১৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৫:৪৭ পিএম
বিজয় দিবসে চিকিৎসক ভাবনা

কিছু চিকিৎসকের অবহেলায় যেন পুরো চিকিৎসক সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়

কিছু চিকিৎসকের অবহেলায় যেন পুরো চিকিৎসক সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়
অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। ফাইল ছবি

মো. মনির উদ্দিন: মহামারী করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত চিকিৎসকদের প্রণোদনা, ক্ষতিপূরণ ও ভাতা দ্রুততম সময়ে মধ্যে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। তিনি বলেন, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পরও বরাদ্দ চিকিৎসকদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না।

দেশে স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতার চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি উল্লেখ করে বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য বলেন, সীমিত সম্পদে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

আজ বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) স্বাধীনতার ৪৯তম বার্ষিকীতে বিজয় দিবসের ভাবনায় এসব কথা বলেন তিনি। 

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান আরও বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক হিসেবে আমার চাওয়া হচ্ছে দেশটা ভালো চলুক এবং সকল মানুষের মুখে হাসি লেগে থাকুক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমনটিই প্রত্যাশা করেছিলেন। আজকে আমাদের বিশেষ চাওয়া হলো, দেশের প্রতি সকল মানুষের যেন একটি অধিকার থাকে। যে লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়েছে, করোনা না আসলে আরও এগিয়ে যেতো।’ 

বিএসএমএমইউ সাবেক উপাচার্য বলেন, ‘চিকিৎসকরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গণমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিন্তা করেছেন, যেখানে সকল মানুষ চিকিৎসার অধিকার পাবেন। জনগণের চিকিৎসা ও পুষ্টির অধিকার সংবিধানে সন্নিবেশিত করে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজকে যা আমরা ভাবছি তার সবই তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন।’ 

চিকিৎসকদের যথাযথ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের ওপর অভিযোগ করে লাভ হবে না। তারা অনেক সীমাবদ্ধতায় কাজ করছেন। দেশে স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতার চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি। এটাই হলো স্বাস্থ্য খাতের বড় সমস্যা। তারপরও সীমিত সম্পদে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। আশার কথা হলো, এর মধ্যেই দেশের মেডিকেল শিক্ষা অনেক সম্প্রসারিত হয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অনেক সুযোগও বেড়েছে।’

অধ্যাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এ সময়ে বিশ্বব্যাপী করোনার সংক্রমণ চলছে। এর হার ক্রমাগতভাবে বাড়ছে, মৃত্যু হারও বাড়ছে। দেশেও দ্বিতীয় তরঙ্গ আঘাত হেনেছে। চিকিৎসকরা যেহেতু কোনো কিছু প্রত্যাশা করে না, তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করে। ইতিমধ্যে আমাদের শতাধিক চিকিৎসক করোনাযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু আমরা দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করছি, বরাদ্দ চিকিৎসকদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। আমরা আশা করবো, সংশ্লিষ্টরা যেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন করে। তরুণ যেসব চিকিৎসক মারা গেছেন তাদের পরিবার-পরিজন কষ্টে দিন যাপন করছে। এটা সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পরে। কারণ দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদেরকে আমরা শহীদ বলছি।’

বিজয় দিবসে দায়িত্বের ব্যাপারে চিকিৎসকদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একদিকে যেমন আমাদের চিকিৎসার দায়িত্ব রয়েছে, আরেক দিকে আমাদের দায়িত্ব নিয়ে আত্মসমালোচনা করতে হবে। কিছু সংখ্যক চিকিৎসকের অবহেলার জন্য যেন পুরো চিকিৎসক সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। চিকিৎসা হলো একমাত্র পেশা যেখানে প্রতিনিয়ত জনগণের পাশে থেকে কাজ করতে হয়। সব চাইতে কাছের বন্ধু হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের এড়িয়ে যেতে পারেন না। লক্ষ্য রাখতে হবে, তাদের সঙ্গে যেন আমাদের কোনো রকম দূরত্ব তৈরি না হয়। প্রয়োজনে এ ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরকে শোধরাতে হবে।’ 

একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি দুই পর্যায়ে তরুণ চিকিৎসকদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি