২৫ জানুয়ারী, ২০২১ ০৫:৪১ পিএম

চিকিৎসককে মারধর কতটা যৌক্তিক? (ভিডিওসহ)

চিকিৎসককে মারধর কতটা যৌক্তিক? (ভিডিওসহ)
ছবি: মেডিভয়েস

মুন্নাফ রশিদ: পরম মমতায় হাসপাতালের বেডে থাকা মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন একজন চিকিৎসক। চিরায়ত এমন দৃশ্য চোখ এড়ায় না হাসপাতালে আসা যে কারও। 

চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস চেষ্টায় সুস্থ হয়ে ওঠেন সাধারণ রোগী থেকে শুরু করে মৃত্যু পথযাত্রী। যেখানে রোগী এবং চিকিৎসকের সম্পর্ক অনেকটাই প্রশ্নাতীত সখানে চিকিৎসক কেন নিগ্রহের শিকার হবেন? পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর ৩০ থেকে ৪০ জন চিকিৎসক বিভিন্নভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন। অনেক সময় নিহতের ঘটনাও ঘটছে। রোগীকে সারিয়ে তোলাই যার প্রধান লক্ষ্য সেই চিকিৎসককে মারধর কতটা যৌক্তিক?

রোগীর স্বজনরা বলছেন, চিকিৎকের উপর হামলা না করাই উচিত। তাদেরকে আক্রমণ করলে তারা চিকিৎসা দেওয়া বন্ধ করে দিবে। তখন অনেক সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না পেয়ে সমস্যায় পড়তে হবে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একজন রোগীর স্বজন বলেন, চিকিৎসককে মারধর করা তো উচিত না। জীবন মরণ তো একমাত্র আল্লাহ হাতে। একজন চিকিৎসক তো সবসময় রোগীকে সুস্থ করার জন্য চেষ্টা করেন। রোগীকে মারার জন্য তো চেষ্টা করে না। 

অন্য একজন বলেন, হয়তো ভুলের কারণে ভুল চিকিৎসা হয়ে থাকে। এটাও আমাদেরকে পজিটিভভাবে দেখতে হবে। আবার চিকিৎসকদেরকে এটিও দেখতে হবে যেন কোনও ভুলত্রুটি না হয়। তার ভুলের কারণে যেন কারও জীবন না চলে যায়। এ জন্য সবাইকে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

আক্রমণের বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেক ঠুনকো কারণে কর্মস্থলে হামলার শিকার হচ্ছেন জাতির এ মেধাবী সন্তানেরা। এসব হামলায় অরক্ষিত তাদের কর্মস্থল, অনিরাপদ তাদের জীবন। 

শিক্ষানবিশ একজন চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, ডাক্তারদের উপরই শুধু এমন হামলা করে। অন্য কোনও পেশায় কোনও উল্টাপাল্টা কিছু হলে তাদেরকে কিন্তু সাহস করতে পরে না। 

অপর একজন শিক্ষানবিশ একজন চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, যত অভিজ্ঞতা যত পড়াশোনা সবকিছুই মানুষকে ভালো করার জন্য। তারপরও যদি কোনও সিরিয়াস রোগী মারা যায় তার দায় পুরোপুরি তো একজন ডাক্তারের উপর পড়ে না। আসলে জীবন মরণ তো আমাদের উপর না। 

দেশের নিবেদিতপ্রাণ এসব চিকিৎসকের উপর হামলার দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি না হওয়ায় উদ্বিগ্ন তারা। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কি?

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নজমুল হক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আইন হাতে তুলে নেওয়ার দ্বায়িত্ব বা অধিকার কারও নেই। যে যেখানে যে অপরাধ করুন সেটি আইনের দৃষ্টিতে দেখতে হবে। চিকিৎসক হোক অথবা একজন রিক্সা চালক হোক, যেই হোক না কেন কাউকে তো আমি ফিজিক্যালি অ্যাসাউল্ট করতে পারি না। সে ক্ষমতা কিন্তু আমার নেই।’

তিনি বলেন, ‘থাইল্যন্ড, মালয়েশিয়া, সিংগাপুরসহ উন্নত দেশগুলোতে তো আমরা চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা শুনি না। কারণ সেখানে যদি কেউ আইন হাতে তুলে নেয় তার একটা সঠিক বিচার হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং মানুষ ভয় পায় যে আমি আইন হাতে তুলে নিবো কিনা। যখনই কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবে তখনই যদি তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারি তাহলে আমি মনে করি চিকিৎসক নিগ্রহ কমে যাবে।’

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘যিনি চিকিৎসা দিবেন তিনি যদি ভয়ের মধ্যে থাকেন তাহলে তার মাথায় কাজ করবে না। অনেক সময় চিকিৎসক হামলার শিকার হচ্ছেন, অনেক সময় তিনি যে প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা দিচ্ছেন অর্থাৎ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুর করা হচ্ছে। যেটা খুবই অনভিপ্রেত।’

তিনি বলেন,‘অনেক সময় রোগীও বলতে পারে তারা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না। সুতরাং রোগী এবং চিকিৎসক সবারই নিরাপত্তা দরকার। সে জন্য সরকার চিকিৎসক এবং রোগী সুরক্ষা আইনের বলিষ্ঠ একটা পদক্ষেপ নিয়েছে যা প্রায় শেষ পর্যায়ে। অতি শিগ্রই এ আইনটা হয়ে গেলে আমরা এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা থেকে মুক্তি পাবো।’

তবে সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

ভিডিওটি দেখুন

 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসক লাঞ্ছিত
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি