২২ জুলাই, ২০২০ ০১:৩৮ পিএম

‘পদত্যাগপত্র গ্রহণ হলেই নিয়োগ বাতিলের আদেশ’

‘পদত্যাগপত্র গ্রহণ হলেই নিয়োগ বাতিলের আদেশ’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিসহ স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়ম নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। এবার রাষ্ট্রপতি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেই তাঁর নিয়োগ বাতিল করে আদেশ জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বুধবার (২২ জুলাই) জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘পদত্যাগপত্র এখন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলে তার নিয়োগের অবসান হবে। সেই প্রক্রিয়া চলছে।’

এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন আবুল কালাম আজাদ। তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি পদত্যাগ করেছেন। তবে আমাকে জানাননি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।’ 

আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার বিষয়টি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

কোভিড হাসপাতাল হিসেবে অনুমোদন পাওয়া রিজেন্ট হাসপাতাল এবং নমুনা সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান জেকেজির দুর্নীতি, অনিয়ম ও প্রতারণার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অধিদপ্তর জানায়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এই বক্তব্যের পর অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওই সময়সীমার শেষ দিনে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সচিবের কাছে নোটিসের লিখিত জবাব দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সমন্বয়হীনতা বিষয়টি প্রকাশ্যে রূপ নেয়।

করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সরঞ্জাম (পিপিই) সরবরাহে ব্যর্থতাসহ নানা অনিয়মে সম্পৃক্তার অভিযোগ ওঠে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। আর এসব অনিয়ম নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই পদত্যাগ করলেন তিনি।

অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হক অবসরে যাওয়ার পর ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। প্রথম পর্যায়ে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল তাঁকে আবারও দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়।

আবুল কালাম আজাদ ১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। ১৯৯০ সালে তৎকালীন আইপিজিএমআর (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে এমফিল ডিগ্রি নেন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি