১৩ অগাস্ট, ২০২০ ১০:৪৬ এএম

কার্যকর ভ্যাকসিন এখনও তৈরি হয়নি: অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ

কার্যকর ভ্যাকসিন এখনও তৈরি হয়নি: অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন, করোনাভাইরাসের এই ক্রান্তিকালে আমরা সবাই তাকিয়ে আছি ভ্যাকসিনের আশায়। কবে তৈরি হবে সেই কার্যকরী ভ্যাকসিন। অনেক দেশই করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করলেও এখনও কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বেসরকারি একটি টেলিভিশনের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। 

এবিএম আবদুল্লাহ ভ্যাকসিন নিয়ে বলেন, মনে রাখতে হবে, যতদিন পর্যন্ত ভ্যাকসিন না আসে ততোদিন পর্যন্ত আমাদের প্রতিকার-প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কার্যত নির্দিষ্ট করে কোন ওষুধপত্র নেই। তাই মৃত্যুর ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই জনগণকে বলা উচিত, স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে আমরা যেন উদাসীন না হই। মাস্ক পড়বো, বারবার হাত ধুবো, বাইরে প্রয়োজন ছাড়া যাব না, গেলেও তাড়াতাড়ি ঘরে চলে আসবো। অন্তত মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক। মাস্ক পড়া না হলে জরিমানা করা হবে এরকম একটি বিধি জারি করা উচিত। মাস্ক পড়লে করোনা সংক্রমণ থেকে ৬০ থেকে ৮০ ভাগ পর্যন্ত বেঁচে থাকা সম্ভব। 

তিনি বলেন, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন খুবই আশাপ্রদ। এটার দুটি অ্যাফেক্টিভ ব্যাপার রয়েছে। এই ভ্যাকসিন একটা দিলে শরীরে ৯০% অ্যান্টিবডি ডেভেলবল্ড করে, আর ১০% এর জন্য দুটি ভ্যাকসিন দিতে হয়। আর এই অ্যান্টিবডির সাথে বডিতে একটি সেল দরকার, যাকে টি-সেল বলা হয়। তারা বলেছে, ১৪ দিনের মধ্যে এই টি-সেল তৈরি হয় যা বডির প্রটেকশনের জন্য দরকার। আর ২৮ দিনের মধ্যে পুরো অ্যান্টিবডি ডেভেলভ করে। সুতরাং এটা আশাপ্রদ খবর। তারা বলছে এটা অক্টোবরের মধ্যে চলে আসবে। আর যদি অক্টোবরে না আসে যদি বছরের শেষ দিকে আসে তবুও এটা আমাদের জন্য একটা ভাল খবর। মর্ডানারটি এ বছরে আসার কথা এবং চীনাদেরটিও ফাইনাল ট্রায়ালে রয়েছে। আগামী দুইএক মাসের মধ্যে বুঝতে পারবো আমরা কতটুকু কার্যকরি ভ্যাকসিন পেলাম। 

ভ্যাকসিন নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পলিসি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমরা যাতে ভ্যাকসিন পাই তার কার্যকরি পদক্ষেপ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কর্মকর্তা, ইভেন প্রশাসনে যারা আছেন তাদের এখন থেকেই নেওয়া উচিত। পৃথিবীতে যেদিনই ভ্যাকসিন আসবে দ্রুততম সময়ে আমাদের দেশে এটা যাতে পেতে পারে, আমাদের জনগণ যাতে পেতে পারে সেই ব্যবস্থা কিন্তু নেওয়া উচিত। আমি আশা করি, সরকার হয়তো বিনাপয়সায় জনগণকে দিবে বা সেই ব্যবস্থাই নিবেন।

ভ্যাকসিন সংস্থাগুলো বলছে যে, বেশি পয়সা লাগবে না সুতরাং গর্ভমেন্ট যদি এখন থেকেই কার্যকরি পদক্ষেপ নেয় তাহলে ভ্যাকসিন পাওয়াটা আমাদের জন্য অতোটা কঠিন হবে না। সহজলভ্য হবে বলে আমি মনে করি। এ ব্যাপারে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। আর এটা হওয়া উচিত। তাহলে জনগণ আশ্বস্ত হবে, মন্ত্রণালয়ের প্রতি বা প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থাও বাড়বে। এই আস্থাটা কিন্তু আমাদের ধরে রাখতে হবে। সুতরাং আমি মনে করি, এখন থেকে যেন কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আমার বিশ্বাস, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন। ওনার তো ইমেজ বিশ্বব্যাপী তৈরি হয়েছে, তিনি এখন বিশ্ব নেত্রী। যখনই ভ্যাকসিন আসবে তখন উনি যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগ নেন, তাহলে আমি মনে করি ভ্যাকসিন আমরা পেয়ে যাব। এ ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস