অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওহাব মিনার

অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওহাব মিনার

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সাহিত্যিক


০৪ মে, ২০২০ ০১:৩১ পিএম

সবার প্রিয় হেমাটোলজিস্ট মুনির স্যার

সবার প্রিয় হেমাটোলজিস্ট মুনির স্যার

এমনভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়া শুরু হল যা সত্যি হতাশার সৃষ্টি করে৷ একি মহাবিপদ আমাদের সামনে -যার হাত থেকে পরিত্রান নেই৷ ডা. মঈন ছিল পরিচিত একজন তারপর গতকাল করোনায় আক্রান্ত হয়ে আমার পরিচিত দ্বিতীয় ডাক্তার মারা গেলেন কর্নেল মুনির স্যার৷ কতশত বিশেষণ স্যারের নামের আগে দেয়া যাবে কিন্তু স্যারকে কি আর পাব?

শহীদ বাশার রোডের ১২৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের চারতলায় স্যার থাকতেন, আমি নিচতলায় ৷ আর্মড ফোর্সেস ইন্সটিটিউট অব প্যাথলজির (এফআইপি) তিনি ছিলেন এডজুট্যান্ট ৷ সদা হাস্যময় পরোপকারী স্মার্ট অফিসার ছিলেন মুনির স্যার৷

মুনাদির স্ট্যাটাসে স্যারের মৃত্যু সংবাদ চোখ পড়তেই একাকী কিছুক্ষন ঝিম মেরে বসে থাকলাম ৷ ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন লিখতেই কোন ড্রাইভ পেলাম না ৷ শুধু চোখের সামনে ঢাকা সেনানিবাসের পরিচিত জায়গা গুলোতে স্যারের সাথে সাখ্যাতের মুহূর্তগুলোর দৃশ্য ভেসে উঠছে ৷

মেডিকেলে ভাইভার আগে সিরিয়ালি একজনের পর একজন ডাক পড়তো আর অসহায়ের চেহারা নিয়ে হাজির হতাম ৷ এই মৃত্যু সংবাদটি আমাকে সেই মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিল৷ আমি স্থির থাকতে পারছিলাম না৷ তারাবীহ নামাজের জন্য প্রুস্তুতি নিতে বললাম৷ চারজনের নামাজের ইমামতি করতে গিয়ে শরীর ও মনে শ্লথতা, হাজার মনের ওজন টের পেলাম ৷

ব্রিগেডিয়ার মুহিব আমার জুনিয়র বন্ধু, হেমাটোলজিস্ট - যার সাথে আমার মনের কথাগুলো বলার দীর্ঘদিনের অভ্যাস৷ কিছুক্ষণ কথা বললাম আর কনফার্ম হলাম এটা করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ছাড়া কিছু না৷ স্যারের নাকি জ্বর ছিল কয়েকদিন ধরে৷ মুহিব কিছুক্ষণ করোনাভাইরাসের বিজার চরিত্রের এটিপিক্যাল প্যাথলজিকাল প্রসেসের কথা বললো৷

সেবাহিনীতে যারা মুনির স্যারকে চেনেন তাদের জন্য খুব কষ্টের এই দিন, এই মৃত্যু মেনে নেয়া দুস্কর৷

আমি মুহিবের সাথে এই বলে কথা শেষ করলাম - হিল ট্রাক্টসে জ্বর হলেই আমরা ম্যালেরিয়া ধরে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করতাম যতক্ষণে চিটাগং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে গিয়ে অন্যকিছু প্রমাণিত না হতো৷ আজ জ্বর, কাশি, শ্বাস কষ্ট অন্য কারণে হলেও তাতে প্যানিক না হয়ে করোনা ধরে নিয়েই সতর্কতা অবলম্বন করা, টেস্ট করা, পজিটিভ হলে করোনার চিকিৎসা করা হবে বুদ্ধিমানের কাজ৷

এই সকালেও আমি ঝুঁকি নিয়ে দু'জন রোগী দেখলাম৷ যাদের দেখছি তারা না বুঝলেও তাদের স্ত্রী ও বাবা জানেন কতটুকু উপকার তাদের হয়েছে৷ ক্লিনিকেও ভর্তি নিচ্ছি৷ কিছুই করার নেই৷ রোগীরা অসহায়, তার চেয়েও বেশি অসহায় আমি৷ কারণ, একদিকে ডাক্তার, ম্যানেজার, ওয়ার্ড বয়দের অতিসতর্ক শুকনো মুখের বারণ অন্যদিকে দূর থেকে আগত সাইকোটিক রোগীদের অভিভাবকদের আকুতি, রিপিটেড অনুরোধ - আমি সত্যি অসহায়৷

আল্লাহকে সহায় ভেবে আমি ভর্তি নেয়ার জন্য বলে দিয়ে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হই আর হাসপাতাল ত্যাগ করি৷ বারবার তাই মনে করি - সতর্কতার কাছে কখনো মানবিকতার যেন না হয় পরাজয়৷

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত