২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০৬:২৪ পিএম

প্রফেসর তাহির স্যার প্রফেসি অর্জন করতে পেরেছেন: ঢামেক অধ্যক্ষ

প্রফেসর তাহির স্যার প্রফেসি অর্জন করতে পেরেছেন: ঢামেক অধ্যক্ষ

বিল্লাল হোসেন রাজু: ‘প্রফেসর তাহির স্যার আমাদের একজন ফিলোসফার এবং গাইডার ছিলেন। তাঁর বুদ্ধি ছিলো অফুরন্ত। তিনি আামদেরকে বুদ্ধি দিয়ে, সাহস দিয়ে সমর্থন করেছেন। তিনি আমাদের পাশে ছায়ার মতো ছিলেন। আমি ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র ছিলাম, স্যারও ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র ছিলেন। তাঁর মধুর ব্যবহার এবং সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল অসাধারণ। স্যারের চলে যাওয়া সত্যিই অনেক বড় বেদনার।’

প্রতিথযশা চিকিৎসক ও মেডিভয়েসের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মো. তাহিরের মৃত্যুর সংবাদ শুনে মেডিভয়েসের কাছে এভাবে অনুভূতি ব্যক্ত করেন তাঁর একসময়ের ছাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ। 

প্রিয় শিক্ষকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রফেসরের প্রফেসি থাকতে হয়, এই প্রফেসি শব্দটা অত্যন্ত কঠিন। প্রফেসি ছাড়া প্রফেসর হওয়া যায় না। আমার দেখা প্রফেসর তাহির স্যার সত্যিই তাঁর জীবনে প্রফেসি অর্জন করতে পেরেছেন এবং প্রফেসির স্বার্থক প্রয়োগও করেছেন। তাকে আমরা চিরকাল শ্রদ্ধা করে যাবো, তার কথা আমরা মনে রাখবো। তাহির স্যার সবার কাছে ছিলেন একজন সত্যিকার মানুষ। তিনি সব সময় অন্যের উপকার করার জন্য প্রস্তুত থাকতেন।’

‘তিনি যখন ক্লাস নিতে সেখানেও জীবন বোধের গল্প আসতো। ঢাকা কলেজে থাকতে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের পড়ায় সব সময় জীবনের নানা আলোচনা আসতো। আমি মনে করি, জীবনবোধের আলোচনা একজন ছাত্রকে অনেক বেশি উৎসাহিত করে, পাশাপাশি সত্যিকার মানুষ হতে শেখায়। এই প্রয়োগটাও আমি তাহির স্যারের মধ্যে দেখেছি। এখন আমিও যখন ছাত্রদের ক্লাস নেই এই আলোচনাগুলো করার চেষ্টা করি। পড়ার মাঝে মাঝে একটা বিভিন্ন বিষয়ের অবতারণা করি। অন্যদিকে টেনে নিয়ে যাই। পাঠদানের এই পদ্ধতি আবু সায়ীদ স্যার এবং তাহের স্যারের কাছ থেকে শিখেছি।’

পোস্ট গ্রাজুয়েশন সময়কার স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে প্রফেসর আজাদ বলেন, ‘আমি এফসিপিএস ও এমডিতে স্যারের ছাত্র ছিলাম। আমি যখন আইপিজিএমআরে পরীক্ষা দেই, আমার লং কেইস এফসিপিএস ২য় পার্টে, সেটা স্যারের কাছে করেছি। তখন স্যার আমার লং কেইস নিয়ে আনন্দিত হয়। আর লং কেইসে তাহের স্যার ছিলেন একজন বিলেতি লোকের সাথে। আর শর্ট কেইসে কাদরি স্যার এবং শাহ মোহাম্মদ আব্দুল গাফফার স্যার ছিলেন। স্যারের কাছে লং কেইস পাস করলাম। তারপর ভাইবা দিলাম এফসিপিএস পাস করলাম। পরীক্ষার হলে স্যারের অনুভূতি এবং ছাত্রের প্রতি মমত্ববোধ ছিলো আমার জন্য শিক্ষণীয়। বিশেষ করে একজন ছাত্রকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার এবং জাজ করার ক্ষমতা ছিলো অনন্য। এ কারণেই স্যারকে আমার অসাধারণ মনে হয়েছে।’

‘স্যারের পরামর্শে ৯০ দশকে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন আমরা প্রতিষ্ঠা করি। স্যার কখনো সভাপতি হতে চাননি। তিনি আমাদের উপদেশ এবং বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তিনি নেতা না হয়েও যে কমিউনিটির জন্য কাজ করা যায়, তা দেখিয়েছেন। আমি যখন এফসিপিএস পাস করে রাষ্ট্রপতির, তাহের স্যারের কাছ থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার ছবি আমার বাসায় এখনও আমি যত্নে রেখেছি। স্যার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত দক্ষতা এবং সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কাছ থেকে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় শিখেছি। স্যার আমাদের (শিক্ষার্থীদের) নাম ধরে ডাকতেন। আমাদের খুব স্নেহ করতেন। শেষের দিকে কয়েকটা মিটিংয়ে স্যার অনেক শিক্ষণীয় বক্তব্য দিয়েছে। তিনি ধর্মীয়, বিজ্ঞান, আর্টস, দর্শন ও নৃতত্ত্বসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন, যা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমার অনেক শিক্ষকের মধ্যে তিনি ব্যতিক্রম। স্যার, বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন। আমাদের সৌভাগ্য যে, আমরা স্যারকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছি। নিশ্চিতভাবে বলতে পারি স্যার আমাদের এগিয়ে দিয়েছেন।’

‘একজন শিক্ষককে যখন কোনো ছাত্র অনুকরণ করে, তখনই ওই শিক্ষকের স্বার্থকতা। বাংলাদেশে মেডিকেল এডুকেশন, এডুকেশন পলিসি এবং ডক্টরদের অগ্রগামী করতে তাহের স্যারের যে ভূমিকা তা অনস্বীকার্য। আমি মনে করি, এমন মহৎ ব্যক্তিত্বের অধিকারী তাহেরা যেন যুগে যুগে আমাদের মাঝে আসেন, এইটাই আমাদের প্রত্যাশা’ যোগ করেন ঢামেক অধ্যক্ষ। 

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৯০ বছর।

বিএসএমএমইউর জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার মজুমদার তার মৃত্যুর বিষয়টি মেডিভয়েসকে নিশ্চিত করেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি