০৫ জুলাই, ২০২০ ০১:০২ পিএম

চিকিৎসকদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের দাবি

চিকিৎসকদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের দাবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনকালে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা ও হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের দাবি জানিয়েছে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এসোসিয়েশন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনুকুলে আলাদা নিরাপত্তা আইন প্রণয়ণ এবং অবিভাগের কর্মকর্তাদের তা ভারসাম্যমূলক প্রয়োগের ক্ষমতা দেয়ারও জোর দাবি জানানো হয়েছে। 

টুঙ্গিপাড়ায় চিকিৎসকের ওপর রোগীর স্বজনদের হামলার ঘটনা আজ রোববার (৫ জুলাই) বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. আ. ম. সেলিম রেজা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্দেহজনক করোনা রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. অপূর্ব বিশ্বাসকে সরকারি দায়িত্বপালনরত অবস্থায় আঘাত করা হয়। রোগীর সাথে আগত কতিপয় সন্ত্রাসীদের খুনজখমের অভিপ্রায়ে কৃত আঘাত ও সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডের দ্বারা উক্ত কর্মকর্তা তার মুখমণ্ডল, মাথা ও গলায় গুরুতর আঘাত হানে।

এ সময় কর্তব্যরত নার্স, ওয়ার্ডসহ ও অন্যান্য কর্মচারীরা জরুরি চিকিৎসক কর্মকর্তাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদেরকে আঘাতের উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে। অতঃপর হামলাকারীরা জরুরি বিভাগেও ভাঙচুর করে ও সরকারি সম্পদের ক্ষতি সাধন করে এবং পুরো হাসপাতালে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। যার ফলে, অন্যান্য রোগীরাও ভীত হয়ে পালিয়ে যায় এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের চলমান রাষ্ট্রীয় সেবা বিঘ্নিত হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সরকারি হাসপাতাল একটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় চিকিৎসক কর্মকর্তাসহ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এসোসিয়েশন এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং সরকারি কর্মকর্তাকে গুরুতর আঘাতের মাধ্যমে প্রাণনাশের প্রচেষ্টা, রাষ্ট্রীয় কাজে বাধাদান, সরকারি মালামাল ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির নষ্ট ও ক্ষতিসাধনের সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২” এ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

একই সাথে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বাহিনী গঠনসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুকুলে আলাদা নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও অবিভাগের কর্মকর্তাদের তা ভারসাম্যমূলক প্রয়োগের ক্ষমতা প্রদানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, গত ৪ জুলাই (শনিবার) টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর জেরে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অপূর্ব বিশ্বাসের ওপর হামলা ও বেধড়ক মারধর করেছে রোগীর স্বজনরা।

হামলার শিকার হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. অপূর্ব বিশ্বাস বলেন, শনিবার সকালে ৭ দিনের জ্বর, কাশি, প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য করোনা উপসর্গ নিয়ে কাজী আলমগীর হোসেন (৬৫ বছর) নামে এক রোগী জরুরী বিভাগে আসেন। জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক হিসাবে আমি যথাসম্ভব দ্রুততার সাথে রোগীর রোগ বৃত্তান্ত শুনে ও অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থাপত্র দিয়ে হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে ভর্তি দিই। রোগী ভর্তির প্রায় ২৪ ঘন্টা আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল এবং তা রাতে অনেক বেড়ে যায়। ভর্তির পূর্বেই রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক জানিয়ে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হলেও তথাপি রোগীর স্বজনদের অনুরোধে তাকে ভর্তি করা হয়।

তিনি বলেন, একই সময় চোখে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অন্য এক রোগী আসেন। পূর্বোক্ত রোগীকে আন্তঃবিভাগে ভর্তি দিয়ে এই রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফারেল কাগজ প্রস্তুত করার সময় পূর্বোক্ত রোগীর ছেলে এসে জানায় রোগীর শ্বাসকষ্ট কমছে না, তখনই রোগীর কাছে আমি ছুটে যাই। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে উক্ত রোগী তখন মৃত্যুবরণ করেন। রোগীর স্বজনদের কাছে মৃত্যু ঘোষণার পর তারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আমার মুখমণ্ডল, মাথা, গলায় আঘাত করে এবং আমাকে চেপে ধরে। তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। এ সময় নার্স, ওয়ার্ডবয়সহ অন্যান্য কর্মচারীরা আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাদের উপরও হামলা করে। এ অবস্থায় অন্যান্য সাধারণ রোগীরাও ভিত-সন্ত্রস্ত হয়ে ছুটাছুটি করতে থাকে। পরে আমি প্রাণ রক্ষার্থে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।

টুংগীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ইয়ার আলী মুন্সী বলেন, শনিবার সকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে ওই রোগী টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কেরাইলকোপা গ্রামের কাজী আলমগীর হাসপাতালে আসে। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করার কার্যক্রম শুরু করি। এরই মধ্যে ওই রোগীটি সকাল ৮টার দিকে মারা যায়। রোগীর আত্মীয় গাজী তরিকুল ও তার সাথে আসা ৩/৪ জন লোক কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অপূর্ব বিশ্বাসকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ডাক্তারকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সকল চিকিৎসকের মতামত সত্বেও করোনা কালীন সময়ে চিকিৎসা সেবা ব্যহত করে আমরা কোনো কর্মসূচি না দিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি এএফএম নাসিম জানান, চিকিৎসকের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। চিকিৎসকের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসকের ওপর হামলা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি