১৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৭:২৪ পিএম

করোনায় স্বাস্থ্যসেবার মান বজায়ে শীর্ষে হংকং-সিঙ্গাপুর

করোনায় স্বাস্থ্যসেবার মান বজায়ে শীর্ষে হংকং-সিঙ্গাপুর
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারীতে থমকে গেছে বিশ্ব অর্থনীতির চাকা। একই সঙ্গে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা। কিন্তু কঠিন এই পরিস্থিতিতেও জনস্বাস্থ্য সেবার মান বজায় রেখেছে বেশ কিছু দেশ। 

এক্ষেত্রে নেতৃত্বের অবস্থানে রয়েছে এশিয়া। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশগুলোকেও রীতিমতো টেক্কা দিচ্ছে এই অঞ্চলের একাধিক দেশ। সবচেয়ে দক্ষ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে হংকং ও সিঙ্গাপুর। অর্থ-সম্পদে এগিয়ে থাকলেও এই র‌্যাঙ্কিংয়ের একেবারে তলানিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও রাশিয়া।

২০১৩ সাল থেকে গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান ও দক্ষতা যাচাইয়ের কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দ্য ব্লমবার্গ হেলথ-এফিসিয়েন্সি ইনডেক্স। কোন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা সবচেয়ে ভালো সেবা দিচ্ছে তা নির্ধারণে সেসব দেশের স্বাস্থ্যখাতের ব্যয় ও নাগরিকদের গড় আয়ু খতিয়ে দেখে সংস্থাটি। চলতি বছরের প্রতিবেদনে বিশ্বের বৃহত্তম ৫৭টি অর্থনৈতিক দেশে করোনা জনিত মৃত্যুহার ও মহামারীকালীন জিডিপির অবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে, মহামারীকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশই এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের। তবে মহামারীর পূর্বেও হংকং, সিঙ্গাপুর ও ইসরায়েলের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শীর্ষে ছিলো। এরপরই রয়েছে স্পেন, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, আয়ারল্যান্ড, জাপান, গ্রিস ও অস্ট্রেলিয়া। মহামারীকালীন স্বাস্থ্যব্যবস্থায় শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর ও হংকং। এরপরই রয়েছে তাইওয়ান, দক্ষিণ কেরিয়া, ইসরায়েল, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও জাপান।

স্বল্প গড় আয়ু, করোনাজনিত উচ্চ মৃত্যুহার ও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে তালিকার সর্বনিম্নে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র (৫৫), ব্রাজিল (৫৬) ও রাশিয়া (৫৩)। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি রয়েছে ৩৪তম, ৪১তম ও ৪৬তম স্থানে। বিশ্বের শীর্ষ জনবহুল দেশ চীন মহামারী পূর্ববর্তী স্বাস্থ্যসূচকে ২৫তম অবস্থানে থাকলেও কোভিড-১৯ প্রতিরোধী ব্যবস্থাপনার কারণে ১২তম স্থানে চলে আসে। ভাইরাসের এপিসেন্টার হলেও দেশটি সফলভাবে টেস্টিং, আইসোলেশন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করে মৃত্যুহার এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

গত সপ্তাহের (১২ ডিসেম্বর) এক রিপোর্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক পরিচালক পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেছেন, করোনা মহামারীর কারণে একটা গুরুতর সত্য প্রকাশ হয়ে পড়েছে। আর সেটা হচ্ছে, অর্থনীতির স্বাস্থ্য জনস্বাস্থ্যের ওপরই নির্ভরশীল। আর যথার্থ জনস্বাস্থ্য নির্ভর করে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যব্যয়ের ওপর। তিনি আরও বলেন, সাধারণ সময়ে স্বাস্থ্যখাতে মাত্র এক ডলার ব্যয় অর্থনীতিতে দুই থেকে চার ডলার হয়ে ফিরে আসে। উচ্চ ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে এই এক ডলার ২০ গুণ বেশি হয়ে ফিরে আসতে পারে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও