১৩ মে, ২০২০ ০৫:৪৪ পিএম

করোনা: গবেষণা ছাড়াই ৫ ওষুধের অন্তর্ভুক্তি বিপজ্জনক, দাবি বিশেষজ্ঞদের

করোনা: গবেষণা ছাড়াই ৫ ওষুধের অন্তর্ভুক্তি বিপজ্জনক, দাবি বিশেষজ্ঞদের

মেডিভয়েস ডেস্ক: পর্যাপ্ত গবেষণা ছাড়াই জাতীয় গাইডলাইনে করোনা চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, রেমডিসিভিরসহ ৫টি ওষুধের অন্তর্ভুক্তি বিভ্রান্তি ও শঙ্কা বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের দাবি, সুপারিশকৃত ৩টি ওষুধ ব্যবহারে কি ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখো দিতে পারে সে ব্যাপারেও কোন ব্যাখ্যা নেই জাতীয় গাইডলাইনে। এ অবস্থায় শুধুমাত্র বিভিন্ন দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে মর্মে একের পর এক এসব ওষুধ তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (১৩ মে) সময় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শক্তিশালী গবেষণা ছাড়াই শুধুমাত্র বিভিন্ন দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে এই যুক্তিতে একের পর এক ওষুধ তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। মহামারীর এই সময়ে এ ধরনের ওষুধ ব্যক্তিগত উদ্যোগ বা স্বল্প পরিসরে চিকিৎসকরা ব্যবহার করতে পারলেও গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত না করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। করোনা চিকিৎসায় বিশ্বজুড়ে অর্ধশতাধিক ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা চলছে। গবেষণাধীন ওষুধের সবগুলোই অন্য রোগের ওষুধ হিসেবে অনুমোদিত বলেও জনিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান খসরু বলেন, চিকিৎসক হিসেবে রোগীর উপকারের জন্য আমি ওষুধগুলো ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু সে জন্য যে গবেষণা ও হাসপাতালের সুপারিশ থাকা দরকার তা অনেক শক্তিশালী থাকতে হয়। এই ওষুধগুলোর তার কোনটিই নেই।

মেডিসিন ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, রেমডিসিভির নামক ওষুধ নিয়ে ইদানিং অনেক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে কয়েকটি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এর উৎপাদন শুরু করেছে। সরকার এর ইমার্জেন্সি ব্যবহারের জন্য অনুমোদনও দিয়েছে। তবে এর ফলাফল পর্যবেক্ষণে দেখা যায় তা সব সময় কার্যকর নয় । তাই এটি ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় গাইডলাইনে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও ক্লোরোকুইন এই তিনটি ওষুধের সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন হার্টে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে জানিয়ে হাইড্রোক্সিক্লোকুইনের বিষয়ে সতর্ক করলেও বাংলাদেশের গাইডলাইনে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। এছাড়াও অপর্যাপ্ত ও দুর্বল গবেষণার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় গাইডলাইনে আরো ৫টি ওষুধ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যেটি কোনোভাবেই বিজ্ঞানসম্মত নয় বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এশিয়া প্যাসিফিক লীগ অব অ্যাসোসিয়েশন ফর রিউমাটোলজির অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল ইসলাম বলেন, আক্রান্ত রোগীর জন্য এখন পর্যন্ত কোনো ওষুধই সম্পূর্ণ সফল বলে প্রমাণিত হয়নি। সুতরাং সেই ওষুধ ব্যবহারে সুপারিশ করার কোন সুযোগ এখনই আমাদের নেই।

গবেষণা ছাড়া তালিকাভুক্ত এসব ওষুধ ব্যবহারের ফলে রোগীদের শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

তবে করোনা চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকদের ধারণা দিতেই এসব ওষুধ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটি সদস্য অধ্যাপক ডা. রিদওয়ানউর রহমান বলেন, চিকিৎসকরা যদি রোগীর অবস্থা অনুযায়ী এসব ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনুবভ করেন তবে তারা তা ব্যবহার করতে পারেন। তাদের জন্য এটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে ছিড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। সারাবিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ছড়িয়েছে ৪২ লাখের বেশি। করোনাভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর প্রতিষেধক না থাকায় নানা ধরণের লক্ষণভিত্তিক ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ওষুধ কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলেও অনেকে দাবী করছেন। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি