২৬ অক্টোবর, ২০২০ ১২:৩২ পিএম

মেডিভয়েসের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. তাহির আর নেই

মেডিভয়েসের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. তাহির আর নেই
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ তাহির। ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের প্রথিতযশা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, বিএসএমএমইউয়ের সাবেক ভিসি ও মেডিভয়েসের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. তাহির আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৯০ বছর।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, বিএমএ (বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ডা. ইহতেশামুল হক, বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষেরা। 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএসএমএমইউর জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার মজুমদার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।  

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, তাঁর লাশ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ছোটদেশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সোমবার বাদ এশা তাঁকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।  

অধ্যাপক ডা. মো. তাহির পেশাগত জীবনে সর্বশেষ দায়িত্ব পালন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে। অলঙ্কৃত করেছেন ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এর কান্ট্রি এডভাইজারের পদ। এছাড়াও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ান্স অ্যন্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দেশের কিংবদন্তি এ চিকিৎসক। 

মেডিভয়েসের কাছে স্যারের অবস্থান পিতৃতুল্য। আন্তরিক দিক-নির্দেশনা ও গভীর মমতা দিয়ে সিক্ত করেছেন মেডিভয়েসের চলার পথ। তাঁর মৃত্যুতে মেভিভয়েস পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।

চিকিৎসক সমাজে শোকের ছায়া

কিংবদন্তি চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. তাহিরের মৃত্যুতে চিকিৎসক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অধ্যাপক ডা. মো. তাহির স্যারের মৃত্যুতে আমি অত্যান্ত মর্মাহত। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। তিনি সাবলীল এবং সুন্দর আচণের অধিকারী ছিলেন। তাছাড়া তিনি শিক্ষক হিসেবে সফল একাডেমিশিয়ান ছিলেন। নিয়মিতিই পড়ালেখার চর্চা করতেন। মেডিকেল শিক্ষায় তাঁর অবদান অনন্য। বিশেষ করে বিএসএমএমইউর শিক্ষা এবং প্রশাসনিক উন্নয়নে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কৃতকর্মের জন্য আমরা তাঁকে দীর্ঘদিন মনে রাখবো। নিশ্চয়ই ওনার শিক্ষার্থীরাও তাঁকে ভুলতে পারবে না।  

অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘প্রথিতযশা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. তাহিরের মৃত্যুতে বিএসএমএমইউ পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।  বিএসএমএমইউয়ের শিক্ষা গবেষণায় অধ্যাপক ডা. মো. তাহিরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাঁর এই ভূমিকা জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।’

 

বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, ‘বিএসএমএমইউ যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন তিনি এর ডিরেক্টর ছিলেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তিনি আন্তরিকভাবে সময় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে ভূমিকা রেখেছেন।’ 

অধ্যাপক তাহিরের সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা জানিয়ে বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য বলেন, ‘তিনি একজন ভালো শিক্ষক ছিলেন, ভালো অভিভাবক ছিলেন। চিকিৎসা পেশা ও মেডিকেল শিক্ষার জন্য তাঁর বিশাল ভূমিকা রয়েছে। বিদায় লগ্নে আমি তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’

ছাত্রদের সঙ্গে তাঁর অসাধারণ সম্পর্ক ছিল উল্লেখ করে অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের জন্য তিনি আইডল ছিলেন। 

তিনি আরও বলেন, ‘অধ্যাপক ডা. মো. তাহির প্রতিটি চিকিৎসা আন্দোলনে যুক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে আন্দোলনের জন্য আমরা শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছি, সেখানেও তিনি যুক্ত ছিলেন। আর একজন পরিচালক হিসেবে তিনি আমাদের প্রতিটি কাজে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন।’ 

প্রফেসর ডা. মো. তাহিরের ছাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খান ডা. আবুল কালাম আজাদ তার প্রিয় শিক্ষকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রফেসরের প্রফেসি থাকতে হয়, এই প্রফেসি শব্দটা অত্যন্ত কঠিন। প্রফেসি ছাড়া প্রফেসর হওয়া যায় না। আমার দেখা প্রফেসর তাহির স্যার সত্যিই তাঁর জীবনে প্রফেসি অর্জন করতে পেরেছেন এবং প্রফেসির স্বার্থক প্রয়োগও করেছেন। তাকে আমরা চিরকাল শ্রদ্ধা করে যাবো, তার কথা আমরা মনে রাখবো। তাহির স্যার সবার কাছে ছিলেন একজন সত্যিকার মানুষ। তিনি সব সময় অন্যের উপকার করার জন্য প্রস্তুত থাকতেন।’

অধ্যাপক খান ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘তিনি যখন ক্লাস নিতে সেখানেও জীবন বোধের গল্প আসতো। ঢাকা কলেজে থাকতে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের পড়ায় সব সময় জীবনের নানা আলোচনা আসতো। আমি মনে করি, জীবনবোধের আলোচনা একজন ছাত্রকে অনেক বেশি উৎসাহিত করে, পাশাপাশি সত্যিকার মানুষ হতে শেখায়। এই প্রয়োগটাও আমি তাহির স্যারের মধ্যে দেখেছি। এখন আমিও যখন ছাত্রদের ক্লাস নেই এই আলোচনাগুলো করার চেষ্টা করি। পড়ার মাঝে মাঝে একটা বিভিন্ন বিষয়ের অবতারণা করি। অন্যদিকে টেনে নিয়ে যাই। পাঠদানের এই পদ্ধতি আবু সায়ীদ স্যার এবং তাহের স্যারের কাছ থেকে শিখেছি।’

 

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি