০৯ অক্টোবর, ২০১৬ ১০:৫৬ পিএম
ফৌজদারহাট মেডিকেল ভিলেজ নাকি চমেক ক্যাম্পাসে

কোথায় হচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ?

কোথায় হচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ?

সিনিয়র রির্পোটার : চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় হবে তা নিয়ে জটিলতা এখনো কাটেনি । সেটা কি ফৌজদারহাট মেডিকেল ভিলেজ নাকি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ক্যাম্পাসে  সেটা এখনো পরিষ্কার নয় । তবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন শুক্রবার (০৭ অক্টোবর) ফৌজদারহাটে বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, চমেক ক্যাম্পাসে হচ্ছে না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

গত ১৫ জুলাই গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলী-স্থপতিদের নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে নির্ধারিত জায়গা পরিদর্শন করেছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তখন তিনি ক্যাম্পাসের হিলটপ এরিয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়টি করা হলে দৃষ্টিনন্দন হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু আগামী ৫০ - ১০০ বছরের কথা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি চমেক ক্যাম্পাসে হলে বর্তমানের ১৩১৩ বেডের হাসপাতালটির সম্প্রসারণ, নতুন নতুন বিভাগ খোলা, তীব্র যানজট সৃষ্টির আশঙ্কা, হাসপাতাল ও কলেজের শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ফৌজদারহাটের নিরিবিলি পরিবেশে বড় এলাকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মন্ত্রী গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে ফৌজদারহাট মেডিকেল ভিলেজে পৌঁছান। এ সময় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. প্রাণগোপাল দত্ত, স্বাচিপের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি, বিএমএর কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শেখ শফিউল আজম, বক্ষব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ, ট্রপিকেল মেডিসিন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. নারায়ণ চন্দ্র দাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী দুপুর ১২টার দিকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে মেডিকেল ভিলেজ থেকে বেরিয়ে যান।   

ডা. শেখ শফিউল আজমে একটি অনলাইন পত্রিকাকে বলেন, ”চমেক ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়টি হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনা থেকে ফৌজদারহাট মেডিকেল ভিলেজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তান আমলে কেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গহিন পাহাড়ে করা হয়েছিল উপলব্ধি করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। সাময়িক সুবিধার জন্যে চমেক ও চট্টগ্রাম বিভাগের শেষ ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত বিশাল হাসপাতালটির সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে গলা টিপে হত্যা করা যায় না। তদুপরি যানজট, পড়াশোনা-গবেষণার পরিবেশ ইত্যাদি বিবেচনায় নিলে ফৌজদারহাটই আদর্শ। এখানে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে বিশাল ক্যাম্পাস নিয়ে। একদিকে সমুদ্র, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ খালি জায়গা যা সহজেই অধিগ্রহণ করা যাবে প্রয়োজন বুঝে।”

তিনি  আরো ‍জানান, মন্ত্রী ফৌজদারহাট এলাকাটি পছন্দ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে। খুব সম্ভব চমেক ও ফৌজদারহাট দুটি সম্ভাব্য স্থানের মধ্যে যেটি বেশি উপযোগী, দীর্ঘমেয়াদে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে। সেটি সংবাদ সম্মেলন করেই মন্ত্রী ঘোষণা দেবেন। 

ডা. শফিউল বলেন, মন্ত্রী মহোদয় ভাবছেন যদি সুযোগ থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়টি না হয় তবে ২০-৩০ বছর পর মানুষ তার সমালোচনা করবে। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি অনেক আগেই মন্ত্রণালয়, সংসদে পাস হয়েছে। কিন্তু স্থান নির্ধারণ না হওয়ায় নির্মাণকাজ শুরু করা যাচ্ছে না।   

উল্লেখ্য, মন্ত্রী মহোদয় প্রয়োজনীয় ডিজাইন, লে আউট তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলী ও স্থপতিদের।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার প্রতিবেদনে সুপারিশ

রোগী থেকে সরাসরি টাকা গ্রহণ নয়, চিকিৎসক হবেন বেতনভুক্ত কর্মচারী

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি