২০ জুলাই, ২০২০ ০৬:১১ পিএম

এবার বিএসএমএমইউতে ভুয়া এন-৯৫ মাস্ক

এবার বিএসএমএমইউতে ভুয়া এন-৯৫ মাস্ক

মেডিভয়েস ডেস্ক: দেশে করোনা সংক্রমেণের পর থেকেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচিত হয়ে আসছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি হাসপতালে নকল এন-৯৫ মাস্কসহ নিরাপত্তা সামগ্রী ঘাটতির অভিযোগ উঠে। এবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবারহের অভিযোগ উঠেছে। 

গত শনিবার (১৮ জুলাই) হাসপাতলটিতে সরবরাহ করা এন-৯৫ মাস্কের লেবেলে বানান ভুল থাকায় এ অভিযোগ করেছন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। হাসপাতালের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে। 

সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটির চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দেওয়া এন-৯৫ মাস্কের লেবেলে দেখা গেছে হাস্যকর রকমের বানান ভুল। মাস্কের সতর্কবাণীতে লেখা আছে, ‘This respirator Protects agalnst cortein Panrticles. Misuse may result insickness ordeath. For proper use see supervisor orbox or can 3M’। এর ফলে মাস্কের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মাস্ক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থ্রি-এম। তারা তাদের পণ্যের গায়ে এমন হাস্যকর ভুলসহ লেবেল ছাপাবে, তা একেবারেই সম্ভব না। বাক্যটির মাঝে দুটি শব্দের শুরু করা হয়েছে বড় হাতের অক্ষর দিয়ে। বাক্যের মধ্যে রয়েছে চারটি ভুল বানানের শব্দ । Against কে লেখা হয়েছে agalnst, certain কে লেখা হয়েছে cortein, particles কে লেখা হয়েছে Panrticles এবং call কে লেখা হয়েছে can। এছাড়াও দুটি শব্দ মিলিয়ে ফেলা হয়েছে তিনটি জায়গায়। In sickness কে লেখা হয়েছে insickness, or death কে লেখা হয়েছে ordeath এবং or box কে লেখা হয়েছে orbox। অথচ এই পুরো লেবেলে সর্বমোট শব্দ সংখ্যা মাত্র ২৩।

হাসপাতালটিতে কর্মরত এক চিকিৎসক বলেন, ‘থ্রি-এমের তৈরি আসল এন-৯৫ মাস্কের তুলনায় সরবারহ করা মাস্ক খুবই নিম্নমানের। এটি তৈরির উপাদান ও কাঠামোও অন্যরকম, যা মানসম্মত নয়।’

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকদের মতে, এক সপ্তাহে ব্যবহার করার জন্য তাদের পাঁচটি এন-৯৫ মাস্ক দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি মাস্ক আসল মনে হলেও বেশিরভাগই সুস্পষ্টভাবেই নকল। এন-৯৫ এর মতো উচ্চমানের পণ্যের গায়ে এই জাতীয় বানান ভুল সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়কে মাস্ক ও পিপিই কেনা এবং সেগুলোর মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. জুলফিকার আহমেদ আমিন এসব পণ্য কোন প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করেছে  এবং তাতে কতো টাকা খরচ হয়েছ সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

প্রসঙ্গত, নকল মাস্ক ও ব্যাক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) দেওয়া নিয়ে গত এপ্রিলের শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এ সময় বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকরা মাস্কের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং তাদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা প্রকাশ করেন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি