১৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১০:০১ পিএম

অক্সিজেনসহ বিভিন্ন পরীক্ষার মূল্য প্রদর্শনের নির্দেশ

অক্সিজেনসহ বিভিন্ন পরীক্ষার মূল্য প্রদর্শনের নির্দেশ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: অক্সিজেন সিলিন্ডার, সিলিন্ডার রিফিলিং ও হাসপাতালে অক্সিজেনের ব্যবহার খরচসহ করোনাভাইরাস রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার মূল্য নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ওই মূল্য তালিকা এখনও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

জনস্বার্থে করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ রোববার (১৩ ডিসেম্বর) এ অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা করা হয়।

আদালতে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কালীপদ মৃধা। এর উপর শুনানি করেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী বশির আহমেদ।

প্রতিবেদন দেখে আদালত বলেছে, সরকারি-বেসরকারি যেসব হাসাপতাল করোনাভাইরাসের চিকিৎসা দিচ্ছে সেসব হাসপাতালের সামনে উন্মুক্ত স্থানে নতুন এ মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে হবে।

আদেশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

যে ১০টি পরীক্ষার মূল্য নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে:

সিবিসি পরীক্ষার স্থিরমূল্য ধরা হয়েছে ৫০০ টাকা। এছাড়া সর্বনিম্ন ৪০০ ও সর্বোচ্চ মূল্য ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিআরপি পরীক্ষার স্থিরমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ টাকা। এছাড়া সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা পর‌্যন্ত।

সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষার স্থিরমূল্য ৪০০ টাকা নির্ধারণের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। এছাড়া সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ৩০০ থেকে ৬৫০ টাকা নির্ধারণের অনুমোদন চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এলএফটি নামের পরীক্ষাটির স্থিরমূল্য নির্ধারণ করেছে ১০০০ টাকা। এর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫০ থেকে ১৬০০ টাকা।

এস ইলেক্ট্রোলাইটস পরীক্ষাটির ১০০০ টাকা স্থিরমূল্যে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। আর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য চাওয়া হয়েছে ৮৫০ থেকে ১৪৫০ টাকা।

ডি. ডিমার পরীক্ষার স্থিরমূল্য ধরা হয়েছে ১৫০০ টাকা। আর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে ১১০০ থেকে ৩২০০ টাকা।

এস. ফেরিশন পরীক্ষার জন্য স্থিরমূল্য ধরা হয়েছে ১২০০ টাকা। আর এর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে ১০০০ থেকে ২২০০ টাকা।

এস. প্রোকালসিটোনিন পরীক্ষাটির স্থিরমূল্য ২০০০ টাকা ধরা হয়েছে। এর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে ১৫০০ থেকে ৪৫০০টাকা।

সিটি স্কেনের ( চেস্ট) স্থিরমূল্য চাওয়া হয়েছে ৬০০ টাকা। এর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ৫০০০ থেকে ১৩ হাজার টাকা করার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। 

চেস্ট এক্স-রের (এ্যানালগ) স্থিরমূল্য চাওয়া হয়েছে ৪০০ টাকা। আর চেস্ট এক্স-রের (ডিজিটাল) স্থিরমূল্য চাওয়া হয়েছে ৬০০ টাকা। এ দুটি এক্স-রের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য চাওয়া হয়েছে যথাক্রমে ৩০০ থেকে ৫০০ ও ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।

অক্সিজেন সিলিন্ডারের মূল্য

আর অক্সিজেন সিলিন্ডার, রিফিলিং ও ব্যবহার মূল্যে নির্ধারণ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত দুটি পরিমাণের অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

বাজারে ১ হাজার ৩৬০ লিটার বা ১ দশমিক ৩৬ কিউবিক মিটার সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৪০০ টাকা।

আর ৬ হাজার ৮০০ লিটার বা ৬ দশমিক ৮ কিউবিক মিটার সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।

অক্সিজেন রিফিলিংয়ের মূল্য

কর ও শুল্কসহ প্রতি কিউবিক মিটার অক্সিজেনের রিফিলিং মূল্য ৬৫ টাকা নির্ধারণের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে অদিদপ্তরের পক্ষ থেকে। তবে সিলিন্ডার পরিবহন ব্যয় এর বাইরে ধরা হবে।

অক্সিজেনের ব্যবহার মূল্য

অক্সিজেনের ব্যবহার মূল্য বলা হয়েছে, একক অক্সিজেন সিলিন্ডার ও মেনিফোল্ড অক্সিজেন সিলিন্ডার সিস্টেমে ২ থেকে ৫ লিটার অক্সিজেন ব্যবহার করলে একজন রোগীকে দিতে হবে ১০০ টাকা, ছয় থেকে নয় লিটারের জন্য ১২৫ টাকা এবং ১০ থেকে ১৫ লিটার ব্যবহারের জন্য ১৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

আবার সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে (জেনারেটর বেইজড) একজন রোগীর ২ থেকে ৫ লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের জন্য ১২০, ছয় থেকে নয় লিটারের জন্য ৩০০ এবং ১০ থেকে ১৫ লিটার ব্যবহারের জন্য ৩৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণের অনুমোদন চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এছাড়া সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে (লিক্যুইড অক্সিজেন ট্যাংক বেইজড) সিস্টেমে ২ থেকে ৫ লিটার অক্সিজেনের জন্য ১২০, ছয় থেকে নয় লিটার ব্যবহারের জন্য ২৫০ এবং ১০ থেকে ১৫ লিটার ব্যবহারের জন্য ৩০০ টাকা মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

আর সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম প্লাস হাইফ্লো নেজাল ক্যানুলা দিয়ে ৬০ থেকে ৮০ লিটার অক্সিজেন ব্যবহার করলে তার মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করার অনুমোদন চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ( হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) মো. ফরিদ হোসেন মিঞা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সপ্তাহ দুয়েক আগে নতুন মূল্য তালিকাটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকে সে মূল্য তালিকার অনুমোদন এখনও আমরা পাইনি।’

প্রতিবেদনে তথ্য অনুযায়ী অক্সিজেনের মূল্য নির্ধারণ ও কোভিড-১৯ সম্পর্কিত কিছু পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ বিষয়ক গত তিন সেপ্টেম্বর সভা হয়। ওই সভায় অক্সিজেনের মূল্য নির্ধারণ, অক্সিজেন রিফিলিংয়ের মূল্য নির্ধারণ, অক্সিজেন ব্যবহারের মূল্য সির্ধারণ ও কোভিড-১৯ সম্পর্কিত বিভিন্ন পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ-১৯৮২’ যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস ল’ইয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিং এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ মো. শাহ আলম ২০১৮ সালের জুলাইয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৪ জুলাই হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়।

এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছর সেপ্টেম্বরে হাইকোর্ট বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও ডায়াগোনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি (ইউজার ফি) নির্ধারণের অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেয়।

সেই সঙ্গে ১৯৮২ সালের দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস (রেগুলেশন) অধ্যাদেশের বিধান যুগোপযোগী করে নতুন আইন প্রণয়নের অগ্রগতিও জানাতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ অক্টোবর বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে।

সেদিন রিট আবেদনকারীপক্ষ হেলথ রেগুলেটরি কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে একটি সম্পূরক আবেদন করলে সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করে।

হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবায় অব্যবস্থাপনা নিয়ে রোগীদের অভিযোগ তদারকির জন্য হেলথ রেগুলেটরি কমিশন গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালকসহ (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি হাইকোর্টে শুনানির জন্য আসে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি