১১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৬:৩৯ পিএম
মুগদা মেডিকেলের নতুন অধ্যক্ষ

সীমিত সম্পদে সর্বাধিক কাজ করতে চাই

সীমিত সম্পদে সর্বাধিক কাজ করতে চাই
অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আহমেদুল কবীর। আগামী এক জানুয়ারি থেকে নতুন পদে যোগ দেবেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মেডিসিন বিভাগের এ অধ্যাপক। স্বল্প সময়ে দেশসেরার তালিকায় নাম লেখানো মুগদা মেডিকেলের অবস্থান ধরে রাখা এবং শিক্ষার ধারাবাহিক মানোন্নয়নে মেডিভেয়েসের কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তিনি। বলেছেন, কোভিড নিবেদিত মুগদা হাসপাতালে সযত্ন পরিচর্যায় করোনা রোগীদের মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনাই তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: মো. মনির উদ্দিন

মেডিভয়েস: নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তির বিষয়ে আপনার অনুভূতি চাই।

অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর: রাষ্ট্র যখন কোনো দায়িত্ব দেয়, তখন তা সততা ও নির্ভীকভাবে পালন করা আমাদের কর্তব্য। শুধু সততা থাকলেই হবে না, বরং নির্ভীক নিষ্ঠা ও গতিশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এসব মাথায় রেখে কাজ করবো, যাতে মুগদা মেডিকেল একটি মডেল হাসপাতালে পরিণত হয় এবং জনগণের চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়। এটা নিশ্চিত করা গেলে এর পথ ধরে আস্তে আস্তে এই অঙ্গনে পরিবর্তন আসবে। এ পরিবর্তনগুলো অন্যরা অনুসরণ করবে। এ চিন্তা মাথায় রেখেই কাজগুলো এগিয়ে নিতে হবে। 

চিকিৎসকরা দিতেই আসেন

এ দায়িত্বকে বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার পরামর্শের ভিত্তিতেই কাজ করতে হবে। শতভাগ নয়, প্রত্যেকে তাদের সক্ষমতার ৮০ ভাগ দিলেও অনেক ভালো ফল আনা সম্ভব। এজন্য সবাইকে একই জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। তাদের মধ্যে এই অনুভূতিটুকু জাগিয়ে তুলতে হবে যে, আমরা মানুষের জন্য কাজ করবো। কাজ না করেও কিন্তু সময় পার করা যাবে। অনেকে আসলো দুই বছর চেয়ারে বসে থেকে চলে গেলো, এটা কারো জন্যই ভালো না। মেডিকেল কলেজে যারা আসেন, তারা দিতেই আসেন। তাদের প্রাপ্তির পরিমাণ খুবই কম। মানুষ অসুস্থ হয়ে মেডিকেলে আসলে তাদের সেবা দেওয়ার মাধ্যমে প্রকারান্তরে আমরা লাভবানই হই। সেবার মাধ্যমে আমরা তাদের সহযোগিতা করছি—বিষয়টি এভাবে না ভেবে চিন্তা করতে হবে যে, মেডিকেলে যখন রোগীরা আসেন, তারা উল্টো আমাদের সহযোগিতা করেন। তাদের কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখি। এভাবে রোগীদের প্রতি সম্মানের জায়গাটা গড়ে তুলতে হবে। সীমিত সম্পদ দিয়ে কিভাবে সর্বাধিক কাজ করা যায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। 

মেডিভয়েস: মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আপনার পরিকল্পনাগুলো বলুন।

অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর: মেডিকেল কলেজের অন্যতম প্রধান কাজ হলো ভালো মানের চিকিৎসক তৈরি করা। এখানকার হাসপাতাল হলো একটি ল্যাবের মতো। ল্যাব যথাযথভাবে কার্যকর থাকলে ভালো মানের চিকিৎসক তৈরি হবে। হাসপাতালের সার্ভিস যদি ভালো না করা যায়, তাহলে চিকিৎসকদের শেখানোর পরিবেশও ঠিক হবে না। দীর্ঘ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মরত থাকার কারণে মুগদা মেডিকেল সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। সার্বিক বিষয়ে অবগত হয়ে কোন কোন জায়গায় উন্নয়ন ঘটানো যায়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবো।

ল্যাবরেটরি সচল রাখায় গুরুত্বারোপ 

কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কাজ করা। শুরুতেই দেখবো, ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন আনা যায় কিনা! এরই মধ্যে জানতে পারলাম, মুগদায় বেশ কিছু সমস্যা আছে। গত কয়েকদিন ধরে আরটি পিসিআর মেশিনটা নষ্ট। এখন তো সার্ভিসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ মুহূর্তে এটা বন্ধ রাখা যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব এগুলো ঠিক করে ফেলতে হবে। ল্যাবরেটরি সার্ভিসগুলোকে ভালো করতে হবে, যাতে যারা সেবা নিতে আসেন—মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তরাও যেন চিকিৎসা নিতে পারেন। আমরা বিশেষ করে হাসপাতালের পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করতে চাই। ল্যাবরেটরি সার্ভিসের উন্নয়ন ঘটাতে হবে, যাতে নিম্ন আয়ের মানুষের কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করতে না হয়। সরকার অনেক টাকা-পয়সা দেয়, সেটার যথাযথ ব্যবহার হলে এই বিরাট হাসপাতালে উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

মৃত্যুর সংখ্যা কমানোই মূল লক্ষ্য

আপনি কোভিড-১৯ বিষয়ক ট্রিটমেন্ট প্রটোকল কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। করোনা নিবেদিত মুগদা হাসপাতালে এ অভিজ্ঞতা কিভাবে কাজে লাগাতে চান?

এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের আত্মীয়-সজনও খুব বেশি আসতে পারেন না। রোগী ভর্তির পর তারা আমাদের কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করে বসেন। তখন তাদের দেখার কেউ নেই। এ রোগীদের যথাযথভাবে শনাক্ত করা, আক্রান্তদের সহানুভূতির সঙ্গে দেখা এবং যথাসময়ে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি। কোভিড ক্রনিক কোনো বিষয় না। তাদেরকে যথাসময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারলে একটি জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। অন্যদিকে ন্যূনতম অবহেলা থাকলেও একজন রোগী বিদায় হয়ে যাবে। সুতরাং ক্লিনিক্যাল ও ইনভেস্টিগেশনাল সহযোগিতা এবং রোগীদের সঙ্গে সহানুভূতি নিশ্চিতের মাধ্যমে মৃত্যুর সংখ্যাটা কমিয়ে আনাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।

শিক্ষার মান বজায়ে জরুরি শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা

মুগদা মেডিকেল কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বর্তমান অবস্থা ধরে রাখার বিষয়ে অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, ঢাকা মহানগরীর মধ্যে এই মেডিকেল কলেজ। সে হিসেবে এই মেডিকেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্র-শিক্ষক দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। শিক্ষার্থীরা সহজেই শিক্ষকদের সাহচর্য পেলে শেখাটা ভালো হবে। কারণ মেডিকেল শিক্ষার ধরনটাই আলাদা। অন্য জায়গায় অনলাইনে ক্লাস করে, বাসায় পড়াশোনা করে ভালো ফল করা সম্ভব। ভালো চিকিৎসক হওয়া কিন্তু হাতে-কলমের কাজ, এটি প্রায়োগিক বিষয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা অনেক বেশি। শিক্ষকরা সব সময় ছাত্রদের আদর্শ বা অনুকরণের প্রতীক। তাই শিক্ষকদের এভাবে অনুপ্রাণিত করতে হবে, যাতে তারা কিছু বিষয়ে মনোযোগী হয়, যেমন: তারা শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে তৈরি করবেন, ভালো চিকিৎসক এবং প্রায়োগিক বিষয়গুলোতে দক্ষ করে তুলবেন। পাশাপাশি আন্তরিকতা ও সময়নিষ্ঠ হওয়ার শিক্ষা দিবেন। শিক্ষক দায়িত্বশীল হলে ছাত্রও দায়িত্ববান হবে। 

আমরা বিশ্বাস করি, মুগদা মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো শিক্ষার্থী। শিক্ষক হিসেবে আমরা আমাদের দায়িত্বটুকু পালন করলেই এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : মুগদা মেডিকেল কলেজ
একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা

একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স