১১ জুন, ২০২০ ১১:৪৪ এএম

করোনায় বেশি আক্রান্ত নন-কোভিডের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা, ক্ষতিপূরণের দাবি

করোনায় বেশি আক্রান্ত নন-কোভিডের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা, ক্ষতিপূরণের দাবি

বিল্লাল হোসেন রাজু: করোনা যুদ্ধে সামনের সারিতে থাকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে মারা যাওয়া প্রথম চিকিৎসক মঈন উদ্দীন। 

এদিকে গত ২৩ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সরাসরি চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি চাকরিজীবী যাঁরা নিজেরা আক্রান্ত হবেন বা মারা যাবেন, তাঁদের জন্য গ্রেড অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা প্রণোদনা দিতে সরকার একটি পরিপত্র প্রকাশ করেছে। 

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিস-এফডিএসআরের তথ্য অনুযায়ী দেশে এখন পর্যন্ত এ রোগ আক্রান্ত হয়ে ১৮ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৭ জন চিকিৎসক। এদের মধ্যে বেশির ভাগই চিকিৎসক সাধারণ রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। 

কিন্তু সরকারের ঘোষিত পরিপত্র অনুযায়ী, সাধারণ রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত ও মৃত চিকিৎসকরা এ ক্ষতিপূরণের আওতায় আসবে না। শুধু মাত্র সরাসরি করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত এবং মৃত চিকিৎসকদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবেন। 

সরকারের এমন পরিপত্রে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক। তারা বলছেন, সাধারণ রোগীদের সেবা দিতে গিয়েও অনেক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন মারাও গেছেন। তাছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র সহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে সেবা দিতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছে। 

আমরা যেহেতু সাধারণ রোগীদের সেবার সাথে যুক্ত। প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে অনেক সহকর্মী। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত সাধারণ রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে যারা আক্রান্ত এবং মৃত্যু বরণ করবেন, তাদের সবাইকে ঘোষিত ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার দাবিও জানান তারা। 

শিক্ষাকালীন ছুটিতে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, ‘আমি শিক্ষা ছুটিতে আছি। কোর্সের অংশ হিসেবে হাসপাতালে ডিউটি করতে গিয়ে আমি করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। শুধু আমি নই, আমার পরিচিত ডেপুটেশনে থাকা অনেক চিকিৎসকই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আমরাও ক্ষতিপূরণের আওতায় আসার দাবি রাখি। স্বাস্থ্য সংকটেই আমরা সেবা দিতে চাই । সেবাই আমাদের ব্রত। ’

আরেক চিকিৎসক বলেন, ‘সরকারের অন্যান্য সংস্থার লোকজন আক্রান্ত বা মারা গেলে ক্ষতিপূরণ পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এরকম ইঙ্গিতই ছিলো। তাদের বেলায় কোভিড কিংবা নন-কোভিড কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার শর্ত করা হয়নি। কিন্তু রোগীদের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত চিকিৎসকদের মধ্যে পার্থক্যের দেয়াল দাঁড় করানো কতটা যৌক্তিক? এমন হলে প্রজাতন্ত্রের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো এই ফ্রন্টলাইনাররা স্বাস্থ্য সেবা দিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন। করোনা পরিস্থিতিতে এ প্রণোদনা বা ক্ষতিপূরণের প্রথম আওয়াজ তো স্বাস্থ্যকর্মীরাই করেছিলেন। অথচ তারাই এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’      

এ ব্যপারে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বিভিন্ন হাসপাতালের নন-কোভিড অংশে অনেক কোভিড রোগী আসছে। তাদের দ্বারা চিকিৎসকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক সময় চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী জানতে পারছেন না কোন রোগী কোভিড কিংবা কোন রোগী কোভিড না। তাহলে কোভিড হাসপাতাল বা নন-কোভিড হাসপাতালে কর্মরতদের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নাই। বরং কোভিডের চেয়ে নন-কোভিড হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া চিকিৎসকদের করোনায় আক্রান্তের হার বেশি। তারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন। সকল স্বাস্থ্যকর্মীই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। তবে তহবিলের বিষয়ে রাষ্ট্রের তো একটি সীমাবদ্ধতা আছে।’ 

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মোঃ হাবিবুর রহমান খান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘যারা সরকারি কোভিড হাসপাতালে সেবা দিচ্ছে তারা এর আওতায় আসবে। তাছাড়া ক্ষতিপূরণের আওতায় কারা আসবেন, তা পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে আমার বলার কিছু নেই।’

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি