ঢাকা      রবিবার ১৮, অগাস্ট ২০১৯ - ৩, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

রেসিডেন্সির পূর্ব মুহুর্তের পড়া

ডা. মাহবুবুর রহমান রাফি: 

এক আপু ইনবক্স করেছেন, 
“ভাইয়া নিড হেল্প এন্ড সাজেশন। আমার এক বান্ধবী গাইনীতে দেবে, সে কোথা থেকে শুনেছে এম.এস হলেও এন্ডোক্রাইনোলজি, রেসপিরেটরি মেডিসিন, নেফ্রোলজি আর মেডিসিন পার্ট ডেভিডসন থেকে পড়তে হবে। ওর কথা শুনে ড্রউজি লাগছে, এখন কি শেষ মুহুর্তে এসব পড়া পসিবিল?”

-“আসলেই তো, আমি তাকে লাস্ট আওয়ারের বিগত সালের প্রশ্ন গুলো ফলো করতে বললাম। যদি এম.এস এ আসে, সে প্রশ্ন গুলো দেখে যাবেন। আর একটা পরামর্শ দিলাম। 
“পরীক্ষার আগে আর আনকোরা নতুন টপিক নয়, বরং পুরাতন জিনিসগুলোকেই ঝালাই করা জরুরী।” 

২০০ প্রশ্নের সব কয়টি কমন পেতে যে মানের প্রিপারেশন লাগবে, তা শেষ করার জন্য ছয় মাস-এক বছর যথেষ্ট নয়। সব কমন পেতে চাইবেন, আপনি নিশ্চিত থাকুন, আপনি কমন প্রশ্নগুলোই ভুল করে আসবেন। আর চান্স পাবার জন্য আপনাকে ১০০০ স্টিম এর সব কারেক্ট করতে হবে, সেটাওবা কে বলেছে। সব ভালো পরামর্শ শুনতে গেলে আর পরীক্ষা দেয়া লাগবেনা।

৫ বছর ধরে কাজ করছে রেসিডেন্সি আর এফসিপিএস পার্ট ১ আর পার্ট ২ নিয়ে। আস্থা রাখার কথা বললাম।
.
এমন অনেকের প্রশ্নের সারকথা; শেষ সময়ে কি পড়বেন?
----------------------------হাতে সময় আছে আর ২৩ দিন। তিন সপ্তাহ। মোটামুটি যথেষ্ট।

# সকাল,দুপুর,বিকাল আর রাত-চার বেলার রুটিন করুন।

# সবার আগে ফেসবুকে প্রদত্ত সময় কমিয়ে ফেলুন। হাবিজাবি তথ্য আর কনফিউশন তৈরি করে এমন তথ্য মাথায় ঢোকানো বন্ধ করুন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত পড়া মিনিমাম একবার রিভাইজ দিতেই হবে, রুটিন করুন।

# চান্স পাবেন না, ১০০% কনফার্ম-ই যদি হবেন, তাহলে লস প্রজেক্টে বিনিয়োগ করে লাভ কি? আর একটুখানিও আশা থাকলে; কি হবে, কি করব, পারব কিনা-এইসব আশঙ্কা, কনফিউশন, পুরাতন ব্যথা কিছু থাকলে ঝেড়ে ফেলে দিন। আপনি চান্স পাবেন, এই ভাবনা নিয়ে পড়তে বসুন।

# মক দিচ্ছেন তো? মকের ফলাফলে হতাশ হবেন না। কারণ মকের প্রশ্ন একটু কঠিনই করা হয়। এটা আপনাকে তৎপর রাখে। সাব‌জেক্ট প‌জিশন, কয়জন পরীক্ষা দি‌য়ে‌ছে, ‌টোটাল কয়জন, এই মুহু‌র্তে এসবের কোন মূল্য নেই। সাকসেস লে‌ভেল মার্কস ৬০~৬৫% এর উপ‌রে আর কনফি‌ডেন্স লে‌ভেল ৭০%। পরীক্ষায় এটা পা‌চ্ছেন কিনা, সেটা নি‌শ্চিত করুন। আর কিচ্ছু দেখার দরকার নেই।

# কোথাও মক না দিয়ে থাকলে নিজের অবস্থান যাচাই কি করে করছেন? মক না দিলে লাস্ট আওয়ার বা যেকোন প্রশ্ন সংকলন, হাতের কাছে যেটা আছে, সেটা দেখেই বিগত সালের প্রশ্নগুলোতে পরীক্ষা দিতে থাকুন।

# এতদিনে নিশ্চয়ই বিগত বছরের প্রশ্নগুলো অ্যানালাইসিস হয়ে যাবার কথা। মনে রাখবেন, প্রশ্নের জায়গাগুলো প্রায় একই, স্টিমগুলো বদল হয়ে যায়।

# কিছু কিছু জায়গা আছে, বারংবার প্রশ্ন আসে। গ্যরান্টিড। সেগুলো আয়ত্বে নিন। ওগুলো ভুল হলে মাথা কাটা যাবে। ক্লাসে বলে দেয়া ইনফিনিটি স্টার, ট্রিপল স্টার, ডাবল স্টার টপিকগুলোকেই বারবার প্র্যাকটিস করুন।

# প্রতিদিন অন্তত ৫০টি এমসিকিউ সলভ করুন, এত করে আপনার জানার গভীরতা বাড়বে, দুর্বলতা বের হতে থাকবে। গ্র্রুপে পড়লে পরস্পর প্রচুর ডিশকাশন করুন, এক অপরকে প্রশ্ন ধরুন, দেখবেন কনসেপসন ক্লিয়ার হয়ে যাচ্ছে, অনেক কনফিউশনও ক্লিয়ার যাবে।

# আবারও বলি, আপনার সাবজেক্টের বাইরে বিভিন্ন সাবজেক্টের নিজস্ব কিছু প্রশ্ন আছে; যা হয়তো আপনার এন্টেনার উপর দিয়ে যাবে আর কিছু প্রশ্ন আছে যা আপনার প্রতিপক্ষের মাথার উপর দিয়ে যাবে, সব মিলিয়ে কাটাকাটি। বিগত সনের ক্লিনিক্যাল বিষয়ের প্রশ্নগুলো ১০০% সলভ করে যাবেন।

# MDতে Davidson থেকে কতগুলি প্রশ্ন আসবে, এইটা exact number e বলা যাবে না,তবে সাধারনত ৪০/৫০ টা এর কম বা বেশি হইতে পারে,সাধারনত Davidson এর প্রতি chapter এর শুরুতে যে anatomy, physiology, Investigation and clinical examination এর কিছু কথা দেয়া আছে ওই গুলি থেকে আসে। তবে important disease থেকেও আসতে পারে,তাই এইগুলি technically ভালো ভাবে পড়তে পারলে কমন পাওয়া যেতে পারে। ক্লাসে দাগিয়ে দেয়া কোন ইনফিনিটি স্টার, ট্রিপল স্টার ছক যেন জানার বাইরে না থাকে। সেই সাথে কিছু ফ্লো চার্ট আর ছবির নিচের কথাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোও পড়া লাগবে। ক্লাসের বাইরে যাবার দরকার নেই। আর প্রিপারেশন দুর্বল থাকলে এট-লিস্ট কোর সাজেশনগুলো ফলো করুন। সার্জারী ও বেসিক ফ্যাকাল্টিও একই ভাবে ক্লাসের গাইড লাইন ফলো করুন।

# মনে রাখবেন বেসিকে যার যত দখল, মাঠের দখলও তাদের থাকবে। প্রতিযোগী যখন বেশি থাকে, কম্পিটেন্ট থাকে, তখন খেলা প্রশ্নে সীমাবদ্ধ খাকেনা, বরং স্টিম কতগুলো কারেক্ট হলো সেটাতে হয়। সহজ ও কমন প্রশ্নে কোনভাবেই ভুল করা যাবেনা-যাবেনা-একটি স্টিমও নয়।

# ফাইনাল পরীক্ষার আগের সপ্তাহে প্রিভিয়াস মক এক্সামগুলোর প্রশ্ন সলভ করতে থাকুন। উত্তম হল, না দেখে মেলান।

# প্রিপারেশনের সময় এ প্রশ্ন রেসিডেন্সিতে এসেছে বা ও প্রশ্ন নন-রেসিডেন্সিতে এসেছে , সেটি ভেদাভেদ করে পড়বেন না। তথ্য যেখানে যা আছে, পকেটে পুরতে থাকুন। কাজে লাগবেই।

# শেষ সপ্তাহের শেষ দুটি দিন, শুধু টপিক রিভাইজ করুন। আর পরীক্ষার আগের রাতে কিন্তু ১০টার মধ্যে শুয়ে পড়বেন। বেশি রাত জেগে থাকলে পরদিন তন্দ্রাচ্ছন্নতা, সব শেষ করে দিতে পারে।

# টিপস ক্লাসের কথা মনে আছে তো?ওগুলোই চলুক।

আচ্ছা যদি, এত করেও হোঁচট খাই? সেটা ভাগ্য কারণ এটা প্রতিযোগিতা। সবাইতো জয়ী হবেনা। তবে বিজয়ের জন্য আপনার জন্ম। যে ট্রেন গন্তব্যে যাবে বলে, স্টেশন ছেড়েছে, তাকে নিয়ে যেতেই হবে। আজ অথবা কাল। সে অবধি হাল ছাড়বেননা।

আর চলতে থাকুক প্রিপারেশন। 
স্বপ্ন আপনার খুব কাছাকাছি। আর সেটা সত্যে পরিণত হোক ১২ তারিখের রক্তিম সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে। 
সবার জন্য দোয়া ও শুভকামনা।

লেখক : ডা. মাহবুবুর রহমান রাফি; অ্যাসিসটেন্ট মেডিকেল সার্জন। 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর