখ এড়িয়ে  যাওয়া যায় না। অনেক দিন আগে দেখা একই রকম আছে আর এদিকে দেশে বিদেশে স্পাইন সার্জন হিসাবে বিরাট নাম ডাক। দাঁড়িয়েছে নির্বাচনে। দোয়া  চাইলো।

পেছন দিকে কার গলা? ‘স্যার আমি শহিদুল্লাহ।’ বিখ্যাত লোক। বিএমডিসির চেয়ারম্যান। বিএসএমএমইউর প্রোভিসি আর জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান। নির্বাচনে দোয়া নিরন্তর।

ভেতরে বসে আছি। দেখি, অধ্যাপক কাদের খান সার্জারির নামকরা অধ্যাপক এখন অবসরে, প্রাকটিস কম করে বেশি সময় কাটায় বিসিপিএসে। আমার ছাত্র।

ডেন্টাল কলেজে আমার ছাত্র ছিল ডা আনোয়ার সাদাত। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ডেন্টাল খুললাম যখন তখন প্রথম ব্যাচের ছাত্র আমার। ভোটে দাঁড়িয়েছে।

প্রফেসর আবিদ হোসেন মোল্লা, বিখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ আর ভাল মানুষ বলতে যা বোঝায় আপাদ মস্তক। দাঁড়িয়েছেন, ব্রিগেডিয়ার মামুন মুস্তাফি। এর মধ্যে দেখা প্রফেসার খান আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে।

প্রফেসর রিদওয়ান দাঁড়িয়েছে। একজন বিখ্যাত চিকিৎসা গবেষক। আমি যখন প্রিন্সিপাল চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে, তখন তাদের রিসার্চ গ্রুপ ম্যালেরিয়া নিয়ে দারুণ গবেষণা করছিল, সঙ্গে প্রফেসর এম এ ফয়েজ আর প্রফেসর ইমরান বিন ইউনুস। খুব নাম হয়েছিল তাদের গবেষণার আমি এড ভাইসার হিসাবে তাদের সঙ্গে গেছি চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। প্রফেসর রিদওয়ান আমাদের পেশার এক উজ্জ্বল রত্ন।

প্রফেসর ফয়জুলের সঙ্গে দেখা। প্রফেসর সালমা রউফ। ডা. মুজিবুর রাহমান হওলাদার। দেখা হল প্রফেসর এ জেড  এম মোস্তাক হোসেন তুহিন। বিখ্যাত সার্জন। প্রফেসর তউহিদুল আলাম। বিএসএসএম উ সার্জারি প্রধান। আরেক বিখ্যাত সার্জন। প্রফেসর মো. তালেব। প্রফেসর সাইফ উদ্দিন আহমেদ, আর কত জনের সঙ্গে দেখা হলো। 

আমার বেশি আনন্দের ব্যাপারটা খুলে বলি আর গোপন রাখবো না। এরা অনেকেই আমাকে অতিক্রম করে গেছে, আর এই পরাজয়ে কি যে আনন্দ! ছেলে মেয়ে আর ছাত্র ছাত্রী, এদের কাছে হেরে কেবল আনন্দ।

ছিলাম প্রায় ৪০ মিনিটের মত। এর মধ্যে মগজ রিচার্জ করার মত রসদ জমল। আমি ফিরলাম, মনে অনেক আনন্দ নিয়ে। আরও বেশি সময় যদি থাকতাম তাহলে দেখা দেখির পরিধি অনেক বাড়ত। আক্ষেপ থেকেই গেলো।

যাহোক নির্বাচনের ফলাফল বেরিয়ে গেল। প্রফেসর এ বি এম জামাল, প্রফেসর আবিদ হোসেন মো ল্লা, প্রফেসর রিদওয়ানুর রহমান, প্রফেসর খান আবুল কালাম আজাদ, প্রফেসর কনক কান্তি বড়ুয়া, ডা. মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, প্রফেসর মোহাম্মাদ সহিদুল্লাহ, প্রফেসর তাহমিনা বেগম। ভাল। সবাইকে শুভ কামনা।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা
একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা

একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি