০১ মে, ২০২০ ০৮:৫২ পিএম

৩৯ এর সুপারিশকৃত চিকিৎসকরা কি ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্স চালিয়ে যেতে পারবেন?

৩৯ এর সুপারিশকৃত চিকিৎসকরা কি ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্স চালিয়ে যেতে পারবেন?

বিল্লাল হোসেন রাজু: দেশে চলমান করোনা সংকটে বীরের ভূমিকায় চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কিন্তু এমন খুশির সংবাদেও সুপারিশপ্রাপ্ত অনেক চিকিৎসকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। যারা কিনা এর আগে বিভিন্ন ডিপ্লোমা ও এমফিল কোর্সে চান্স পেয়েছিলেন। 

তাদেরই একজন একজন ডা. কমল রায়। যিনি রংপুর মেডিকেল কলেজে ডি-কার্ডে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। এবার জরুরি চিকিৎসক নিয়োগেও সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। মেডিভয়েসকে চিকিৎসক ডা. কমল রায় বলেন, আমি নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। এটা অনেক বড় সংবাদ। দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ হলো। কিন্তু কয়েকদিন পরে তো ডি-কার্ডে ভর্তির নোটিশ দিবে। তখন ভর্তি পক্রিয়াটা কিভাবে হবে, ভর্তি হতে পারবো কিনা তাও বেশ চিন্তায় আছি। 

পিএসসির ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩৯তম বিশেষ বিসিএস থেকে পদ স্বল্পতার কারণে যারা ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হননি, এমন আট হাজার ১০৭ জনের মধ্য থেকে রাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজনে দুই হাজার জনকে সাময়িক সুপারিশ করা হয়েছে। সরকার এবং পিএসসি উভয়ই মনে করছেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে দ্রুততার সঙ্গে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হলে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের অপেক্ষমাণদের থেকেই দিতে হবে। অন্যদিকে নতুন পরীক্ষার আয়োজন করতে হলে তাতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

শুধু ডা. কমল নন, তাঁর মতো অনেক তরুণ চিকিৎসক এমন বিপাকে পড়েছেন। যারা কিনা বিভিন্ন ডিপ্লোমা ও এমফিল কোর্সে সুযোগ পেয়েছিলেন।

কমল রায়সহ সুপারিশপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন চিকিৎসক বলেন, ‘সেবা আমাদের লক্ষ্য। দেশের এই স্বাস্থ্য সংকটে সর্বোচ্চ শ্রম দিতে আমরা প্রস্তুত। তবে পরর্বতীতে আমাদেরকে যেন কোর্স কন্টিনিউ করার সুযোগ দেওয়া হয়। এইটা আমাদের একমাত্র দাবি।’

এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘জাতির এই সংকটের সময়ে সেবা দিতে যেসব তরুণ চিকিৎসকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, আমি একজন শিক্ষক হিসেবে অবশ্যই চাইবো আমার ছাত্ররা যাতে ফিরে এসে তাদের কোর্স কন্টিনিউ করতে পারে। তারা কোর্সের যেখান থেকে গিয়েছে, আবার এসে ঠিক সেখান থেকেই শুরু করবে। তবে সব কিছুর উপরে এখন জরুরি হলো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’ 

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রো-ভিসি প্রফেসর ডা. সাহানা আখতার রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার যেহেতু চিকিৎসকদের জরুরি নিয়োগ দিচ্ছে, তাই খুব দ্রুতই তাদেরকে কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। তাছাড়া এখন সেবা দেওয়াটাই জরুরি। সুপারিশকৃতদের মধ্যে যারা ডিপ্লোমা কোর্সে আগে চান্স পেয়েছিল তারা এখন দেশের এ জরুরি মুহূর্তে স্বাস্থ্যসেবা দিবেন। আশা করি রেসিডেন্সি কোর্সের চিকিৎসকদের মতো পরর্বতীতে তাদেরকেও কোর্স কন্টিনিউ করার সুযোগ দেওয়া হবে।’

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি